বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশসহ অনেক দেশের গাড়িচালকদের ওপর। প্রতিদিনের যাতায়াতে যারা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন, তাদের জন্য জ্বালানি খরচ এখন বড় একটি চিন্তার বিষয়। তাই নতুন গাড়ি কেনার সময় শুধু ডিজাইন বা পারফরম্যান্স নয়, ফুয়েল এফিসিয়েন্সি বা মাইলেজও হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। বিশেষ করে শহরের যানজটপূর্ণ সড়কে যেখানে বারবার ব্রেক ও অ্যাক্সিলারেশন করতে হয়, সেখানে গাড়ির জ্বালানি সাশ্রয় ক্ষমতা অনেকটাই প্রভাবিত হয়।
বর্তমান বাজারে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পেট্রোলচালিত অটোম্যাটিক এসইউভি রয়েছে, যেগুলো তুলনামূলক ভালো মাইলেজ দেওয়ার দাবি করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনটি মডেল হলো রেনো ডাস্টার, টাটা সিয়েরা এবং স্কোডা কুসাক। এই গাড়িগুলোর ইঞ্জিন প্রযুক্তি, গিয়ারবক্স এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সের পার্থক্য তাদের জ্বালানি খরচেও ভিন্নতা তৈরি করে।
প্রথমেই বলা যায় রেনো ডাস্টার-এর কথা। নতুন সংস্করণের এই এসইউভিতে ব্যবহৃত হয়েছে ১.৩ লিটার ক্ষমতার টার্বোচার্জড পেট্রোল ইঞ্জিন। এর সঙ্গে রয়েছে আধুনিক ৬-স্পিড ডুয়াল ক্লাচ অটোমেটিক ট্রান্সমিশন। এই ধরনের গিয়ারবক্স দ্রুত গিয়ার পরিবর্তনের মাধ্যমে ইঞ্জিনের শক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে, ফলে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়েও সহায়তা করে। প্রস্তুতকারকের তথ্য অনুযায়ী, এই গাড়ি প্রতি লিটার জ্বালানিতে প্রায় ১৮ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করতে পারে। মাঝারি আকারের এসইউভি হিসেবে এটি বেশ ভালো একটি মাইলেজ ধরা হয়।
অন্যদিকে টাটা সিয়েরা মডেলে রয়েছে ১.৫ লিটার টার্বো পেট্রোল ইঞ্জিন এবং টর্ক কনভার্টার অটোমেটিক গিয়ারবক্স। টর্ক কনভার্টার গিয়ারবক্স সাধারণত খুব মসৃণ ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই বলে ধরা হয়। তবে প্রযুক্তিগত কারণে এটি অনেক সময় ডুয়াল ক্লাচ গিয়ারবক্সের তুলনায় কিছুটা বেশি জ্বালানি ব্যবহার করতে পারে। ফলে এই গাড়ির ঘোষিত মাইলেজ তুলনামূলক কম, প্রতি লিটার জ্বালানিতে প্রায় ১৩-১৪ কিলোমিটার পথ চলতে পারে।
তৃতীয় মডেল স্কোডা কুসাক বর্তমানে ফুয়েল এফিসিয়েন্সির দিক থেকে বেশ আলোচনায় রয়েছে। এর ফেসলিফট সংস্করণে ব্যবহার করা হয়েছে ১.৫ লিটার টিএসআই টার্বো পেট্রোল ইঞ্জিন। এর সঙ্গে যুক্ত আছে ৭-স্পিড ডিএসজি ডুয়াল ক্লাচ অটোমেটিক ট্রান্সমিশন। এই প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হলো দ্রুত ও নির্ভুল গিয়ার পরিবর্তন, যা ইঞ্জিনের দক্ষতা বাড়ায় এবং জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয় এনে দেয়। প্রস্তুতকারকের দাবি অনুযায়ী, এই মডেলটি প্রতি লিটার জ্বালানিতে প্রায় ১৮.৫-১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে সক্ষম।
এই দুটি গাড়ির তুলনামূলক হিসাব করলে দেখা যায়, জ্বালানি দক্ষতার দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে স্কোডা কুসাক। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রেনো ডাস্টার, আর তুলনামূলক কম মাইলেজের কারণে তৃতীয় স্থানে রয়েছে টাটা সিয়েরা। তবে শুধু মাইলেজের ভিত্তিতে গাড়ি নির্বাচন করা সব সময় যথেষ্ট নয়। গাড়ির ওজন, ইঞ্জিন টিউনিং, ড্রাইভিং স্টাইল এবং রাস্তার অবস্থা এসব বিষয়ও বাস্তব জীবনে জ্বালানি খরচে বড় ভূমিকা রাখে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া মাইলেজ সাধারণত পরীক্ষাগারভিত্তিক মান বা নির্দিষ্ট পরীক্ষামূলক পরিবেশে নির্ধারিত হয়। বাস্তবে শহরের যানজট, রাস্তার অবস্থা, গাড়িতে যাত্রী বা মালপত্রের ওজন এবং চালকের ড্রাইভিং অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে মাইলেজ কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।
বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতিতে গাড়ি কেনার আগে তাই ইঞ্জিন প্রযুক্তি, ট্রান্সমিশন এবং ফুয়েল এফিসিয়েন্সি ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সঠিক পরিকল্পনায় গাড়ি নির্বাচন করলে যেমন খরচ কমানো সম্ভব, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারও হবে আরও আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী।
বিষয় : জ্বালানি তেলের সংকট

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশসহ অনেক দেশের গাড়িচালকদের ওপর। প্রতিদিনের যাতায়াতে যারা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন, তাদের জন্য জ্বালানি খরচ এখন বড় একটি চিন্তার বিষয়। তাই নতুন গাড়ি কেনার সময় শুধু ডিজাইন বা পারফরম্যান্স নয়, ফুয়েল এফিসিয়েন্সি বা মাইলেজও হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। বিশেষ করে শহরের যানজটপূর্ণ সড়কে যেখানে বারবার ব্রেক ও অ্যাক্সিলারেশন করতে হয়, সেখানে গাড়ির জ্বালানি সাশ্রয় ক্ষমতা অনেকটাই প্রভাবিত হয়।
বর্তমান বাজারে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পেট্রোলচালিত অটোম্যাটিক এসইউভি রয়েছে, যেগুলো তুলনামূলক ভালো মাইলেজ দেওয়ার দাবি করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনটি মডেল হলো রেনো ডাস্টার, টাটা সিয়েরা এবং স্কোডা কুসাক। এই গাড়িগুলোর ইঞ্জিন প্রযুক্তি, গিয়ারবক্স এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সের পার্থক্য তাদের জ্বালানি খরচেও ভিন্নতা তৈরি করে।
প্রথমেই বলা যায় রেনো ডাস্টার-এর কথা। নতুন সংস্করণের এই এসইউভিতে ব্যবহৃত হয়েছে ১.৩ লিটার ক্ষমতার টার্বোচার্জড পেট্রোল ইঞ্জিন। এর সঙ্গে রয়েছে আধুনিক ৬-স্পিড ডুয়াল ক্লাচ অটোমেটিক ট্রান্সমিশন। এই ধরনের গিয়ারবক্স দ্রুত গিয়ার পরিবর্তনের মাধ্যমে ইঞ্জিনের শক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে, ফলে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়েও সহায়তা করে। প্রস্তুতকারকের তথ্য অনুযায়ী, এই গাড়ি প্রতি লিটার জ্বালানিতে প্রায় ১৮ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করতে পারে। মাঝারি আকারের এসইউভি হিসেবে এটি বেশ ভালো একটি মাইলেজ ধরা হয়।
অন্যদিকে টাটা সিয়েরা মডেলে রয়েছে ১.৫ লিটার টার্বো পেট্রোল ইঞ্জিন এবং টর্ক কনভার্টার অটোমেটিক গিয়ারবক্স। টর্ক কনভার্টার গিয়ারবক্স সাধারণত খুব মসৃণ ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই বলে ধরা হয়। তবে প্রযুক্তিগত কারণে এটি অনেক সময় ডুয়াল ক্লাচ গিয়ারবক্সের তুলনায় কিছুটা বেশি জ্বালানি ব্যবহার করতে পারে। ফলে এই গাড়ির ঘোষিত মাইলেজ তুলনামূলক কম, প্রতি লিটার জ্বালানিতে প্রায় ১৩-১৪ কিলোমিটার পথ চলতে পারে।
তৃতীয় মডেল স্কোডা কুসাক বর্তমানে ফুয়েল এফিসিয়েন্সির দিক থেকে বেশ আলোচনায় রয়েছে। এর ফেসলিফট সংস্করণে ব্যবহার করা হয়েছে ১.৫ লিটার টিএসআই টার্বো পেট্রোল ইঞ্জিন। এর সঙ্গে যুক্ত আছে ৭-স্পিড ডিএসজি ডুয়াল ক্লাচ অটোমেটিক ট্রান্সমিশন। এই প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হলো দ্রুত ও নির্ভুল গিয়ার পরিবর্তন, যা ইঞ্জিনের দক্ষতা বাড়ায় এবং জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয় এনে দেয়। প্রস্তুতকারকের দাবি অনুযায়ী, এই মডেলটি প্রতি লিটার জ্বালানিতে প্রায় ১৮.৫-১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে সক্ষম।
এই দুটি গাড়ির তুলনামূলক হিসাব করলে দেখা যায়, জ্বালানি দক্ষতার দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে স্কোডা কুসাক। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রেনো ডাস্টার, আর তুলনামূলক কম মাইলেজের কারণে তৃতীয় স্থানে রয়েছে টাটা সিয়েরা। তবে শুধু মাইলেজের ভিত্তিতে গাড়ি নির্বাচন করা সব সময় যথেষ্ট নয়। গাড়ির ওজন, ইঞ্জিন টিউনিং, ড্রাইভিং স্টাইল এবং রাস্তার অবস্থা এসব বিষয়ও বাস্তব জীবনে জ্বালানি খরচে বড় ভূমিকা রাখে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া মাইলেজ সাধারণত পরীক্ষাগারভিত্তিক মান বা নির্দিষ্ট পরীক্ষামূলক পরিবেশে নির্ধারিত হয়। বাস্তবে শহরের যানজট, রাস্তার অবস্থা, গাড়িতে যাত্রী বা মালপত্রের ওজন এবং চালকের ড্রাইভিং অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে মাইলেজ কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।
বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতিতে গাড়ি কেনার আগে তাই ইঞ্জিন প্রযুক্তি, ট্রান্সমিশন এবং ফুয়েল এফিসিয়েন্সি ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সঠিক পরিকল্পনায় গাড়ি নির্বাচন করলে যেমন খরচ কমানো সম্ভব, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারও হবে আরও আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী।

আপনার মতামত লিখুন