শেরপুর     শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

আমেরিকা কি আবারও একটি যুদ্ধে হারল?



আমেরিকা কি আবারও একটি যুদ্ধে হারল?

মঙ্গলবার ‘আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’ বলে হুমকি দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে দুই সপ্তাহ সময় নেওয়ার ঘোষণা দেন। এ সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, আর পেছনে ইসরায়েলকে রেখে, শান্তির জন্য আলোচনা করার চেষ্টা করবে। মজার বিষয় হলো, সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র অনেক এগিয়ে থাকলেও ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছে। তারা হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে, যা তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে জ্বালানির দাম এবং বিশ্ব অর্থবাজারের ওপর তাদের বড় প্রভাব রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে ইরান নিয়ে সংঘাতও অতীতের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

বিগত শতাব্দীর ষাট এবং সত্তরের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র মাঠে লড়াইয়ে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা হেরে যায়। কারণ, টেলিভিশন ও মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়া বাস্তবতা, সরকারের ভুল তথ্য এবং ৫৮ হাজার মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর মানুষের মন ভেঙে দেয়।

আফগানিস্তানেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ছিল, কিন্তু তাতেও সফলতা আসেনি। প্রায় ২০ বছর ধরে রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা করা হয় এবং বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু যে সরকার ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছিল, তা তালেবানের সামনে টিকতে পারেনি।

২০০৩ সালে ইরাকে আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্র সাদ্দাম হোসেনের সরকার সরাতে সক্ষম হয়। কিন্তু এরপর দেশটি অস্থিরতায় ডুবে যায় এবং এর প্রভাব পুরো অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য ক্ষতিকর হয়।

এ ব্যর্থতার পেছনে একটি বড় কারণ হলো, অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ ও শান্তি বিষয়ে যথেষ্ট প্রস্তুত ছিলেন না। তারা শক্তি ব্যবহারের সঠিক শর্ত বুঝতে পারেননি, যুদ্ধের আগে সব দিক বিবেচনা করেননি এবং নিজেদের সামরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির ওপর অতিরিক্ত ভরসা করেছেন। একই ধরনের চিন্তাভাবনা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য ফলাফল ভালোভাবে যাচাই না করার কারণে কৌশলগত ভুল হয়েছে।

এখন মনে হচ্ছে অতীতের সে ব্যর্থতাগুলো ইরান সম্পর্কিত এ সংঘাতেও প্রভাব ফেলেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে হওয়া প্রায় সব সামরিক মহড়াতেই দেখা গেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাহলে কি কেউ ট্রাম্পকে এ সম্ভাবনার কথা বলেনি, নাকি তিনি তা গুরুত্ব দেননি? আর কেন তিনি যুদ্ধের পথে গেলেন, যাকে তিনি ‘অভিযান’ বলেছেন, ঠিক যেমন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভুলভাবে ভেবেছিলেন যে, কয়েকদিনের মধ্যেই কিয়েভ দখল হয়ে যাবে?

সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাটি দিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি প্রথমে বলেন, ইসরায়েল ইরানে হামলা করতে যাচ্ছে, তাই যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো বিকল্প ছিল না, পরে তিনি সেই বক্তব্য থেকে সরে আসেন। আগাম হামলার আশঙ্কাকে যুদ্ধ শুরুর কারণ হিসেবে দেখানো আসলে দুর্বল যুক্তি। যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইসরায়েলকে এগোতে বলতে পারত বা থামাতেও পারত।

তবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে অজ্ঞতা শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল। ইসরায়েল দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দেওয়ার আগে এ বিষয়গুলো দেখা যাচ্ছিল। ট্রাম্পের প্রধান আলোচক স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের পারমাণবিক অস্ত্র বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান ছিল না, ফলে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তারা কার্যকর হতে পারেননি। হোয়াইট হাউস ভুলভাবে ধারণা করেছিল যে, ইরান খুব দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারবে, যা বাস্তবতার তুলনায় অতিরঞ্জিত ছিল।

এ ছাড়া ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সফল অভিযান এবং নিজেদের সামরিক শক্তি নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা ট্রাম্পকে ভুল পথে চালিত করে। তিনি সহজেই বিশ্বাস করেছিলেন ইসরায়েলের সেই বক্তব্য যে তেহরানের সরকার শিগগির ভেঙে পড়বে। কিন্তু এখন বাস্তবতা সামনে এসেছে। প্রতিটি যুদ্ধে জেতা মানেই পুরো যুদ্ধ জেতা নয়। যেমন উত্তর ভিয়েতনাম বা তালেবানের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তেমনি ইরানও হার না মেনে টিকে থাকার কৌশল নিয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়াই তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি, সার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অনেক ফসফেট এবং চিপ তৈরির জন্য দরকারি হিলিয়াম এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হলে তার ফল হবে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়।

ইরানের সাফল্যের মাপকাঠি ছিল না কতটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে বা কতটি ঘাঁটিতে আঘাত করা হয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়ানো এবং শেয়ারবাজারের খারাপ অবস্থা তৈরি করা।

যুদ্ধ শুরুর সময় থেকে এটি বেশ অজনপ্রিয় ছিল। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান এর বিরোধিতা করেছে। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা সমাজে অসন্তোষ বাড়িয়ে তোলে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে।

এখন ট্রাম্প দুটি কঠিন বিকল্পের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসনের মতো তিনি হয় ইরানের শর্ত মেনে যুদ্ধ শেষ করতে পারেন, না হয় সংঘাত বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারেন।

এ মুহূর্তে তিনি আলোচনার পথ বেছে নিয়েছেন, যেমন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল বলেছিলেন, কথা বলেই সমাধান করা ভালো। তবে তিনি যেদিকে যান না কেন, এমন এক পরিস্থিতিতে তিনি নিজেই আটকে গেছেন—যেখানে ভালো কোনো পথ নেই। ফলে ইরান নিয়ে এ সিদ্ধান্তটি তার প্রেসিডেন্ট জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।

লেখক:

হারলান উলম্যান

 ওয়াশিংটন ডিসির আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র উপদেষ্টা। তিনি কিলোউইন গ্রুপ নামের একটি কৌশলগত পরামর্শ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। ফিল্ড মার্শাল লর্ড ডেভিড রিচার্ডসের সঙ্গে তিনি Who Thinks Best Wins নামের বইটির সহলেখক। আলজাজিরায় প্রকাশিত নিবন্ধটি ভাষান্তর করেছেন আবিদ আজাদ

বিষয় : ডোনাল্ড ট্রাম্প

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬


আমেরিকা কি আবারও একটি যুদ্ধে হারল?

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মঙ্গলবার ‘আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’ বলে হুমকি দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে দুই সপ্তাহ সময় নেওয়ার ঘোষণা দেন। এ সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, আর পেছনে ইসরায়েলকে রেখে, শান্তির জন্য আলোচনা করার চেষ্টা করবে। মজার বিষয় হলো, সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র অনেক এগিয়ে থাকলেও ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছে। তারা হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে, যা তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে জ্বালানির দাম এবং বিশ্ব অর্থবাজারের ওপর তাদের বড় প্রভাব রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে ইরান নিয়ে সংঘাতও অতীতের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

বিগত শতাব্দীর ষাট এবং সত্তরের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র মাঠে লড়াইয়ে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা হেরে যায়। কারণ, টেলিভিশন ও মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়া বাস্তবতা, সরকারের ভুল তথ্য এবং ৫৮ হাজার মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর মানুষের মন ভেঙে দেয়।

আফগানিস্তানেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ছিল, কিন্তু তাতেও সফলতা আসেনি। প্রায় ২০ বছর ধরে রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা করা হয় এবং বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু যে সরকার ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছিল, তা তালেবানের সামনে টিকতে পারেনি।

২০০৩ সালে ইরাকে আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্র সাদ্দাম হোসেনের সরকার সরাতে সক্ষম হয়। কিন্তু এরপর দেশটি অস্থিরতায় ডুবে যায় এবং এর প্রভাব পুরো অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য ক্ষতিকর হয়।

এ ব্যর্থতার পেছনে একটি বড় কারণ হলো, অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ ও শান্তি বিষয়ে যথেষ্ট প্রস্তুত ছিলেন না। তারা শক্তি ব্যবহারের সঠিক শর্ত বুঝতে পারেননি, যুদ্ধের আগে সব দিক বিবেচনা করেননি এবং নিজেদের সামরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির ওপর অতিরিক্ত ভরসা করেছেন। একই ধরনের চিন্তাভাবনা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য ফলাফল ভালোভাবে যাচাই না করার কারণে কৌশলগত ভুল হয়েছে।

এখন মনে হচ্ছে অতীতের সে ব্যর্থতাগুলো ইরান সম্পর্কিত এ সংঘাতেও প্রভাব ফেলেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে হওয়া প্রায় সব সামরিক মহড়াতেই দেখা গেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাহলে কি কেউ ট্রাম্পকে এ সম্ভাবনার কথা বলেনি, নাকি তিনি তা গুরুত্ব দেননি? আর কেন তিনি যুদ্ধের পথে গেলেন, যাকে তিনি ‘অভিযান’ বলেছেন, ঠিক যেমন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভুলভাবে ভেবেছিলেন যে, কয়েকদিনের মধ্যেই কিয়েভ দখল হয়ে যাবে?

সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাটি দিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি প্রথমে বলেন, ইসরায়েল ইরানে হামলা করতে যাচ্ছে, তাই যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো বিকল্প ছিল না, পরে তিনি সেই বক্তব্য থেকে সরে আসেন। আগাম হামলার আশঙ্কাকে যুদ্ধ শুরুর কারণ হিসেবে দেখানো আসলে দুর্বল যুক্তি। যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইসরায়েলকে এগোতে বলতে পারত বা থামাতেও পারত।

তবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে অজ্ঞতা শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল। ইসরায়েল দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দেওয়ার আগে এ বিষয়গুলো দেখা যাচ্ছিল। ট্রাম্পের প্রধান আলোচক স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের পারমাণবিক অস্ত্র বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান ছিল না, ফলে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তারা কার্যকর হতে পারেননি। হোয়াইট হাউস ভুলভাবে ধারণা করেছিল যে, ইরান খুব দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারবে, যা বাস্তবতার তুলনায় অতিরঞ্জিত ছিল।

এ ছাড়া ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সফল অভিযান এবং নিজেদের সামরিক শক্তি নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা ট্রাম্পকে ভুল পথে চালিত করে। তিনি সহজেই বিশ্বাস করেছিলেন ইসরায়েলের সেই বক্তব্য যে তেহরানের সরকার শিগগির ভেঙে পড়বে। কিন্তু এখন বাস্তবতা সামনে এসেছে। প্রতিটি যুদ্ধে জেতা মানেই পুরো যুদ্ধ জেতা নয়। যেমন উত্তর ভিয়েতনাম বা তালেবানের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তেমনি ইরানও হার না মেনে টিকে থাকার কৌশল নিয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়াই তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি, সার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অনেক ফসফেট এবং চিপ তৈরির জন্য দরকারি হিলিয়াম এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হলে তার ফল হবে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়।

ইরানের সাফল্যের মাপকাঠি ছিল না কতটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে বা কতটি ঘাঁটিতে আঘাত করা হয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়ানো এবং শেয়ারবাজারের খারাপ অবস্থা তৈরি করা।

যুদ্ধ শুরুর সময় থেকে এটি বেশ অজনপ্রিয় ছিল। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান এর বিরোধিতা করেছে। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা সমাজে অসন্তোষ বাড়িয়ে তোলে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে।

এখন ট্রাম্প দুটি কঠিন বিকল্পের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসনের মতো তিনি হয় ইরানের শর্ত মেনে যুদ্ধ শেষ করতে পারেন, না হয় সংঘাত বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারেন।

এ মুহূর্তে তিনি আলোচনার পথ বেছে নিয়েছেন, যেমন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল বলেছিলেন, কথা বলেই সমাধান করা ভালো। তবে তিনি যেদিকে যান না কেন, এমন এক পরিস্থিতিতে তিনি নিজেই আটকে গেছেন—যেখানে ভালো কোনো পথ নেই। ফলে ইরান নিয়ে এ সিদ্ধান্তটি তার প্রেসিডেন্ট জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।

লেখক:

হারলান উলম্যান

 ওয়াশিংটন ডিসির আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র উপদেষ্টা। তিনি কিলোউইন গ্রুপ নামের একটি কৌশলগত পরামর্শ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। ফিল্ড মার্শাল লর্ড ডেভিড রিচার্ডসের সঙ্গে তিনি Who Thinks Best Wins নামের বইটির সহলেখক। আলজাজিরায় প্রকাশিত নিবন্ধটি ভাষান্তর করেছেন আবিদ আজাদ


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত