প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
শেরপুর জেলা বিএনপির কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা
স্টাফ রিপোর্টার ||
দলীয় কোন্দল ও নানা জটিলতায় দু-দফা আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পরও শেরপুর জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা যায়নি। কমিটি না থাকায় শেরপুর জেলা বিএনপি এখন কার্যত অভিভাবকশূন্য। ফলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।সবশেষ ২০১৮ সালে শেরপুর জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছিল। সে সময় মাহমুদুল হক রুবেলকে সভাপতি ও মো. হজরত আলীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। গ্রুপিং সংক্রান্ত নানা অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে সেই কমিটি বাতিল করা হয়। ওই সময় হজরত আলীকে আহ্বায়ক ও অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। পরবর্তীতে দুই মাসের মাথায় সেই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।২০২৫ সালের জুনে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামকে আহ্বায়ক ও মামুনুর রশীদ পলাশকে সদস্য সচিব করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি সেই কমিটিও স্থগিত করা হয়। প্রায় সাড়ে চার মাস ধরে জেলা বিএনপির পদগুলো শূন্য।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা জামায়াত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। নেতাকর্মীদের মতে, দলীয় কোন্দল ও নেতৃত্বশূন্যতাই পরাজয়ের মূল কারণ। সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, “কমিটি না থাকায় নেতাকর্মীরা ছন্নছাড়া। দ্রুত জেলা কমিটি প্রয়োজন।” কৃষক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম গোল্ডেন বলেন, “শক্তিশালী জেলা কমিটি ছাড়া দলীয় কার্যক্রম স্থবির।” শেরপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নছি উদ্দিন নছি জানান, কোন্দলের প্রভাব আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা দেখা দিচ্ছে।শেরপুর জেলা সদরে বিএনপির বিভিন্ন কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হযরত আলীর নেতৃত্বে এক অংশ পালন করে। অন্যদিকে শেরপুর-৩ আসনের সাংসদ মাহমুদুল হক রুবেল পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করেন। যুবদল,স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ সংগঠনের কর্মসূচিও শেরপুর জেলা শহরে পৃথকভাবে পালিত হয়। গত ৬ জুন কেন্দ্রীয় যুবদলের কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে যুবদলের তিন গ্রুপ পৃথক মিছিল-সমাবেশ করে।দলীয় কোন্দলের কথা স্বীকার করে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মামুনুর রশীদ পলাশ বলেন, “বিগত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা দলকে এগিয়ে নিয়েছেন, তাদের অনেকেই মূল্যায়নের অপেক্ষায়। ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা বাড়ছে।” শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাংসদ মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, “স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় দ্রুত কমিটি গঠন করা হলে দলীয় শৃঙ্খলা ফিরবে।”
সম্পাদক : এস এ শাহরিয়ার মিল্টন
মাহফুজা প্লাজা, ৫মতলা, শেরপুর শহর , শেরপুর।
প্রয়োজনে : ০১৭১১৬৬৪২১৭ । মেইল : hellosherpurtimes@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত