শেরপুর     সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে নামেই দুটি রেলস্টেশন, কার্যত অচল



ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে নামেই দুটি রেলস্টেশন, কার্যত অচল
ছবি : প্রতিনিধি

এক সময় যেখানে ছিল মানুষের ভিড়ে সরগরম, আজ সেখানে সুনসান নীরবতা। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগী দুটি রেলস্টেশন আছে শুধু নামেই। কিন্তু কাজে কর্মে পুরোটাই রয়েছে অচল। স্টেশনের অব্যবহৃত অবকাঠামো, ময়লার স্তূপ আর গরু-ছাগল বাঁধা প্লাটফর্মে। থামে না ট্রেন, নেই কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে ট্রেনে উঠার তাড়াহুড়ো। সবই হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে।

করোনাকালীন সময়ে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ঈশ্বরগঞ্জ এবং সোহাগী রেলস্টেশন ও  তিনটি ট্রেন। স্টেশনকে কেন্দ্র করে জীবিকা ও কম খরচে যাতায়াতের এই মাধ্যম বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের মানুষেরা। 

স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন জানান, একসময় রেলস্টেশনে সবসময় মানুষের ভীর লেগেই থাকত। সবসময় জমজমাট থাকত। কিন্তু যতই দিন গড়ায় ততই অবনতি হতে থাকে ঈশ্বরগঞ্জ রেল স্টেশন। অবকাঠামোগত কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এখানে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ভবন। ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি।  দেখভাল না করায় অনেক মূল্যবান জিনিষপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে। একসময় এখানে বেস কয়েকটি ট্রেন থামত। এরমধ্যে আন্ত:নগর ট্রেন ও লোকাল ট্রেন ছিলো। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে স্টেশনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে আর চালু করার উদ্যােগ নেওয়া হয়নি।

ঈশ্বরগঞ্জ রেলস্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষায় থাকা যাত্রী মোমেনা বেগম জানান, কম টাকা যাতায়াত করা যায় বলে আমরা ট্রেনে চলি। স্টেশন বন্ধ থাকায় আমাদেরকে বাস বা সিএনজি অটোরিকশা দিয়া ময়মনসিংহ যেতে হয়। এতে খরচ বেশি হয়ে যায়। ট্রেনের জন্য এখন বসে আছি। ট্রেন আসবে কিনা তারও ঠিক নাই।

আনন্দ মোহন কলেজ পড়ুয়া ছাত্র সাদমান বিন ওমর জানান, আগে আমরা এক ট্রেনে ময়মনসিংহ যেতাম। কাজ শেষ করে আরেক ট্রেনে ঈশ্বরগঞ্জ চলে আসতে পারতাম। সময় অনুযায়ী ট্রেন ছিলো। যার কারনে আমাদের সুবিধা ছিলো। স্টেশন ও ট্রেন বন্ধ থাকার কারনে আমাদেরকে এখন সড়ক পথে চলতে হয়। এতে যানজটের কারনে আমরা সময়মত কলেজ উপস্থিত থাকতে পারি না। সড়ক তেমন নিরাপদ নয় যাতায়াতের জন্য।

সোহাগী রেলস্টেশন এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ জানান, এই স্টেশন চালু হচ্ছে না বাস ও সিএনজি অটোরিকশা সিন্ডিকেটের কারনে। তাদের ব্যবসা লস হবে বলে বন্ধ করা হয়েছে ট্রেন। সাধারন মানুষের কথা চিন্তা না করেই বন্ধ করা হয়েছে স্টেশন।  ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগী থেকে ময়মনসিংহ কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রাম অনেক যাত্রী থাকে। তাদেরকে ময়মনসিংহ গিয়ে ট্রেনে উঠে যেতে হয়। সিন্ডিকেট ভেঙ্গে পুনরায় স্টেশন ও ট্রেন চালু করতে হবে।

পথচারী সেলিম আকন্দ জানান, শুধু রাতে নয়, দিনে দুপুরে এখন বসে অপরাধীদের আড্ডা। তাদের ভয়ে স্থানীয়রা কিছু বলার সাহস পায় না। স্টেশনের লোহা চুরি করে তারা তাদের মাদকের টাকা জোগাড় করে। রাতে অন্ধকার থাকে স্টেশন এলাকা।

রেলস্টেশন বন্ধ থাকায় বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। উৎপাদিত ফসল ও অন্যান্য পণ্য স্থানান্তরে বেড়েছে পরিবহন খরচ। দেরীতে সরবরাহে নষ্ট হচ্ছে মালামাল।  কৃষক সোহরাব মিয়া জানান, ময়মনসিংহ জেলায় ঈশ্বরগঞ্জে সবচেয়ে বেশি সবজি উৎপাদন হয়। ট্রাকে করে উৎপাদিত সবজি ময়মনসিংহ কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জাশগায় নিয়ে যেতে পরিবহন খরচ বেশি লাগে। এতে লাভ কিছুই থাকে না। পরিবহন সুবিধা না থাকায় আমরা বাধ্য হয়ে বেপারিদের কাছে কম দামে ফসল বিক্রি করে দেই। তা না হলে ফসল পড়ে থেকে নষ্ট হয়। যদি ট্রেন চালু থাকত তাহলে সহজে আমরা কাঁচা মালামাল দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহজে নিয়ে যেতে পারতাম। আমারা লাভবানও হতাম।

সোহাগি এলাকার বাঁশের তৈরীর পাটির কারিগর আবুল মনসুর জানান, শুধু পাটি নয়, এখানে কয়েকটি পাট গুদাম রয়েছে, খাদ্যে গুদাম রয়েছে। যদি রেলস্টেশন আবার চালু করা হয় তাহলে মালামাল সহজেই আনা নেওয়া যেত। 

ময়মনসিংহ রেল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হক জানান, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগী রেলস্টেশন বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে। সেগুলোর অবকাঠামো অবস্থা কেমন আছে, প্রয়োজনীয় জনবল সংখ্যা কত আছে এগুলো বিবেচনা করে স্টেশনগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যােগ নেওয়া হবে।

শুধু আশ্বাস নয়, উন্নত অবকাঠামো ও রেল যোগাযোগ সহজ করতে উদ্যােগ নিবে সরকার, এমনটাই প্রত্যাশা ঈশ্বরগঞ্জবাসীর।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে নামেই দুটি রেলস্টেশন, কার্যত অচল

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

এক সময় যেখানে ছিল মানুষের ভিড়ে সরগরম, আজ সেখানে সুনসান নীরবতা। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগী দুটি রেলস্টেশন আছে শুধু নামেই। কিন্তু কাজে কর্মে পুরোটাই রয়েছে অচল। স্টেশনের অব্যবহৃত অবকাঠামো, ময়লার স্তূপ আর গরু-ছাগল বাঁধা প্লাটফর্মে। থামে না ট্রেন, নেই কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে ট্রেনে উঠার তাড়াহুড়ো। সবই হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে।

করোনাকালীন সময়ে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ঈশ্বরগঞ্জ এবং সোহাগী রেলস্টেশন ও  তিনটি ট্রেন। স্টেশনকে কেন্দ্র করে জীবিকা ও কম খরচে যাতায়াতের এই মাধ্যম বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের মানুষেরা। 

স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন জানান, একসময় রেলস্টেশনে সবসময় মানুষের ভীর লেগেই থাকত। সবসময় জমজমাট থাকত। কিন্তু যতই দিন গড়ায় ততই অবনতি হতে থাকে ঈশ্বরগঞ্জ রেল স্টেশন। অবকাঠামোগত কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এখানে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ভবন। ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি।  দেখভাল না করায় অনেক মূল্যবান জিনিষপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে। একসময় এখানে বেস কয়েকটি ট্রেন থামত। এরমধ্যে আন্ত:নগর ট্রেন ও লোকাল ট্রেন ছিলো। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে স্টেশনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে আর চালু করার উদ্যােগ নেওয়া হয়নি।

ঈশ্বরগঞ্জ রেলস্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষায় থাকা যাত্রী মোমেনা বেগম জানান, কম টাকা যাতায়াত করা যায় বলে আমরা ট্রেনে চলি। স্টেশন বন্ধ থাকায় আমাদেরকে বাস বা সিএনজি অটোরিকশা দিয়া ময়মনসিংহ যেতে হয়। এতে খরচ বেশি হয়ে যায়। ট্রেনের জন্য এখন বসে আছি। ট্রেন আসবে কিনা তারও ঠিক নাই।

আনন্দ মোহন কলেজ পড়ুয়া ছাত্র সাদমান বিন ওমর জানান, আগে আমরা এক ট্রেনে ময়মনসিংহ যেতাম। কাজ শেষ করে আরেক ট্রেনে ঈশ্বরগঞ্জ চলে আসতে পারতাম। সময় অনুযায়ী ট্রেন ছিলো। যার কারনে আমাদের সুবিধা ছিলো। স্টেশন ও ট্রেন বন্ধ থাকার কারনে আমাদেরকে এখন সড়ক পথে চলতে হয়। এতে যানজটের কারনে আমরা সময়মত কলেজ উপস্থিত থাকতে পারি না। সড়ক তেমন নিরাপদ নয় যাতায়াতের জন্য।

সোহাগী রেলস্টেশন এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ জানান, এই স্টেশন চালু হচ্ছে না বাস ও সিএনজি অটোরিকশা সিন্ডিকেটের কারনে। তাদের ব্যবসা লস হবে বলে বন্ধ করা হয়েছে ট্রেন। সাধারন মানুষের কথা চিন্তা না করেই বন্ধ করা হয়েছে স্টেশন।  ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগী থেকে ময়মনসিংহ কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রাম অনেক যাত্রী থাকে। তাদেরকে ময়মনসিংহ গিয়ে ট্রেনে উঠে যেতে হয়। সিন্ডিকেট ভেঙ্গে পুনরায় স্টেশন ও ট্রেন চালু করতে হবে।

পথচারী সেলিম আকন্দ জানান, শুধু রাতে নয়, দিনে দুপুরে এখন বসে অপরাধীদের আড্ডা। তাদের ভয়ে স্থানীয়রা কিছু বলার সাহস পায় না। স্টেশনের লোহা চুরি করে তারা তাদের মাদকের টাকা জোগাড় করে। রাতে অন্ধকার থাকে স্টেশন এলাকা।

রেলস্টেশন বন্ধ থাকায় বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। উৎপাদিত ফসল ও অন্যান্য পণ্য স্থানান্তরে বেড়েছে পরিবহন খরচ। দেরীতে সরবরাহে নষ্ট হচ্ছে মালামাল।  কৃষক সোহরাব মিয়া জানান, ময়মনসিংহ জেলায় ঈশ্বরগঞ্জে সবচেয়ে বেশি সবজি উৎপাদন হয়। ট্রাকে করে উৎপাদিত সবজি ময়মনসিংহ কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জাশগায় নিয়ে যেতে পরিবহন খরচ বেশি লাগে। এতে লাভ কিছুই থাকে না। পরিবহন সুবিধা না থাকায় আমরা বাধ্য হয়ে বেপারিদের কাছে কম দামে ফসল বিক্রি করে দেই। তা না হলে ফসল পড়ে থেকে নষ্ট হয়। যদি ট্রেন চালু থাকত তাহলে সহজে আমরা কাঁচা মালামাল দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহজে নিয়ে যেতে পারতাম। আমারা লাভবানও হতাম।

সোহাগি এলাকার বাঁশের তৈরীর পাটির কারিগর আবুল মনসুর জানান, শুধু পাটি নয়, এখানে কয়েকটি পাট গুদাম রয়েছে, খাদ্যে গুদাম রয়েছে। যদি রেলস্টেশন আবার চালু করা হয় তাহলে মালামাল সহজেই আনা নেওয়া যেত। 

ময়মনসিংহ রেল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হক জানান, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগী রেলস্টেশন বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে। সেগুলোর অবকাঠামো অবস্থা কেমন আছে, প্রয়োজনীয় জনবল সংখ্যা কত আছে এগুলো বিবেচনা করে স্টেশনগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যােগ নেওয়া হবে।

শুধু আশ্বাস নয়, উন্নত অবকাঠামো ও রেল যোগাযোগ সহজ করতে উদ্যােগ নিবে সরকার, এমনটাই প্রত্যাশা ঈশ্বরগঞ্জবাসীর।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত