শেরপুর     রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

কুষ্টিয়ায় পীরকে পিটিয়ে হত্যা: ২৪ ঘণ্টাও হয়নি মামলা, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি



কুষ্টিয়ায় পীরকে পিটিয়ে হত্যা: ২৪ ঘণ্টাও হয়নি মামলা, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি
সংগৃহীত ছবি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে কথিত পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে টহল জোরদার করেছেন।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি সেখ জয়নুদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শামীম রেজা যদি ধর্মবিরোধী কোনো কাজ করে থাকেন, তবে তা আইনের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত ছিল। তাকে হত্যা করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অপরাধ।’

তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো মামলা না করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে পরিবারের বাইরে ভক্ত বা অন্য কেউ মামলা করেন কিনা তা দেখা হবে। প্রয়োজনে পুলিশ নিজ উদ্যোগেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতেই এক থেকে দেড়শ স্থানীয় ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে ফিলিপনগরের ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’-এ হামলা চালায়। এ সময় শামীম রেজাসহ তার কয়েকজন অনুসারীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে শামীম রেজা মারা যান।

হামলাকারীরা দরবার শরিফে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি অগ্নিসংযোগও করে। এতে দোতলা ভবন ও পাশের গম্বুজবিশিষ্ট স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আসবাবপত্র ও বাদ্যযন্ত্রের অবশিষ্টাংশ দেখা গেছে।

এ ঘটনায় আরও তিনজন অনুসারী মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হন। তারা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম জানান, দৌলতপুরে নিহত পীরের ময়নাতদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।


তিনি বলেন, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নিহতের সারা শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মাথা, ঘাড় ও পিঠে তুলনামূলকভাবে গভীর জখমের আলামত পাওয়া গেছে।


প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব একাধিক আঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে।


স্থানীয়দের দাবি, ইসলাম ও কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পুরোনো ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যার জের ধরে এই সহিংসতা ঘটে।


ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।


স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শামীম রেজা ২০১৮ সালের দিকে পৈতৃক ভিটায় এ আস্তানা গড়ে তোলেন এবং নিজেকে ‘সংস্কারপন্থী ইমাম’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। ২০২১ সালে এক শিশুর লাশ বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে দাফনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি আলোচনায় আসেন। একই বছরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে আটকও করা হয়েছিল।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬


কুষ্টিয়ায় পীরকে পিটিয়ে হত্যা: ২৪ ঘণ্টাও হয়নি মামলা, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে কথিত পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে টহল জোরদার করেছেন।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি সেখ জয়নুদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শামীম রেজা যদি ধর্মবিরোধী কোনো কাজ করে থাকেন, তবে তা আইনের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত ছিল। তাকে হত্যা করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অপরাধ।’

তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো মামলা না করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে পরিবারের বাইরে ভক্ত বা অন্য কেউ মামলা করেন কিনা তা দেখা হবে। প্রয়োজনে পুলিশ নিজ উদ্যোগেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতেই এক থেকে দেড়শ স্থানীয় ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে ফিলিপনগরের ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’-এ হামলা চালায়। এ সময় শামীম রেজাসহ তার কয়েকজন অনুসারীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে শামীম রেজা মারা যান।

হামলাকারীরা দরবার শরিফে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি অগ্নিসংযোগও করে। এতে দোতলা ভবন ও পাশের গম্বুজবিশিষ্ট স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আসবাবপত্র ও বাদ্যযন্ত্রের অবশিষ্টাংশ দেখা গেছে।

এ ঘটনায় আরও তিনজন অনুসারী মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হন। তারা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম জানান, দৌলতপুরে নিহত পীরের ময়নাতদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।


তিনি বলেন, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নিহতের সারা শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মাথা, ঘাড় ও পিঠে তুলনামূলকভাবে গভীর জখমের আলামত পাওয়া গেছে।


প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব একাধিক আঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে।


স্থানীয়দের দাবি, ইসলাম ও কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পুরোনো ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যার জের ধরে এই সহিংসতা ঘটে।


ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।


স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শামীম রেজা ২০১৮ সালের দিকে পৈতৃক ভিটায় এ আস্তানা গড়ে তোলেন এবং নিজেকে ‘সংস্কারপন্থী ইমাম’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। ২০২১ সালে এক শিশুর লাশ বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে দাফনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি আলোচনায় আসেন। একই বছরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে আটকও করা হয়েছিল।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত