শেরপুর     শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

হালুয়াঘাটে আট বছর নামেই দাঁড়িয়ে আছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমি



হালুয়াঘাটে আট বছর নামেই দাঁড়িয়ে আছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমি
ছবি : প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতির প্রচার, প্রসার ঐতিহ্য উন্নয়ন ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে  নির্মাণ করা হয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমি। উপজেলার রাংরাপাড়া গ্রামে ২০১৩ সালে একাডেমির নির্মাণকাজ শুরু হলেও শেষ হয় ২০১৮ সালে। আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরুই হয়নি ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একাডেমির কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে ভবনের বিভিন্ন অংশ ও মূল্যবান সরঞ্জাম। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায়  অকেজো হয়ে পড়ছে ইলেক্ট্রিক যন্ত্রাংশগুলোও।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমি ঘুরে দেখা যায়, অনুষ্ঠান আয়োজনের মঞ্চে রৌদে শুকানো হচ্ছে ভুট্টা। বেশ কয়েকটি ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা ভিতরে অপেক্ষা করছে সেগুলো শুকানোর পর নিয়ে যাওয়ার জন্য। পরিস্কার না করায় ভবন গুলোর ভিতরে জন্মাচ্ছে গাছপালা। এতে নষ্ট হচ্ছে দেয়ালের প্লাস্টার। ভেঙ্গে গেছে জানালার গ্লাস। দেয়ালে পাইপ দিয়ে পানি পড়ে বসছে শেওলার আস্তর। 

স্থানীয়রা জানায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষকে সংস্কৃতির মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে একাডেমি ভবনটি এখানে নির্মাণ করা হয়। এই একাডেমিতে রয়েছে আধুনিক মঞ্চায়ন উপযোগী শব্দ, আলোক ও অ্যাকুয়েস্টিক ব্যবস্থাসহ ৩০০ আসনবিশিষ্ট একটি মিলনায়তন। আছে ৫০০ আসনবিশিষ্ট মুক্তমঞ্চ ও একটি প্রশিক্ষণ ভবনও রয়েছে। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর একাডেমির উদ্বোধন করা হলেও উদ্বোধনের পর কার্যক্রম পরিচালনা না হওয়ায় অনেক কিছুই একেবারে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পথে। ভেঙ্গে যাচ্ছে কাঁচের জানালাগুলো। ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ১৯৯৬ সালে রাংরাপাড়া গ্রামে এক একর ৮০ শতক জমি ক্রয় করে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছিলো। বর্তমানে এটি রয়েছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। এটির কোনো কার্যক্রম নেই এখন। আগাছা উঠে চারপাশে জঙ্গলে ভরে গেছে। একাডেমির বিভিন্ন স্থাপনা ও যন্ত্রাংশ ব্যবহার না করার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় নষ্ট হচ্ছে ইলেক্ট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি।  এটি চালু হলে আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচার সম্পর্কে  জানতে পারবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

অনসাম্বল থিয়েটারের সভাপতি আবুল মনসুর জানান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের সংস্কৃতি চর্চার যে উদ্যােগ নেওয়া হয় তা প্রশংসনীয়।  এর মাধ্যমে শুধু তাদের সংস্কৃতি চর্চা হবে না, আমরাও তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারব, চর্চা করতে পারব। আমরাও সেখানে আমাদের সংস্কৃতি তাতের সামনে তুলে ধরতে পারব। এর মাধ্যমে আমাদের মাঝে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে। আমাদের জেলা শহরসহ অন্যান্য উপজেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জায়গার সল্পতা রয়েছে। যদি এই একাডেমি চালু করা হয় তাহলে সেই জায়গার সংকটটা দূর হবে। সকলেই সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারবে। বর্তমান সরকারের কাছে আহ্বান থাকবে অতি দ্রুত যেন এই একাডেমির সকল সমস্যা দূর করে চালু করা হয়।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমির পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার প্রলয় স্নাল বলেন, এটি নির্মাণ হলেও কোন জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যার কারনে এটি পূর্ণাঙ্গ ভাবে চালু করা হয়নি। এখানে সকল ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা রয়েছে নৃগোষ্ঠী সংস্কৃতি চর্চার। কিন্তু জনবলের অভাবে কারনে পিছিয়ে যাচ্ছে এর কার্যক্রম।  পরিচ্ছন্নতা কর্মী না থাকায় এখানে জঙ্গলে পরিনত হয়েছে। এতে ভবন গুলো ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ের মধ্যে লোকবল নিয়োগ দেওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলেই একাডেমিটি তার কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করবে।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া আসনের সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল জানান, তিনমাস হলো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমিটি এখনও পরিদর্শন করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদেরকে সাথে নিয়ে এটি পরিদর্শন করে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী যা করার প্রয়োজন আমরা সরকারকে জানাব। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমি পূর্ণাঙ্গ ভাবে চালু করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


হালুয়াঘাটে আট বছর নামেই দাঁড়িয়ে আছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমি

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতির প্রচার, প্রসার ঐতিহ্য উন্নয়ন ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে  নির্মাণ করা হয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমি। উপজেলার রাংরাপাড়া গ্রামে ২০১৩ সালে একাডেমির নির্মাণকাজ শুরু হলেও শেষ হয় ২০১৮ সালে। আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরুই হয়নি ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একাডেমির কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে ভবনের বিভিন্ন অংশ ও মূল্যবান সরঞ্জাম। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায়  অকেজো হয়ে পড়ছে ইলেক্ট্রিক যন্ত্রাংশগুলোও।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমি ঘুরে দেখা যায়, অনুষ্ঠান আয়োজনের মঞ্চে রৌদে শুকানো হচ্ছে ভুট্টা। বেশ কয়েকটি ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা ভিতরে অপেক্ষা করছে সেগুলো শুকানোর পর নিয়ে যাওয়ার জন্য। পরিস্কার না করায় ভবন গুলোর ভিতরে জন্মাচ্ছে গাছপালা। এতে নষ্ট হচ্ছে দেয়ালের প্লাস্টার। ভেঙ্গে গেছে জানালার গ্লাস। দেয়ালে পাইপ দিয়ে পানি পড়ে বসছে শেওলার আস্তর। 

স্থানীয়রা জানায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষকে সংস্কৃতির মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে একাডেমি ভবনটি এখানে নির্মাণ করা হয়। এই একাডেমিতে রয়েছে আধুনিক মঞ্চায়ন উপযোগী শব্দ, আলোক ও অ্যাকুয়েস্টিক ব্যবস্থাসহ ৩০০ আসনবিশিষ্ট একটি মিলনায়তন। আছে ৫০০ আসনবিশিষ্ট মুক্তমঞ্চ ও একটি প্রশিক্ষণ ভবনও রয়েছে। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর একাডেমির উদ্বোধন করা হলেও উদ্বোধনের পর কার্যক্রম পরিচালনা না হওয়ায় অনেক কিছুই একেবারে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পথে। ভেঙ্গে যাচ্ছে কাঁচের জানালাগুলো। ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ১৯৯৬ সালে রাংরাপাড়া গ্রামে এক একর ৮০ শতক জমি ক্রয় করে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছিলো। বর্তমানে এটি রয়েছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। এটির কোনো কার্যক্রম নেই এখন। আগাছা উঠে চারপাশে জঙ্গলে ভরে গেছে। একাডেমির বিভিন্ন স্থাপনা ও যন্ত্রাংশ ব্যবহার না করার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় নষ্ট হচ্ছে ইলেক্ট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি।  এটি চালু হলে আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচার সম্পর্কে  জানতে পারবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

অনসাম্বল থিয়েটারের সভাপতি আবুল মনসুর জানান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের সংস্কৃতি চর্চার যে উদ্যােগ নেওয়া হয় তা প্রশংসনীয়।  এর মাধ্যমে শুধু তাদের সংস্কৃতি চর্চা হবে না, আমরাও তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারব, চর্চা করতে পারব। আমরাও সেখানে আমাদের সংস্কৃতি তাতের সামনে তুলে ধরতে পারব। এর মাধ্যমে আমাদের মাঝে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে। আমাদের জেলা শহরসহ অন্যান্য উপজেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জায়গার সল্পতা রয়েছে। যদি এই একাডেমি চালু করা হয় তাহলে সেই জায়গার সংকটটা দূর হবে। সকলেই সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারবে। বর্তমান সরকারের কাছে আহ্বান থাকবে অতি দ্রুত যেন এই একাডেমির সকল সমস্যা দূর করে চালু করা হয়।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমির পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার প্রলয় স্নাল বলেন, এটি নির্মাণ হলেও কোন জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যার কারনে এটি পূর্ণাঙ্গ ভাবে চালু করা হয়নি। এখানে সকল ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা রয়েছে নৃগোষ্ঠী সংস্কৃতি চর্চার। কিন্তু জনবলের অভাবে কারনে পিছিয়ে যাচ্ছে এর কার্যক্রম।  পরিচ্ছন্নতা কর্মী না থাকায় এখানে জঙ্গলে পরিনত হয়েছে। এতে ভবন গুলো ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ের মধ্যে লোকবল নিয়োগ দেওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলেই একাডেমিটি তার কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করবে।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া আসনের সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল জানান, তিনমাস হলো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমিটি এখনও পরিদর্শন করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদেরকে সাথে নিয়ে এটি পরিদর্শন করে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী যা করার প্রয়োজন আমরা সরকারকে জানাব। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমি পূর্ণাঙ্গ ভাবে চালু করা হবে।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত