শেরপুর     শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর



গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সংগৃহিত ছবি

উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ট্রান্সফরমিং হায়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাস্টেইনেবল এক্সসেলেন্স’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলাম সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম জোরদার করতে দেশের প্রতিষ্ঠিত অ্যালামনাইদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। 

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছেনি।

তিনি বলেন, র‍্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবনকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধু পুথিগত শিক্ষা নয়, গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নজর না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা কষ্টকর হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর অ্যালামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব অ্যালামনাই বর্তমানে দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত, তাদের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে তিনি শিক্ষাবিদদের প্রতি আহ্বান জানান।

উচ্চ শিক্ষিতদের বেকারত্বের সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে এপ্রেন্টিসশীপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় ‘সিড ফান্ডিং’ বা ‘ইনোভেশন গ্রান্ট’ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’ এবং ‘সায়েন্স পার্ক’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। 

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এআই, রোবটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি ও ন্যানো টেকনোলজির মতো উন্নত প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মুখস্থ বিদ্যা ও সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

হাজারো প্রাণের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক সরকার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়তে চায়। যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

তিনি প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ আলিঙ্গনের পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক নৈতিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে শিক্ষক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত এ কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষের রূপরেখা।’

এতে সরকারের নীতিনির্ধারক, ইউজিসির সদস্য, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, গবেষক, কূটনীতিক শিল্পখাতের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬


গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ট্রান্সফরমিং হায়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাস্টেইনেবল এক্সসেলেন্স’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলাম সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম জোরদার করতে দেশের প্রতিষ্ঠিত অ্যালামনাইদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। 

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছেনি।

তিনি বলেন, র‍্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবনকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধু পুথিগত শিক্ষা নয়, গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নজর না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা কষ্টকর হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর অ্যালামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব অ্যালামনাই বর্তমানে দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত, তাদের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে তিনি শিক্ষাবিদদের প্রতি আহ্বান জানান।

উচ্চ শিক্ষিতদের বেকারত্বের সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে এপ্রেন্টিসশীপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় ‘সিড ফান্ডিং’ বা ‘ইনোভেশন গ্রান্ট’ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’ এবং ‘সায়েন্স পার্ক’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। 

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এআই, রোবটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি ও ন্যানো টেকনোলজির মতো উন্নত প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মুখস্থ বিদ্যা ও সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

হাজারো প্রাণের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক সরকার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়তে চায়। যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

তিনি প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ আলিঙ্গনের পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক নৈতিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে শিক্ষক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত এ কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষের রূপরেখা।’

এতে সরকারের নীতিনির্ধারক, ইউজিসির সদস্য, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, গবেষক, কূটনীতিক শিল্পখাতের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত