প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কবিরাজি ফাঁদে কিশোরী, ৬৬ লাখ টাকার স্বর্ণ-নগদ হাতিয়ে নেয় চক্র
নিউজ ডেস্ক ||
শেরপুরে ‘কবিরাজি চিকিৎসা’র নামে ভয়ংকর প্রতারণার শিকার হয়েছে ১৩ বছরের এক স্কুলছাত্রী। বাবা-মায়ের ভালোবাসা ফিরে পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে প্রায় ৬৬ লাখ টাকা সমমূল্যের স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয় একটি প্রতারক চক্র। পরে পিবিআইয়ের অভিযানে মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।এ ঘটনায় শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় মামলা নাম্বার ৪২ যা গত ১৭ মার্চ ২০২৬ একরা হয় যার ধারা: ৪২০/৪০৬ পেনাল কোড দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বাবা কাপড় ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমান।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শেরপুর সরকারি গার্লস স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী লুবাবা (১৩) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাবা-মায়ের ভালোবাসা আরও বেশি পাওয়ার উপায় সংক্রান্ত ভিডিও দেখতে গিয়ে ‘খুরশেদ কবিরাজ’ নামধারী এক প্রতারকের সঙ্গে পরিচিত হয়। পরে ইমু অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ করে কিশোরীর মানসিক দুর্বলতাকে কাজে লাগায় চক্রটি।প্রতারকরা ‘কবিরাজি চিকিৎসা’র নামে বিভিন্ন উপকরণ কেনার কথা বলে ধাপে ধাপে টাকা হাতিয়ে নেয়। এর মধ্যে ছিল খাসি, জায়নামাজ, আগরবাতি, মোমবাতি, গরুর দুধ, ফল, চন্দন কাঠ, এমনকি ‘জোড়া শুকর’ জবাইয়ের কথাও বলা হয়। এভাবে ১ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত বিকাশের মাধ্যমে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা নেয় তারা।পরবর্তীতে ১০ মার্চ ‘শেষ ঝাড়ফুঁক’ দেওয়ার কথা বলে কৌশলে কিশোরীর কাছ থেকে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।ঘটনাটি প্রকাশ পায়, যখন কিশোরী পুনরায় টাকা পাঠাতে গেলে বিকাশ এজেন্ট তার বয়স কম হওয়ায় সন্দেহ করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তদন্তে নামে পিবিআই।পিবিআই সূত্র জানায়, অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তফা কামালের নির্দেশনায় এবং জামালপুর পিবিআই ইউনিটের পুলিশ সুপার পংকজ দত্তের তত্ত্বাবধানে একাধিক টিম গঠন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর থানার মাওনা এমসি বাজার এলাকা থেকে মুছা মিয়া (২৯) ও রফিকুল ইসলাম (২৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়।তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের কোতোয়ালী থানার মাসকান্দা নতুন বাজার এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতা মনির হোসেন (২১)কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।পরবর্তীতে মনিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার বাড়ির পাশের বাগানে মাটি খুঁড়ে ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা।তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রটি ইমু অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যা শুনে ‘সমাধান’ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিত। ভুক্তভোগী কিশোরীও পারিবারিক মানসিক দুশ্চিন্তার কারণে তাদের ফাঁদে পা দেয়।পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, মামলার বিষয়টি জানার পরপরই আমরা একাধিক টিম গঠন করে তদন্ত শুরু করি। সদস্যদের কঠোর পরিশ্রমে অল্প সময়ের মধ্যেই চক্রটির মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। জড়িত অন্যান্যদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত এ ধরনের চটকদার ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
সম্পাদক : এস এ শাহরিয়ার মিল্টন
মাহফুজা প্লাজা, ৫মতলা, শেরপুর শহর , শেরপুর।
প্রয়োজনে : ০১৭১১৬৬৪২১৭ । মেইল : hellosherpurtimes@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত