‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে দেশের ফরেন পলিসি এগিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। পশ্চিমবঙ্গে কোনে সরকার এলো, তাতে বাংলাদেশের ফরেন পলিসির কোনো পরিবর্তন হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের একটি কার্যঅধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারতের নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। বাংলাদেশের ফরেন পলিসি অ্যাক্রস দ্য বোর্ড একই থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে আমাদের ফরেন পলিসি চলবে। সেটা যে সরকারই আসুক না কেন, আমাদের ফরেন পলিসি পরিবর্তন হবে না। আমরা আমাদের ফরেন পলিসি নিয়েই সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এগোবো।’
এর আগে সোমবারও (৪ মে) একই কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক, তার কোনো প্রভাব বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে পড়বে না।’
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করে। সে কারণে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকবে।’
এদিকে বিদেশগামী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দালালচক্রের তৎপরতা রোধে জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দঅসচেতনতার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র সাধারণ মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ পাঠাচ্ছে, ফলে অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এবং জীবনহানির ঘটনাও ঘটছে।‘ এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
ডিসি সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর তাৎপর্য অনেক বেশি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যা সরাসরি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’
তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ক্রীড়াসহ নানা বৈশ্বিক ইস্যুর প্রভাব দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে ডিসিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।’
অবৈধ অভিবাসন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দালাল চক্রের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে অনেক বাংলাদেশি বিপদের মুখে পড়ছেন। এ প্রবণতা রোধে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, যাতে মানুষ সচেতন হয় এবং প্রতারণা থেকে রক্ষা পায় ‘
তিনি বলেন, ‘সরকার দক্ষ ও অর্ধদক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে আগ্রহী। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অবৈধ অভিবাসন কমবে।’
এ লক্ষ্যে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে আরও কার্যকর করতে হবে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকরা যেকোনো সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে দেশের ফরেন পলিসি এগিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। পশ্চিমবঙ্গে কোনে সরকার এলো, তাতে বাংলাদেশের ফরেন পলিসির কোনো পরিবর্তন হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের একটি কার্যঅধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারতের নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। বাংলাদেশের ফরেন পলিসি অ্যাক্রস দ্য বোর্ড একই থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে আমাদের ফরেন পলিসি চলবে। সেটা যে সরকারই আসুক না কেন, আমাদের ফরেন পলিসি পরিবর্তন হবে না। আমরা আমাদের ফরেন পলিসি নিয়েই সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এগোবো।’
এর আগে সোমবারও (৪ মে) একই কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক, তার কোনো প্রভাব বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে পড়বে না।’
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করে। সে কারণে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকবে।’
এদিকে বিদেশগামী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দালালচক্রের তৎপরতা রোধে জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দঅসচেতনতার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র সাধারণ মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ পাঠাচ্ছে, ফলে অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এবং জীবনহানির ঘটনাও ঘটছে।‘ এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
ডিসি সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর তাৎপর্য অনেক বেশি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যা সরাসরি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’
তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ক্রীড়াসহ নানা বৈশ্বিক ইস্যুর প্রভাব দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে ডিসিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।’
অবৈধ অভিবাসন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দালাল চক্রের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে অনেক বাংলাদেশি বিপদের মুখে পড়ছেন। এ প্রবণতা রোধে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, যাতে মানুষ সচেতন হয় এবং প্রতারণা থেকে রক্ষা পায় ‘
তিনি বলেন, ‘সরকার দক্ষ ও অর্ধদক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে আগ্রহী। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অবৈধ অভিবাসন কমবে।’
এ লক্ষ্যে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে আরও কার্যকর করতে হবে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকরা যেকোনো সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন