শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী বিষ্ণপুর গ্রামে শতবর্ষী চরণতলা কালীপূজা ও মেলাকে ঘিরে ভক্তদের নেমেছে ঢল। বৈশাখের চতুর্থ সপ্তাহে আয়োজিত এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো মানুষ অংশ নেন।
গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে চরণতলার পুরনো বটগাছতলে ডাগের তালে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বুধবার দুপুর থেকেই ভক্তরা জড়ো হতে শুরু করেন এবং সন্ধ্যার পর উৎসব জমে ওঠে।
স্থানীয়দের মতে, একসময় পাশ দিয়ে প্রবাহিত নদীতে ডুবে চরণ নামের এক ভক্তের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনা থেকেই স্থানের নাম হয় ‘চরণতলা’। পরবর্তীতে এই নামেই কালীমাতার পূজা ও মেলা পরিচিতি পায়। ১৩০৬ বঙ্গাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এ আয়োজন এখনো ধরে রেখেছে ঐতিহ্য।
পূজায় ভক্তরা মানত পূরণের জন্য খাসি, কবুতর, স্বর্ণালঙ্কার, ফলমূল, মিষ্টি ও অর্থ করেন উৎসর্গ। মধ্যরাত থেকে বলি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়ে চলে সকাল পর্যন্ত। পরে তা ভোগ হিসেবে গ্রহণ করেন ভক্তরা।
ভক্ত হীরালাল রবিদাস জানান, তিনি প্রতিবছরই এখানে আসেন এবং করেন মানত। তার বিশ্বাস, কালীমাতা ভক্তদের বাসনা পূরণ করেন। মেলায় শিশুদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো। শিশু প্রান্ত জানালেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে এসে তার খুব ভালো লেগেছে।
এ উৎসবে হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলমান ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষও অংশ নেন এবং করেন নানা কাজে সহযোগিতা। মেলাকে ঘিরে জমে ওঠে কেনাবেচা। ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলছিলেন, প্রতি বছরই তিনি দোকান বসান এবং ভালো বেচাকেনা হয়। আগে ভারত থেকেও অনেক মানুষ আসতেন, এখন ভিসা জটিলতার কারণে তা কমে গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবকে আরও সুন্দরভাবে সংরক্ষণ ও বিস্তারে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ প্রয়োজন।
চরণতলা বারোয়ারী শ্রী শ্রী কালীমাতা পূজা উৎসব কমিটির সভাপতি পীযূষ কান্তি মোদক বললেন, এটি শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, পরিণত হয়েছে এলাকার মানুষের মিলনমেলায়। পরিকল্পনা রয়েছে ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছরই এ আয়োজন অব্যাহত রাখার।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী বিষ্ণপুর গ্রামে শতবর্ষী চরণতলা কালীপূজা ও মেলাকে ঘিরে ভক্তদের নেমেছে ঢল। বৈশাখের চতুর্থ সপ্তাহে আয়োজিত এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো মানুষ অংশ নেন।
গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে চরণতলার পুরনো বটগাছতলে ডাগের তালে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বুধবার দুপুর থেকেই ভক্তরা জড়ো হতে শুরু করেন এবং সন্ধ্যার পর উৎসব জমে ওঠে।
স্থানীয়দের মতে, একসময় পাশ দিয়ে প্রবাহিত নদীতে ডুবে চরণ নামের এক ভক্তের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনা থেকেই স্থানের নাম হয় ‘চরণতলা’। পরবর্তীতে এই নামেই কালীমাতার পূজা ও মেলা পরিচিতি পায়। ১৩০৬ বঙ্গাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এ আয়োজন এখনো ধরে রেখেছে ঐতিহ্য।
পূজায় ভক্তরা মানত পূরণের জন্য খাসি, কবুতর, স্বর্ণালঙ্কার, ফলমূল, মিষ্টি ও অর্থ করেন উৎসর্গ। মধ্যরাত থেকে বলি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়ে চলে সকাল পর্যন্ত। পরে তা ভোগ হিসেবে গ্রহণ করেন ভক্তরা।
ভক্ত হীরালাল রবিদাস জানান, তিনি প্রতিবছরই এখানে আসেন এবং করেন মানত। তার বিশ্বাস, কালীমাতা ভক্তদের বাসনা পূরণ করেন। মেলায় শিশুদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো। শিশু প্রান্ত জানালেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে এসে তার খুব ভালো লেগেছে।
এ উৎসবে হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলমান ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষও অংশ নেন এবং করেন নানা কাজে সহযোগিতা। মেলাকে ঘিরে জমে ওঠে কেনাবেচা। ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলছিলেন, প্রতি বছরই তিনি দোকান বসান এবং ভালো বেচাকেনা হয়। আগে ভারত থেকেও অনেক মানুষ আসতেন, এখন ভিসা জটিলতার কারণে তা কমে গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবকে আরও সুন্দরভাবে সংরক্ষণ ও বিস্তারে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ প্রয়োজন।
চরণতলা বারোয়ারী শ্রী শ্রী কালীমাতা পূজা উৎসব কমিটির সভাপতি পীযূষ কান্তি মোদক বললেন, এটি শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, পরিণত হয়েছে এলাকার মানুষের মিলনমেলায়। পরিকল্পনা রয়েছে ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছরই এ আয়োজন অব্যাহত রাখার।

আপনার মতামত লিখুন