প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রতিবন্ধী পাঁচ ভাইবোনের সংগ্রাম: খাবার মিললেও নেই চিকিৎসা
নিউজ ডেস্ক ||
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম সমশ্চূড়া গ্রামের এক প্রতিবন্ধী পরিবারের জীবনসংগ্রাম এখনো থামেনি। একসময় যাঁদের থাকা-খাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না, বর্তমানে সেই পরিবারটির খাদ্যের ব্যবস্থা হলেও নিয়মিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন সদস্যরা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৯ সালে ত্রিশালের কাশিগঞ্জ এলাকা থেকে মৃত সফরউদ্দিন এই গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন। তাঁর ১১ সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ে বাক্, শ্রবণ ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। সময়ের পরিক্রমায় তাঁদের মধ্যে দুই মেয়ে মারা গেছেন। বর্তমানে পাঁচ ভাইবোন—জয়নাল আবেদীন, আজগর আলী, রহিমা বেগম, ফাতেমা বেগম ও কুলসুম বেগম জীবিত আছেন। জন্ম থেকেই তাঁরা প্রতিবন্ধী।একসময় ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভর করেই চলত পরিবারটির জীবন। ২০০৮ সালে তাঁদের করুণ জীবনযাপনের চিত্র গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশ-বিদেশের হৃদয়বান মানুষ এগিয়ে আসেন। তাঁদের সহায়তায় পরিবারটির জন্য একটি বসতঘর নির্মাণ করা হয় এবং খাদ্যের ব্যবস্থাও নিশ্চিত হয়। বর্তমানে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নিয়মিত খাবারের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নালিতাবাড়ী প্রেসক্লাবের সাংবাদিকেরাও পরিবারটির খোঁজখবর রাখছেন।প্রেসক্লাবের উদ্যোগে অগ্রণী ব্যাংকে একটি হিসাব খোলা হয়েছে। সেই হিসাবের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে।তবে খাদ্যের নিশ্চয়তা থাকলেও চিকিৎসাসেবার অভাবে কষ্টে দিন কাটছে পরিবারটির সদস্যদের। কথা বলতে না পারায় তাঁরা ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে চিকিৎসা সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।২০০৮ সাল থেকে বিভিন্ন মহলের সহায়তায় কোনোভাবে টিকে থাকলেও এখনো নিয়মিত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা হয়নি। ফলে অসহায় পরিবারটির জন্য মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।এলাকাবাসীর মতে, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারি উদ্যোগে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে পরিবারটির সদস্যদের বাকি জীবন কিছুটা স্বস্তিতে কাটতে পারে।সমশ্চূড়া মাদ্রাসার ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, ‘এই প্রতিবন্ধী পরিবারটির জন্য নিয়মিত চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত জরুরি।’নালিতাবাড়ী প্রেসক্লাবের পক্ষে পরিবারটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা সাংবাদিক বিপ্লব দে কেটু বলেন, ‘এক ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় প্রতি মাসে তাঁদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয় এবং উৎসবগুলোতে নতুন পোশাক দেওয়া হয়। তাঁরা কেউ কথা বলতে পারেন না। তবে ইশারায় বোঝা যায়, তাঁদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন। চিকিৎসাসেবার অভাবে তাঁরা ভুগছেন।’এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিবারটির চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবেসূত্র : আজকের পত্রিকা ।
সম্পাদক : এস এ শাহরিয়ার মিল্টন
মাহফুজা প্লাজা, ৫মতলা, শেরপুর শহর , শেরপুর।
প্রয়োজনে : ০১৭১১৬৬৪২১৭ । মেইল : hellosherpurtimes@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত