প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
শেরপুরে কোরবানির হাট কাপাঁবে ‘বাংলার ডন’
নিউজ ডেস্ক ||
প্রতিবছর কোরবানির ঈদ ঘিরে বড় বড় গরু নিয়ে মানুষের আগ্রহ দেখা যায়। এ বছর শেরপুর জেলার মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ‘বাংলার ডন’ নামের ৩৩ মণ ওজনের ফ্রিজিয়ান জাতের বিশালাকৃতির একটি ষাঁড় গরু নিয়ে। প্রতিদিন খামারে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন গরুটি এক নজর দেখতে ও ছবি তুলতে । কোরবানির হাটে ওঠার আগেই ‘বাংলার ডন’ এখন শেরপুরজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাপাশিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার আলিফ লাম এগ্রোতে তিন বছর ধরে যত্নে-আদরে লালন-পালন করা হচ্ছে ‘বাংলার ডন’-কে। খামার সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী শাহজাহান আলীর মালিকানাধীন ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৩৩ মণ। গরুটির দৈর্ঘ্য ১১ ফুট এবং উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি। বিশাল গড়নের কারণে খামারে আসা দর্শনার্থীদের বেশিরভাগই প্রথম দেখায় বিস্মিত হয়ে পড়ছেন।খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘বাংলার ডন’-এর পরিচর্যায় নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। প্রতিদিন প্রায় ৮০ কেজি ঘাস ও খড় খাওয়ানো হয় তাকে। পাশাপাশি দিতে হয় প্রায় ২০ কেজি খৈল, ভুষি ও ভুট্টার গুঁড়া। শুধু খাবার নয়, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যের দিকেও রাখা হচ্ছে বাড়তি নজর। দিনে তিন থেকে চারবার গোসল করানো হয় ষাঁড়টিকে। এছাড়া নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণও করা হচ্ছে।আলিফ লাম এগ্রোর ম্যানেজার রফিক মিয়া বলেন, আমাদের খামারে এবার কোরবানির জন্য অনেক গরু প্রস্তুত আছে। তবে ‘বাংলার ডন’-এর মতো আর একটিও নেই। এই গরুটি এবার পুরো শেরপুর কাঁপাবে। কেজি হিসেবে বিক্রি করলেও এর দাম প্রায় ১৫ লাখ টাকা হতে পারে। আমাদের খামারে ২৫ থেকে ২৮ মণের আরও ৮ থেকে ১০টি বড় গরু রয়েছে। এছাড়া মোট শতাধিক গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ‘বাংলার ডন’কে ঘিরেই।খামারের শ্রমিক হাবিব জানান, এত বড় গরু পালন করা সহজ নয়। নিয়মিত পরিচর্যা, খাবার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য আলাদা শ্রম দিতে হয়। আমরা পরিবারের সদস্যের মতো করেই বাংলার ডনের যত্ন নিই। মালিক আমাদের খুব ভালোভাবে দেখভাল করেন। তাই আমরাও তার গরুগুলোর প্রতি আন্তরিক। অন্যসব গরুর চেয়ে বাংলার ডনের প্রতি আমাদের আলাদা মায়া কাজ করে।বিশাল আকৃতির গরুটি দেখতে আশপাশের উপজেলা ছাড়াও দূরবর্তী এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসছেন। ঝিনাইগাতী থেকে গরুটি দেখতে আসা রুবেল বলেন, এর আগে এত বড় গরু কখনও কাছ থেকে দেখিনি। শুধু এক নজর দেখার জন্যই এখানে এসেছি। সত্যিই অবাক হওয়ার মতো একটি গরু। এমন গরু পালনের ইচ্ছাও জাগছে।শেরপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেজুয়ানুল হক ভূইয়া বলেন, গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের সুফল হিসেবে বর্তমানে দেশে ফ্রিজিয়ান ও শাহিওয়াল জাতের অনেক বড় গরু উৎপাদন হচ্ছে। শেরপুরের খামারিরাও এখন বাণিজ্যিকভাবে বড় গরু প্রস্তুত করতে সক্ষম হয়েছেন।, উন্নত জাতের গবাদিপশু পালনে খামারিদের আগ্রহ বাড়ায় জেলায় বড় আকৃতির গরুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আসন্ন কোরবানির হাটে শেরপুরের বড় গরুগুলো ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে বলে আমরা আশা করছি। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে, যাতে গরুগুলো সুস্থ ও নিরাপদভাবে বাজারজাত করা যায়।
সম্পাদক : এস এ শাহরিয়ার মিল্টন
মাহফুজা প্লাজা, ৫মতলা, শেরপুর শহর , শেরপুর।
প্রয়োজনে : ০১৭১১৬৬৪২১৭ । মেইল : hellosherpurtimes@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত