শেরপুর     সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

আল্লাহ, আমাকে খাবার দাও, স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি’, সেই নূরজাহান আর নেই



আল্লাহ, আমাকে খাবার দাও, স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি’, সেই নূরজাহান আর নেই

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "আল্লাহ, আমাকে খাবার দাও, আমার স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি" বলে আকুতি জানিয়ে আলোচনায় আসা শেরপুরের বৃদ্ধ সাজু শেখের (৮০) স্ত্রী নূরজাহান বেগম আর নেই। দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকার পর রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একই দিন বিকেল ৫টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইলিয়াস মিয়া নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় ছিলেন নূরজাহান বেগম। রোববার দুপুরে তিনি মারা যান।

পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় ছয় বছর আগে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই নূরজাহান বেগম চলাফেরার সক্ষমতা হারান। আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। অসুস্থ স্ত্রীকে দেখাশোনা করতে গিয়ে বৃদ্ধ সাজু শেখও চরম মানবিক সংকটে পড়েন। নিজেদের খাবার, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগাতেই তাঁদের হিমশিম খেতে হতো।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সাজু শেখকে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে খাবারের জন্য আকুতি জানাতে দেখা যায়। তাঁর অসহায় আবেদন মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায় এবং দ্রুত ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের খোঁজ নেওয়া হয় এবং মানবিক সহায়তাও পৌঁছে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, সাজু শেখ ও নূরজাহান বেগম প্রায় ৬৫ বছর একসঙ্গে সংসার করেছেন। দীর্ঘ এই দাম্পত্য জীবনে দারিদ্র্য, বার্ধক্য ও অসুস্থতার মতো নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও একে অপরের পাশে ছিলেন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অসুস্থ হয়েও সাজু শেখ শেষ দিন পর্যন্ত শয্যাশায়ী স্ত্রীকে সেবা দিয়ে গেছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁদের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। তবে সন্তানরাও আর্থিকভাবে অসচ্ছল। ছেলে নূর ইসলাম দিনমজুরি ও ঠেলাগাড়ি চালিয়ে সাধ্যমতো মা-বাবার দেখাশোনা করলেও নিজের সংসারের ব্যয় মেটাতেই তাকে কঠিন সংগ্রাম করতে হয়। ফলে বৃদ্ধ দম্পতির চিকিৎসা ও ভরণপোষণের পুরো দায়িত্ব বহন করা সম্ভব হয়নি।

নূরজাহান বেগমের মৃত্যুতে দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময়ের সঙ্গ হারিয়ে এখন একাকী জীবন কাটাতে হচ্ছে সাজু শেখকে। যে স্ত্রীকে বাঁচিয়ে রাখতে ও দু'মুঠো খাবারের জন্য একদিন তিনি আকুল আবেদন জানিয়েছিলেন, সেই জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন এই বৃদ্ধ।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


আল্লাহ, আমাকে খাবার দাও, স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি’, সেই নূরজাহান আর নেই

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "আল্লাহ, আমাকে খাবার দাও, আমার স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি" বলে আকুতি জানিয়ে আলোচনায় আসা শেরপুরের বৃদ্ধ সাজু শেখের (৮০) স্ত্রী নূরজাহান বেগম আর নেই। দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকার পর রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একই দিন বিকেল ৫টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইলিয়াস মিয়া নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় ছিলেন নূরজাহান বেগম। রোববার দুপুরে তিনি মারা যান।

পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় ছয় বছর আগে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই নূরজাহান বেগম চলাফেরার সক্ষমতা হারান। আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। অসুস্থ স্ত্রীকে দেখাশোনা করতে গিয়ে বৃদ্ধ সাজু শেখও চরম মানবিক সংকটে পড়েন। নিজেদের খাবার, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগাতেই তাঁদের হিমশিম খেতে হতো।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সাজু শেখকে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে খাবারের জন্য আকুতি জানাতে দেখা যায়। তাঁর অসহায় আবেদন মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায় এবং দ্রুত ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের খোঁজ নেওয়া হয় এবং মানবিক সহায়তাও পৌঁছে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, সাজু শেখ ও নূরজাহান বেগম প্রায় ৬৫ বছর একসঙ্গে সংসার করেছেন। দীর্ঘ এই দাম্পত্য জীবনে দারিদ্র্য, বার্ধক্য ও অসুস্থতার মতো নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও একে অপরের পাশে ছিলেন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অসুস্থ হয়েও সাজু শেখ শেষ দিন পর্যন্ত শয্যাশায়ী স্ত্রীকে সেবা দিয়ে গেছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁদের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। তবে সন্তানরাও আর্থিকভাবে অসচ্ছল। ছেলে নূর ইসলাম দিনমজুরি ও ঠেলাগাড়ি চালিয়ে সাধ্যমতো মা-বাবার দেখাশোনা করলেও নিজের সংসারের ব্যয় মেটাতেই তাকে কঠিন সংগ্রাম করতে হয়। ফলে বৃদ্ধ দম্পতির চিকিৎসা ও ভরণপোষণের পুরো দায়িত্ব বহন করা সম্ভব হয়নি।

নূরজাহান বেগমের মৃত্যুতে দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময়ের সঙ্গ হারিয়ে এখন একাকী জীবন কাটাতে হচ্ছে সাজু শেখকে। যে স্ত্রীকে বাঁচিয়ে রাখতে ও দু'মুঠো খাবারের জন্য একদিন তিনি আকুল আবেদন জানিয়েছিলেন, সেই জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন এই বৃদ্ধ।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত