প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
শেরপুরে জনসমর্থন পেতে ৩ শতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থীর দৌড়ঝাঁপ
স্টাফ রিপোর্টার ||
আগামী অক্টোবর মাস থেকে সরকার সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করেছে । এ নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রামে-গঞ্জে বইছে ভোটের হাওয়া। অন্যান্য জেলার মতো শেরপুরেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ জেলার ৫২টি ইউনিয়নে ৩ শতাধিক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রচারে মাঠে নেমেছেন। এছাড়া সাধারণ ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার মিলিয়ে সম্ভাব্য পাঁচ হাজার জন প্রার্থী হতে কাজ করছেন। তাদের কেউ আগাম শুভেচ্ছা বার্তা দিচ্ছেন, উঠান বৈঠক করছেন, কেউ বা জনসংযোগে ব্যস্ত। অনেকেই পোস্টার-ব্যানার সাঁটিয়ে এবং স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনসমর্থন পেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।শেরপুরের সদর উপজেলায় ইউনিয়ন রয়েছে ১৪টি, নকলায় ৯টি, নালিতাবাড়ীতে ১২টি, ঝিনাইগাতীতে ৭টি ও শ্রীবরদীতে ১০টি। এসব ইউনিয়নে ৫ থেকে ৭ জন প্রার্থী হতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। বেশির ভাগ ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ার জন্য কাজ করছেন। তবে প্রতিটি ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামী একজন করে প্রার্থী দিচ্ছে।সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে কাজ করছেন বুলবুল আহমেদ। তিনি বলেন, আমি একসময় ছাত্রদল করলেও আগামী নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নিজেকে উপস্থাপন করছি। এই ইউনিয়নে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের ভোটব্যাংক থাকায় গত ১৭ বছর এখানে তেমন উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। তাই আমি নির্বাচিত হলে এই ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব।নালিতাবাড়ীর নন্নী ই ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান রিটন বলেন, দীর্ঘদিন পর জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ায় স্থানীয়রা আশায় বুক বেঁধেছেন যে, এবার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।ঝিনাইগাতীর নলকুড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদ (মেম্বার) প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, এই ওয়ার্ডটা ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ি জনপদের সীমান্তঘেঁষা। এখানে নাগরিক সুবিধা বলতে কিছুই নেই। নেই রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎসহ অনেক কিছুই। আমি নির্বাচিত হলে সবার আগে নাগরিক সুবিধা প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।শ্রীবরদী উপজেলার গোসাইপুর ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী মিজানুর রহমান বলেন, আমাকে ১১ দলীয় জোট থেকে একক প্রার্থী করা হয়েছে। আমি বিজয়ী হলে ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ গড়ব।শেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা মামুনুর রশিদ পলাশ এবং শেরপুর শহর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান বলেন, ইউপি নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও প্রতি ইউনিয়নে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীকে দল থেকে সমর্থন দেওয়া হবে। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত না মানলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য আব্দুল আউয়াল চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ইউনিয়নে দল কাউকে চূড়ান্ত সমর্থন দেয়নি। তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থী বাছাই শুরু হবে।জেলা জামায়াতের সূত্রে জানা যায়, ৫২ ইউনিয়নের মধ্যে ইতোমধ্যে ২৮টিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি ১৮টিতে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের আমির হাফেজ উদ্দিন বলেন, আমরা তৃণমূলের সব নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নিয়ে ফেলেছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থিতাও চূড়ান্ত করেছি। তবে তফসিল হলে মাঠে দলীয়ভাবে কাজ শুরু করা হবে। তবে এবার কোনো ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীকে জনসংযোগ অথবা নির্বাচনের মাঠে দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া এনসিপিসহ কয়েকটি দল প্রার্থী বাছাই নিয়ে চিন্তা করছে বলে জানা গেছে। তবে অনেকেই স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ইসি থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠিপত্র না পেলেও জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর প্রাথমিক পরিদর্শন কাজ শুরু করেছি। ইসি থেকে চিঠি পেলে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
সম্পাদক : এস এ শাহরিয়ার মিল্টন
মাহফুজা প্লাজা, ৫মতলা, শেরপুর শহর , শেরপুর।
প্রয়োজনে : ০১৭১১৬৬৪২১৭ । মেইল : hellosherpurtimes@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত