প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
গারো পাহাড়ে অভিযান চললেও থামছে না অবৈধ বালু উত্তোলন
জাহিদুল হক মনির , স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইগাতি ||
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের নদী, ঝরণা ও বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন ও বন বিভাগের অভিযান সত্ত্বেও প্রভাবশালী একটি চক্র দিনে ও রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে পাহাড়ি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বনাঞ্চল হুমকির মুখে পড়ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের বনরানী, দরবেশতলা, মালিটিলা ও হালচাটি এলাকাসহ গারো পাহাড়ের বিভিন্ন স্থান থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস পান না।মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে সরেজমিনে কাংশা ইউনিয়নের দরবেশতলা এলাকায় কালঘোষা নদী থেকে কমপক্ষে ১০জনকে বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়। এছাড়া বনরানী এলাকার একটি পাহাড়ি ঝরণা থেকেও দুই-তিনজনকে বালু উত্তোলনে ব্যস্ত দেখা যায়। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দ্রুত সরে যান।স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের কারণে কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আবারও বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে।পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার’ (সোয়ান)-এর সভাপতি মো. নাইম ইসলাম বলেন, গারো পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তার আলী অভিযোগ করে বলেন, এভাবে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন হওয়ার পেছনে বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নীরব ভূমিকা থাকতে পারে। না হলে দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চলতে পারত না।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বন বিভাগের গজনী বিট কর্মকর্তা মো. সালেহীন নেওয়াজ খান। তিনি বলেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এ কাজে জড়িত নন। অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।তিনি আরও জানান, গত সোমবার ভোরে গজনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু পরিবহনের সময় মাহিন্দ্র ট্রাক্টরচালিত ছয়টি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পাওয়া মাত্রই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও কারাদণ্ড, কোথাও অর্থদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। ড্রেজার মেশিন জব্দ ও পাইপলাইন ধ্বংস করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।এদিকে স্থানীয়দের দাবি, গারো পাহাড়ের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সম্পাদক : এস এ শাহরিয়ার মিল্টন
মাহফুজা প্লাজা, ৫মতলা, শেরপুর শহর , শেরপুর।
প্রয়োজনে : ০১৭১১৬৬৪২১৭ । মেইল : hellosherpurtimes@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত