প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
হাসপাতালে বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নোভিদ পেল জিপিএ-৫
ফজলে এলাহী মাকাম , স্টাফ রিপোর্টার ||
মা চলে গেছেন বছরখানেক আগে। এসএসসি পরীক্ষার মাঝেই বাবাকেও হারায় মেধাবী শিক্ষার্থী সাদিক হোসেন নোভিদ। তবে বাবার মৃত্যুর খবর গোপন রেখেই তাকে পরীক্ষার কেন্দ্রে পাঠানো হয়। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে জানতে পারে, ‘বাবাও আর নেই।’ মায়ের পর বাবাকে শেষবারের মতো দেখে বিদায় জানিয়ে বুকভরা শোক নিয়ে আবারও বসতে হয় পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। সেই কঠিন সময়কে জয় করে বাবা-মা হারা নোভিদ এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।নোভিদ জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের পলিশা গ্রামের প্রয়াত শিক্ষক দম্পতি সুজাউদ্দিন সুজা ও কামরুন্নাহার এলিনার একমাত্র ছেলে। বাবা সুজাউদ্দিন সুজা পলিশা উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক এবং মা কামরুন্নাহার এলিনা মেলান্দহের চরসগুনা এস এম মোখলেছুর রহমান লাভলু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। এক বছর আগে অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান নোভিদের মা।মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে বাবাকেও হারায় নোভিদ। সে জামালপুরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।গত ১৯ মে রাতে স্ট্রোকজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন নোভিদের বাবা সুজাউদ্দিন সুজা। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ২০ মে নোভিদের জীববিজ্ঞান পরীক্ষার দিন সকাল ৮টার দিকে মারা যান সুজাউদ্দিন সুজা।ছেলের পরীক্ষা যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য পরিবারের সদস্যরা নোভিদকে বাবার মৃত্যুর খবর জানাননি। এমনকি মৃত্যুর প্রায় দুই ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি প্রকাশ করা হয়, যাতে নোভিদ কোনোভাবে বিষয়টি জানতে না পারে।জীববিজ্ঞান পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পর নোভিদ জানতে পারে, তার বাবা আর পৃথিবীতে নেই। বাবার জানাজা ও দাফন শেষে শেষ বিদায় জানিয়ে আবারও পড়াশোনায় মন দেয় সে। বুকের ভেতর বাবা-মা হারানোর গভীর কষ্ট নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করে নোভিদ।নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে নোভিদ বলে, বাবা-মা বেঁচে থাকলে আমার ফলাফল দেখে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। সবাই আমার বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন আমার বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারি, আমার জন্যও দোয়া করবেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, নোভিদের জিপিএ-৫ অর্জনের খবর অত্যন্ত আনন্দের। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে থাকবে। তার উচ্চশিক্ষার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।
সম্পাদক : এস এ শাহরিয়ার মিল্টন
মাহফুজা প্লাজা, ৫মতলা, শেরপুর শহর , শেরপুর।
প্রয়োজনে : ০১৭১১৬৬৪২১৭ । মেইল : hellosherpurtimes@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত