প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
শ্রীবরদীতে নারীর মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উন্মোচন করলো পিবিআই
স্টাফ রিপোর্টার ||
শেরপুরের শ্রীবরদীতে ব্রিজের নিচে ড্রামের মধ্যে থাকা ঝিনুক আক্তার (২৬) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই শেরপুর। পিবিআই এর দাবি, অনৈতিক কাজের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনা আড়াল করতেই প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে মরদেহ ফেলে রেখে যায় খুনীরা। ১ নভেম্বর রবিবার দুপুরে শহরের গৃর্দানারায়ণপুর এলাকাস্থ পিবিআই অফিসে এসব তথ্য জানান পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত পিপিএম।গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কুশিয়ারা গ্রামের মাহবুবা আক্তার ফাতেমা (৪৪), পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার দিঘলগ্রামের মো. নুর ইসলাম বাবু (৪৪), জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বাঘমারা শিশুয়া গ্রামের মো. সজল (৪৪) ও শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা গ্রামের নুর মোহাম্মদ গোসা (৪৪)।পিবিআই এর পুলিশ সুপার জানান, গত ২২ অক্টোবর শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনীয়া এলাকার কুড়েমনি খালের নিচে ভাসমান ড্রামের মধ্যে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার শাকিল মিয়ার মেয়ে ঝিনুক আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ঝিনুকের ফুফু শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে ঝিনুকের স্বামী মো. সাইফুল ইসলাম মুন্নাসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে শ্রীবরদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।এরপর থানা পুলিশের পাশাপাশি মামলাটি ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই। পরবর্তীতে তদন্তভার সরাসরি পিবিআই এর পরিদর্শক মো. মাহবুবুর রহমানকে দেওয়া হয়। তদন্তে উঠে আসে, ঝিনুক আক্তার গত ২১ অক্টোবর হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মাহবুবা আক্তার ফাতেমা, নূর মোহাম্মদ গোসা, সজল ও নূর ইসলামের সাথে ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার আব্দুস সাত্তারের ভাড়াটিয়া জুয়েলে কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে ১০/১২ জনের সাথে দৈহিক সম্পর্কের পর চলে যাওয়ার সময় তাকে ১২০০ টাকা দেয় ফাতেমা। তবে ঝিনুক আরও বেশি টাকা দাবি করলে এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ফাতেমা তাকে বটি দিয়ে উপুর্যপরি কোপ শুরু করে। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ঝিনুকের মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামিরা। এরপর অন্যান্য আসামিরা ঝিনুকের মরদেহ প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে অজ্ঞাত গাড়িতে ভরে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনীয়া ব্রিজের নিচে ফেলে যায়। তদন্তের এক পর্যায়ে ঘটনার সাথে জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে পিবিআই। ইতোমধ্যে মো, নুর ইসলাম বাবু শেরপুরের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে।পংকজ দত্ত আরও জানান, এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। অনৈতিক কাজের টাকার ভাগাভাগি নিয়েই হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হয়। মামলার ঘটনার পর হতেই পিবিআই শেরপুরের সকল সদস্য একটি টিম হিসেবে কাজ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনা পুনরায় প্রমাণ করে যে, অপরাধীরা যতই চেষ্টা করুক, অপরাধ কখনো চাপা থাকে না।
সম্পাদক : এস এ শাহরিয়ার মিল্টন
মাহফুজা প্লাজা, ৫মতলা, শেরপুর শহর , শেরপুর।
প্রয়োজনে : ০১৭১১৬৬৪২১৭ । মেইল : hellosherpurtimes@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত