প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
সরকারি নিয়ম ছাড়া তালাঝুলিয়ে বন্ধ স্কুল, ব্যাক্তিগত কাজে ব্যস্ত শিক্ষক
নিউজ ডেস্ক ||
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ৭৬নং বিষ্টপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলার সময় বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিক্ষকরা এমন চিত্র দেখা গেছে সরেজমিনে।মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের সব কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষার্থী বা শিক্ষকের কোনো উপস্থিতি চোখে পড়েনি।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টি প্রায় সময়ই বন্ধ থাকে। নিয়ম অনুযায়ী সকাল সারে ৯ টা থেকে বিকাল ৪ টা পযন্ত কিন্তু। দুপুর ১২টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। কেউ কেউ দাবি করেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিন দিন খোলা, তিন দিন বন্ধ এমন ধারণা নিয়েই চলছে প্রতিষ্ঠানটি।বিষ্ণুপুর এলাকার বাসিন্দা মমিন মিয়া বলেন, এই স্কুলে শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে। শিক্ষকরা এসে খাতায় সাইন করে চলে যান। আমরা কখনো ক্লাস হতে দেখি না। বেশিরভাগ সময়ই স্কুল বন্ধ থাকে। শিক্ষক কারা, সেটাও ঠিকমতো জানি না। ছাত্র আছে কিনা সেটাও সন্দেহ। শেষ কবে ক্লাস হয়েছে, তাও বলতে পারি না।এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রফিক মিয়া বলেন, আমি আজ সকালে স্কুলে এসেছিলাম। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সবাই মেলায় গেছে। আমি পরে উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রশ্ন আনতে যাই। আরেকজন শিক্ষকা বেতন তুলতে গেছেন। একজন শিক্ষক একা ছিলেন, পরে তিনি স্কুল বন্ধ করে চলে গেছেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের স্কুলে ৫৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে আজ কেউ আসেনি।স্কুল বন্ধ রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, স্কুল খোলা থাকে। তবে মাঝে মাঝে কাজের জন্য বাইরে যেতে হলে বন্ধ করে যেতে হয়। আমাদের স্কুলে আমি সহ তিনজন শিক্ষক আছি।এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পার্থ বলেন, স্কুলের পাশে মেলা চলছে, সে কারণে হয়তো বন্ধ ছিল। তবে মেলার কারণে স্কুল বন্ধ রাখার কোনো নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই স্কুলটি আমার ক্লাস্টারের মধ্যে না, তাই বিস্তারিত জানি না। ঝিনাইগাতী উপজেলায় মোট ১০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।এদিকে, নাচনমোহুরী ক্লাস্টার-১ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।শেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শহিদুজ্জামান বলেন, সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনোভাবেই স্কুল বন্ধ রাখার নিয়ম নেই। আজকের দিনে স্কুল বন্ধ থাকার কোনো কারণ নেই। যদি বন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাইফুল ইসলাম কমল বলেন, স্কুল বন্ধের বিষয়টি আমার জানা নেই। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এ ধরনের অব্যবস্থার তদন্ত করে ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার পরিবেশ আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।
সম্পাদক : এস এ শাহরিয়ার মিল্টন
মাহফুজা প্লাজা, ৫মতলা, শেরপুর শহর , শেরপুর।
প্রয়োজনে : ০১৭১১৬৬৪২১৭ । মেইল : hellosherpurtimes@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৬ SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত