প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রতিদিনের এই একটি অভ্যাসেই বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি
নিউজ ডেস্ক ||
বয়সকালে হার্ট অ্যাটাকের সমস্যা হয় এই ধারণা এখন ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বাইরে থেকে দেখতে একদম ফিট লাগে এমন মানুষও হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক করে প্রাণ হারাচ্ছেন। হার্টের অসুখ এখন কমবয়সীদেরও কাবু করছে। তা নিয়েই উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে চিকিৎসকমহলে। কেন অল্প বয়সেও হৃদরোগের প্রবণতা বাড়ছে কেন? এটা নিয়েও তৈরি হচ্ছে প্রশ্ন। ধূমপান, মদ্যপান, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মতো অভ্যাসই এর জন্য দায়ী। এছাড়া এসবের জেরে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা। ফলে বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি।তবে কেবল এসব কারণ নয়, রোজকার একটি এক সাধারণ অভ্যাসই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে পারে। এমনটাই মত চিকিৎসকদের। তাদের মতে, হার্ট ভালো রাখতে সঠিক ডায়েট, ধূমপান ছাড়ার দিকে মনোনিবেশ করেন অনেকে। তবে চোখের আড়ালে থেকে যায় একটি সাধারণ অভ্যাস। এটি হলো একটানা একইভাবে বসে থাকা, কায়িক শ্রমহীন যাপন।বর্তমানে কাজের ধরনে বদল এসেছে। অনেক পেশাতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা বসে কাজ করতে হয়। মাথা ঘামিয়ে কাজ করতে হলেও, বেশিরভাগ পেশাতেই কায়িক শ্রম তেমন থাকে না। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথের গবেষণা অনুযায়ী, দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে থাকা, শরীরচর্চার অভাব বাড়িয়ে দেয় হৃদরোগের ঝুঁকি। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, অনেকেই শরীরচর্চা দূরের কথা, নিয়মিত হাঁটাহাঁটিও করেন না। তার ওপর দীর্ঘক্ষণ বসে বা শুয়ে থাকাতেই বিপদ আরও বাড়ে। কারণ, একটানা বসে থাকলে অঙ্গ সঞ্চালন হয় না, শরীরে রক্ত সরবরাহ কমে যায়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকে, হৃৎপিণ্ডে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা বাড়ায় হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, যেসব মানুষ একদমই শরীরচর্চা করেন না, তাদের রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি অন্তত ২০-৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। কায়িক শ্রম না করার ফলে ওজন বাড়তে থাকে। স্থূলত্ব, হাইপারটেনশন হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ে। হার্ট ভালো রাখতে প্রত্যেককে যে জিমেই ছুটতে হবে এমন নয়। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকেও একটু সময় বের করে হাঁটাহাঁটি করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। মিনিট পাঁচেক সময় বের করে অফিসের কাজের ফাঁকেই কয়েকটি স্কোয়াট (পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে চেয়ারে বসার ভঙ্গিমা) করলেও শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। একটানা বসে কাজ করলে মাঝেমধ্যে হাত-পা টান টান করে নিতে পারেন বা সুযোগমতো স্ট্রেচিং করতে পারেন।প্রতি ৩০ থেকে ৬০ মিনিট অন্তর মিনিট পাঁচেক হেঁটে নিন। এতে শরীর ভালো থাকবে। রক্ত সঞ্চালন ঠিক থাকবে। কাজের সময় ফোনে কথা বলায় সময় পায়চারি করে কথা বলতে পারেন।খাওয়ার পরে একটু হাঁটুন। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে, খাবারও দ্রুত হজম হয়। খাওয়ার পরে অন্তত মিনিট পাঁচেক পায়চারি করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
সম্পাদক : এস এ শাহরিয়ার মিল্টন
মাহফুজা প্লাজা, ৫মতলা, শেরপুর শহর , শেরপুর।
প্রয়োজনে : ০১৭১১৬৬৪২১৭ । মেইল : hellosherpurtimes@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত