প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
ট্রাইব্যুনালে নিজের ফাঁসি চাইলেন লতিফ সিদ্দিকী
নিউজ ডেস্ক ||
২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে দুপুর ১টার দিকে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। শুনানিতে তিনি বলেন, এ মামলায় পরোয়ানা মূলে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এখন পর্যন্ত আসামিপক্ষ থেকে কোনো আবেদন করা হয়নি। অতএব তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছি।শুনানি শেষে আবেদনটি মঞ্জুর করে লতিফ সিদ্দিকীকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।এর আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার লতিফ সিদ্দিকীকে গত বুধবার রাতে গুলশান থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ১৩ বছর আগে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধেরর মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।এছাড়া আসামিদের মধ্যে পলাতক ৩১ জনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পলাতকদের মধ্যে ছিলেন লতিফ সিদ্দিকী।একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ঠিক করেছেন আদালত। পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে থাকা ১০ আসামিকে ওইদিন ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুনানি শেষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ভণ্ডুল করতে এবং সমাবেশস্থল থেকে নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিতে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিকল্পনা করা হয়। পরে র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে নিরস্ত্র সমাবেশকারীদের ওপর শক্তি প্রয়োগ করা হয়। ঘটনার আগে আওয়ামী লীগের তৎকালীন শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।’তিনি আরও বলেন, ‘ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয় এবং সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, এ ঘটনায় ৬১ জন নিহত হওয়ার তথ্য তারা তদন্তে পেয়েছেন এবং লতিফ সিদ্দিকীকে পরিকল্পনা, উসকানি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্পৃক্তদের একজন হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।’লতিফ সিদ্দিকীর ভূমিকা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে মিজানুল ইসলাম বলেন, বৈঠকে তিনি একজন অংশগ্রহণকারী ছিলেন। বৈঠকের সব আলোচনা তদন্তে পাওয়া সম্ভব না হলেও সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এবং তার পরবর্তী কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতেই তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।ফাঁসির দাবি লতিফ সিদ্দিকীরএদিকে, শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ওকালতনামায় স্বাক্ষরের জন্য আদালতের অনুমতি চান আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া। একইসঙ্গে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় কথা বলার জন্য আবেদন করেন। তাদের আবেদন দুটিই মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল।ঠিক তখনই ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় থাকা চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান লতিফ সিদ্দিকী। এ সময় হাতে মাইক নিয়ে বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মহামান্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ এভাবে একে একে চারবার বলতে থাকেন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে বিচারকাজ সমাপ্ত হয়ে যায়।এক পর্যায়ে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘হায়রে হায় এই যদি হয় আদালত, তাহলে আমি কোথায় যাবো।’ তখন তাকে মাইক রেখে হাজতখানায় নেওয়ার জন্য এগিয়ে আসেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু তিনি কিছুটা উত্তেজিত হয়ে যান। এমনকি পুলিশ সদস্যরা বসতে বললে লতিফ সিদ্দিকী কিছুটা উচ্চস্বরে বলে ওঠেন, ‘আমি বসে থাকবো নাকি দাঁড়িয়ে থাকবো সেটা আমার বিষয়। তোমরা বলার কে।’এরপর তিনি বলতে থাকেন, ‘আদালতকে বলতে চাইলাম ফাঁসি দিয়ে দেন। আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু আদালত শুনতে চাইল না।’ আর এসব বলতে বলতেই এজলাসকক্ষ ছাড়েন লতিফ সিদ্দিকী। তবে এদিন তার সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের কিছুটা বাকবিতণ্ডা হতে দেখা যায়।কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্যবড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে একই মাইক্রোতে করে ট্রাইব্যুনালে আসেন কাদের সিদ্দিকী। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকেদের তিনি বলেন, ‘নিষ্পাপ একজন মানুষকে অন্যায়ভাবে আসামি করায় প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আদালতে প্রত্যেক অভিযুক্ত কথা বলতে পারেন। এটা তার অধিকার। লতিফ সিদ্দিকীও তেমন কথাই বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমি মনে করি সম্মানী ব্যক্তিদের সম্মান দেওয়া উচিত।’লতিফ সিদ্দিকীর অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বয়স ৮৭ বছর হয়ে গেছে। এখন যদি কোনো অপরাধের দায়ে (যা তিনি করেননি) তার ফাঁসি হয়, তাহলে আমরা সাদরে গ্রহণ করব। কারণ আল্লাহ তায়ালা তাকে তখন মুক্তি দেবেন।শাপলা চত্বরে গণহত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে লতিফ সিদ্দিকীকে আসামি করা হয়েছে, এমন প্রশ্নে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘পরিকল্পনাকারী বলা যায় না। কারণ তিনি ‘কিচেন কেবিনেটেও’ ছিলেন না। তিনি তখন পাটমন্ত্রী ছিলেন। পাট নিয়ে হত্যা চলে না। ওই সময় আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার কাছে কিছু ঘটনা নিয়ে বিতর্কিত ছিলেন তিনি।’এ সময় তিনি হাতকড়াকে নববধূর চুড়ির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে কোনো কথা বলার নেই। এটা সরকার বুঝবে। আমাদের হাতে বহুবার হাতকড়া পড়েছে। আমরা খুব খারাপ কিছু মনে করি না। বিয়ের সময় মেয়ের হাতে চুড়ি যেমন দেওয়া হয়, আমরা তেমনই মনে করি।’
সম্পাদক : এস এ শাহরিয়ার মিল্টন
মাহফুজা প্লাজা, ৫মতলা, শেরপুর শহর , শেরপুর।
প্রয়োজনে : ০১৭১১৬৬৪২১৭ । মেইল : hellosherpurtimes@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত