শেরপুর     বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

আর্কাইভ দেখুন

বকশীগঞ্জে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ মনে করে কীটনাশক খেয়ে কিশোরের মৃত্যু

বকশীগঞ্জে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ মনে করে কীটনাশক খেয়ে কিশোরের মৃত্যু

জামালপুরের বকশীগঞ্জে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ মনে করে ভুলবশত কীটনাশক (গ্যাস ট্যাবলেট) খেয়ে সুমন মিয়া (১৬) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।নিহত সুমন মিয়া বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের জানকিপুর সলই মণ্ডলপাড়া গ্রামের মো. বাবর আলীর ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সুমন মিয়া গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ মনে করে ভুলবশত কীটনাশক খেয়ে ফেলেন। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে শেরপুর সদর হাসপাতালে রেফার করেন। পরে শেরপুর সদর হাসপাতাল থেকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোর ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


জামালপুরে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন

জামালপুরে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন

জামালপুরে পৃথক অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন এবং আরও দুই আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর  জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট ফজলুল হক জানান, সদর থানার স্কুলছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় আলামিন ও সাইদুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আলামিনকে ৩ লাখ এবং সাইদুর রহমানকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে, দেওয়ানগঞ্জ থানার নাবালিকা অপহরণ মামলায় ১৪ বছর বয়সী আসামি স্বাধীনকে শিশু আইনে ১০ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত।এছাড়া ইসলামপুর থানার অপহরণ মামলায় শ্রী জয় দাসকে পৃথক দুই ধারায় ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ২০০ ছাড়াল

ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ২০০ ছাড়াল

ভয়ানক হয়ে ওঠা ডেঙ্গু জ্বরে ভুগে গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে রোগটি নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮৬৮ জন।এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে হয়ে গেল ২০১ জন। আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়ে গেল ৬৭ হাজার ৩৬৭ জন।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গু বিষয়ক বিশেষ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এদিন আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ৮৭২ জন, যা চলতি বছরে সর্বোচ্চ।


হাম উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু, চলতি মাসে একদিনে সর্বোচ্চ

হাম উপসর্গে ১১ শিশুর মৃত্যু, চলতি মাসে একদিনে সর্বোচ্চ

হামের উপসর্গে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ১১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি সেপ্টেম্বর মাসের সর্বোচ্চ।এই সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৭০ জন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১০৭৬ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০১ জন এবং হাম সন্দেহে ৯৭৫ জন।স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে  মারা যাওয়াদের মধ্যে ছয়জন ঢাকা বিভাগের। এর মধ্যে পাঁচজনই ঢাকার দুই সিটির বাসিন্দা।এছাড়া মৃতদের মধ্যে সিলেটের একজন, চট্টগ্রামের দুজন, খুলনার একজন এবং রংপুরের একজন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জন মৃত্যুর বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বরের চারটি অপ্রকাশিত মৃত্যু আজকের রিপোর্টে যোগ করা হয়েছে।প্রতিবেদন আরও বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ১১৩ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগী ১ হাজার ১৫৭ জন।এ নিয়ে চলতি বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৪ হাজার ৩০০। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ২০ হাজার ৮৫১ এবং সন্দেহজনক হাম রোগী ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জন।এছাড়া চলতি বছরে মোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬১২ জন। 


শেরপুরে আমন ধান রক্ষায় কৃষকদের ভরসা ‘বলন’ পদ্ধতি

শেরপুরে আমন ধান রক্ষায় কৃষকদের ভরসা ‘বলন’ পদ্ধতি

বন্যার ক্ষতি থেকে আমন ধান রক্ষায় শেরপুরে কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘বলন’ বা ডাবল ট্রান্সপ্লান্টেশন পদ্ধতি। কৃষকদের দাবি, এই পদ্ধতিতে চাষ করলে বন্যার পানিতে আমনের চারা তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চারা শক্ত ও সতেজ থাকায় ফলনও ভালো পাওয়া যায়। পাশাপাশি রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়।জানা গেছে, পাহাড়ি ঢলে প্রতিবছরই পানিতে তলিয়ে যায় শেরপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ক্ষেত। কোথাও দেখা যায় কোমরসমান পানি, আবার কোথাও পুরোপুরি ডুবে যায় ফসলের জমি। ফলে বন্যার সময় আমনের চারা রক্ষা করা কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে শেরপুর সদরের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, শ্রীবরদীর সোমেশ্বরী, ঝিনাইগাতী মহারশি ও নালিতাবাড়ী চেল্লাখালি এবং ভোগাই নদীর পানি বাড়লেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা দেয় বন্যা। এতে পানিতে ডুবে যায় নিম্নাঞ্চলের আমনের চারা। এই অবস্থায় বন্যার ক্ষতি কমাতে কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘বলন’ পদ্ধতি।কৃষকরা জানান, এই পদ্ধতিতে প্রথমে বীজতলায় চারা উৎপাদন করা হয়। পরে সেই চারা তুলে দ্বিতীয় একটি বীজতলায় আবার রোপণ করা হয়। সেখানে কিছুদিন পরিচর্যার পর শক্ত ও পরিণত চারা মূল জমিতে রোপণ করা হয়। দ্বিতীয় বীজতলায় থাকার কারণে চারার কাণ্ড তুলনামূলক শক্ত হয় এবং শিকড়ও ভালোভাবে গড়ে ওঠে। ফলে বন্যার পানিতে জমি তলিয়ে গেলেও চারা সহজে নষ্ট হয় না। শুধু তাই নয়, প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারা বেশি সবল হওয়ায় রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়। এতে ধানের ফলনও তুলনামূলক ভালো পাওয়া যায়।‘বলন’ পদ্ধতি অনেক কৃষকের কাছে ‘গাইছি’ নামেও পরিচিত। কৃষকেরা বলছেন, দিন দিন এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ বাড়ছে। বিশেষ করে আমন চাষের শেষের দিকে বন্যাপ্রবণ ও নিম্নাঞ্চলের জমিতে এই পদ্ধতিতে চারা রোপণ করেন তারা। এতে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আমনের আবাদ ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে।সদরের কামারেরচর এলাকার বাসিন্দা হাফিজ মিয়া বলেন, এই মৌসুমে একবারের বীজতলার চারা সরাসরি ক্ষেতে লাগাইলে পানি উঠলেই চারাগুলো নষ্ট হয়ে যায়। আর বলন কইরা দুইবার চারা লাগাইলে গাছটা শক্ত হয়। পানি হইলেও সহজে নষ্ট হয় না। আমরা কয়েকবার থেকে এ পদ্ধতিতে চাষ করছি। একই এলাকার আরেক কৃষক আব্দুল মিয়া বলেন, আমাগো এদিকে প্রায়ই পাহাড়ি পানি আসে। আগের মতো একবারের চারা লাগাইলে অনেক সময় পানি উঠার পর চারা টেকে না। এখন বলন কইরা চারা লাগাই। গাছ শক্ত হয়, পানি নামার পরও ভালো থাকে। ফলনও ভালো পাই। ঝিনাইগাতী এলাকার কৃষক রহমত আলী বলেন, আমগর এলাকায় কয়দিন পর পরই পাহাড়ি ঢল আহে, তহন আমরা আমাদের কষ্টের ফসলগুলা রক্ষা করবার পাই না। তাই এ এলাকার বেশিরভাগ মানুষই বলন করে। একই উপজেলার কৃষক রহমান মিয়া বলেন, আমরা এ পদ্ধতিতে আগেও করেছি। আমার বাপ-চাচারাও এ পদ্ধতি চাষ করেছে। আমরাও এখন সেইভাবেই করি। তবে, আগে কম আবাদ হয়েছে এ পদ্ধতি, এখন অনেক বেশি হইতাছে।জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বন্যাপ্রবণ ও নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের জন্য ‘বলন’ পদ্ধতি কার্যকর একটি চাষাবাদ কৌশল। এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারা তুলনামূলক শক্ত হওয়ায় বন্যার পানিতে ক্ষতির ঝুঁকি কম থাকে। এই অঞ্চলের কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরেই আমন মৌসুমে এই পদ্ধতিতে চাষ করে আসছে। আমরাও কৃষকদের এই পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করে যাচ্ছি।তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে শেরপুর জেলায় প্রায় ৯৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে ‘বলন’ বা ডাবল ট্রান্সপ্লান্টেশন পদ্ধতিতে চাষাবাদ হয়েছে।


শেরপুরে পাখি শিকার বন্ধে বিশেষ অভিযান

শেরপুরে পাখি শিকার বন্ধে বিশেষ অভিযান

পাখি শিকার বন্ধে শেরপুর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, শেরপুর বার্ড ক্লাব এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইন এর উদ্যোগে সদর ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আজ ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার ভোর থেকে প্রায় ছয় ঘন্টা এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় পাখি শিকারীর ৮টি হালা (শিকারের সরঞ্জাম) ও ১২টি বক উদ্ধার করা হয়। পরে বকগুলো প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়। এ ছাড়াও পাখির সুরক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে এলাকাবাসীর মধ্যে লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়েছে।নকলার গনপদ্দী ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের মৃত সুরুজ আলীর ছেলে পাখি শিকারী মো. আব্দুর রাজ্জাককে (৪৫) তিনটি বক ও বক শিকারের সরঞ্জামসহ আটক করে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও পঞ্চাশ টাকা অর্থ দন্ডে দন্ডিত করা হয়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০২৬ আইনে এ সাজা প্রদান করেন এঙ্িিকউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আফরিন এ্যানি।অভিযান পরিচালনার সময় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, শেরপুরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার, ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইন্ এর নির্বাহী পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. মুগনিউর রহমান মনিসহ স্বেচ্ছাসেবী এবং অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।শেরপুরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার জানান, পাখি শিকারী মো. আব্দুর রাজ্জাককে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদান করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পাখি শিকার বন্ধে এ ধরণের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে বলে তিনি জানান।


১৫ সার ডিলার কারাগারে: শেরপুরে সারের বাজারে পড়েনি প্রভাব, পর্যবেক্ষণে কৃষি বিভাগ

১৫ সার ডিলার কারাগারে: শেরপুরে সারের বাজারে পড়েনি প্রভাব, পর্যবেক্ষণে কৃষি বিভাগ

শেরপুরে সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে ১০ বিসিআইসি ডিলারসহ ১৫ জন কারাগারে গেলেও সারের বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) শহর ও আশপাশের বিভিন্ন বাজারে সরেজমিনে পরিদর্শন করে এমন চিত্র পেয়েছে কৃষি বিভাগ।সারের সরবরাহ, মজুত ও বিক্রয় পরিস্থিতি দেখতে উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা শেরপুরের নিউমার্কেট, কানাশাখোলা বাজার, ইমামবাড়ী বাজার ও কুসুমহাটি বাজারসহ আশেপাশে বিভিন্ন সার বিক্রির দোকান ও সারের গুদাম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দোকান ও গুদামে সারের মজুত, সরবরাহ এবং বিক্রয় পরিস্থিতি দেখা হয়। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা।পরিদর্শনে উপজেলা কৃষি অফিসার মুসলিমা খানম নীলু, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার নুসরাত জাহান, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. নিজাম উদ্দীন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আলামিন ও মোহাম্মদ আব্দুল মালেক আকন্দ উপস্থিত ছিলেন।এ সময় শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু হানিফ, এখন টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি জাহিদুল খান সৌরভ, নিউজ ২৪-এর জেলা প্রতিনিধি জুবাইদুল ইসলাম, চ্যানেল এস এর জেলা প্রতিনিধি রাসেল ও একাত্তর টিভির জেলা প্রতিনিধি তারিকুল ইসলামসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।সরেজমিনে নিউমার্কেট, কানাশাখোলা বাজার, ইমামবাড়ী বাজার ও কুসুমহাটি বাজারের বিভিন্ন সার বিক্রির দোকান এবং গুদাম পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরিদর্শনকালে এসব বাজারে সারের সরবরাহ ও বিক্রয় কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং ডিলারদের কারাগারে পাঠানোর পরও বাজারে দৃশ্যমান কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বলে দেখা যায়।এর আগে সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে শেরপুর সদর উপজেলার ১৫ ডিলারসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, অধিক মুনাফার আশায় সরকারি বরাদ্দের সার কালোবাজারে বিক্রি করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং কৃষকদের সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হয়েছিল।মামলার ১৫ আসামি কিছুদিন আগে উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নেন। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার তাঁরা জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে নতুন করে জামিনের আবেদন করেন। পরে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ জহিরুল কবির উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


শেরপুরে হতে যাচ্ছে কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব

শেরপুরে হতে যাচ্ছে কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব

‘ভাবের সুরে ও গানে জাগুক মানবতার বোধ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শেরপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব।  সন্ত কবীর ও লালন ফকিরের দর্শন, ভাবধারা এবং সংগীতকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে এ আয়োজন। আগামী শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।আয়োজকরা জানান, কবীর ও লালনের দর্শন মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সাম্য, ভালোবাসা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা জাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই ভাবধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুরে এ  উৎসবের  আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। সভাপতিত্ব করবেন লালন বিশ্বসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও লালন গবেষক আবদেল মান্নান।এ উৎসবে কবীর ও লালনের ভাবধারার গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মানবতা, সাম্য, প্রেম ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা তুলে ধরা হবে।


বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মসজিদের দানবাক্স ভাঙার অভিযোগে যুবক আটক

বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মসজিদের দানবাক্স ভাঙার অভিযোগে যুবক আটক

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মসজিদের দানবাক্সের তালা ভেঙে টাকা চুরির অভিযোগে মোসলেম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।আটক মোসলেম শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার চকপাড়া গ্রামের মৃত আকবর আলী ও মৃত পরিমনের ছেলে।হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা আনসার কমান্ডার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মসজিদের দানবাক্সের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় এক ব্যক্তি। পরে তিনি বিষয়টি আনসার সদস্যদের জানালে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মোসলেমকে আটক করেন।তিনি বলেন, “দানবাক্সটি তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখানে কিছু পয়সা পড়ে ছিল। পরে বকশীগঞ্জ থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।”উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ তামিম বলেন, “ঘটনাটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর আনসার সদস্যরা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।”বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, “মসজিদের দানবাক্সের টাকা চুরির বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।”পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ছয় দফা দাবিতে শেরপুরে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ

ছয় দফা দাবিতে শেরপুরে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর বর্তমান সংকট নিরসন, একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ ও বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ এবং সততা, দক্ষতা ওপেশাদারিত্বের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবিতে শেরপুরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম, শেরপুরের উদ্যোগে সদর উপজেলার ইসলামী ব্যাংকের শাখার সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সভাপতি মাওলানা নুরুল আমীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডা. হাসানুজ্জামান। এতে প্রভাষক জাহিদ আনোয়ার, মতিন, আব্দুল সোবহানসহ ফোরামের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গ্রাহকরা অংশ নেন।  কর্মসূচি থেকে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ছয় দফা দাবি জানায় ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।ফোরামের দাবিগুলো হলো-১. ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জহির হোসেনকে অবিলম্বে পদত্যাগ বা অপসারণ করতে হবে। ২. ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতে দক্ষ, যোগ্য, সৎ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। ৩. ফোরামের দাবি অনুযায়ী, এস আলমের অবৈধভাবে অর্জিত ৮২ শতাংশ শেয়ার ও পাচারকৃত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের প্রকৃত মালিকানা মূল উদ্যোক্তা ও বৈধ মালিকদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। ৪. ব্যাংকের পরিচালনা ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী দুই বছর কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি না দিয়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ নবায়ন করতে হবে। ৫. ব্যাংকের অভ্যন্তরে সক্রিয় এস আলমের চিহ্নিত দালাল ও সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাংক থেকে বহিষ্কার করতে হবে। ৬. ব্যাংক লুটের অভিযোগের বিচার, পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।বিক্ষোভকারীরা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষা, ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।


বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই হাজারো নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকে বদলে দেওয়া হয়েছিল নীতিমালা

বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই হাজারো নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকে বদলে দেওয়া হয়েছিল নীতিমালা

 সুনির্দিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ইসলামী ব্যাংকে  ৮ হাজার ৫৪২ জনকে নিয়োগ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত এই ঘটনা ঘটে। নিয়োগ পাওয়া ১০ হাজার ৮৩২ জনের মধ্যে বড় অংশই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এই প্রক্রিয়ায়।এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কিংবা লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। নিয়োগপ্রাপ্তদের বড় একটি অংশই চট্টগ্রামের, বিশেষ করে সাইফুল আলম ওরফে এস আলমের জন্মস্থান পটিয়ার বাসিন্দা।বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে ইসলামী ব্যাংকের ওই সময়কার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকে মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৫৫১। এর মধ্যে ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয় ১০ হাজার ৮৩২ জনকে। ওই সময় ব্যাংকটি এস আলমের নিয়ন্ত্রণে ছিল। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪৬৬ জন ছিলেন লেটারাল এন্ট্রির মাধ্যমে এবং ১০ হাজার ৩৩৬ জন সরাসরি প্রবেশ পর্যায়ে নিয়োগ পান।ইসলামী ব্যাংকের প্রচলিত নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার বিধান ছিল। প্রার্থীদের আবেদন করার জন্য অন্তত ১৫ দিন সময় দেওয়ার পাশাপাশি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হতো। উভয় পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়া নিয়োগের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতো।কিন্তু ২০১৭ সালে ব্যাংকের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তনের পর এই প্রক্রিয়ার ব্যত্যয় ঘটে। ওই সময় ৮ হাজার ৫৪২ জনকে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে নিয়মসিদ্ধ করার জন্য ওই সময়ে ইসলামী ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়। নীতিমালার ৭.০৪ ধারায় নতুন করে বলা হয়, ‘জরুরি প্রয়োজন’ দেখা দিলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনবলের প্রয়োজন অনুযায়ী এন্ট্রি লেভেল ও লেটারাল এন্ট্রি গ্রেডে কর্মী নিয়োগ দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু আনুষ্ঠানিকতা শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়।তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে মূল নিয়োগবিধির ৭.০১ ধারা কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে। ওই ধারায় বিভিন্ন গ্রেডে নিয়োগের জন্য অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন করার জন্য কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যাংকের কার্যক্রম সচল রাখতে সাধারণত সীমিতসংখ্যক লেটারাল এন্ট্রি বা বিশেষায়িত কারিগরি পদে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকে সেই বিধান ব্যবহার করে প্রবেশনারি পর্যায়েই ছয় হাজারের বেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা অস্বাভাবিক।আরও বলা হয়েছে, ওই সময় ব্যাংকে বড় ধরনের জনবল সংকট ছিল—এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি। বরং বিজ্ঞপ্তি ছাড়া যে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়, তা ব্যাংকের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ছিল বলে সে সময়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এস আলমের নিয়ন্ত্রণকালে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ৮ হাজার ৯৯ জন। এর মধ্যে ৫ হাজার ১৪৮ জনই পটিয়ার বাসিন্দা। পটিয়া এস আলমের জন্মস্থান হওয়ায় এই নিয়োগের ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের প্রার্থীদের আবেদন ও প্রতিযোগিতার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। এর ফলে চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী নিয়োগ পাওয়ায় ব্যাংকে একটি কেন্দ্রীভূত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে দেশের অন্যান্য এলাকার যোগ্য প্রার্থীরা চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তি ও লিখিত পরীক্ষা ছাড়া কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভিন্ন একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল বলে পরিদর্শনে তথ্য পাওয়া গেছে।বাংলাদেশ ব্যাংককে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহের জন্য এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের পটিয়ার বাড়ি এবং চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ কার্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের বাক্স রাখা হতো। এসব বাক্সে ‘পটিয়া জেনারেল’, ‘পটিয়া ক্যাশ’, ‘পুরুষ জেনারেল-সাতকানিয়া-লোহাগাড়া’, ‘পুরুষ ক্যাশ-গন্ডামারা-বাঁশখালী’, ‘মহিলা-ক্যাশ’, ‘নারী’ ও ‘ডিপ্লোমা’সহ বিভিন্ন পরিচয় লেখা থাকত।এসব বাক্সে জমা পড়া সিভি থেকে পছন্দের প্রার্থীদের পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হতো। এরপর প্রধান কার্যালয় থেকেই তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।ইসলামী ব্যাংকের ২৬টি প্রবেশনারি অফিসার ব্যাচের মধ্যে ২৪তম ব্যাচের নিয়োগে নিয়োগবিধি অনুসরণ করা হয়নি বলে প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ব্যাচের নিয়োগে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।২০১৯ সালের শুরুতে চট্টগ্রাম থেকে ৮৪০ জন প্রার্থীর একটি তালিকা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে তাদের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগকে। পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৬৩ জন।ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী পাস নম্বর ছিল ৫০ শতাংশ। কিন্তু ওই নম্বর অর্জন করতে পারেন মাত্র ৩৬ জন। এরপর পাস নম্বর কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। এর ফলে ৫৫২ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৩০৪ জন।এ ছাড়া লিখিত পরীক্ষা না দিয়েই আরও ১২ জনকে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে তালিকার প্রথম ১৭৮ জন এবং লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ১২ জনসহ মোট ১৯০ জনকে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাকি ১২৬ জনকে পাঠানো হয় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে। এই প্রার্থীদের সবাই চট্টগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া ১৯০ জনের মধ্যে ১৮৪ জন পরে চাকরিতে যোগ দেন।বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আরও বেশ কিছু পদে নিয়োগবিধি না মানার তথ্য পাওয়া গেছে।এই সময়ে ২ হাজার ২৩২ জন ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (জেনারেল) নিয়োগ দেওয়া হয়, কিন্তু এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) পদে ২ হাজার ৮২৮ জন এবং ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার পদে ৫০১ জনকে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়।লেটারাল এন্ট্রির ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় ৪৬৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ২৬৪ জনই চট্টগ্রাম জেলার প্রার্থী।পরিদর্শনের সময় ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ঢাকায় কর্মরত ওই সময়ের ১০ কর্মকর্তার লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়।তাদের সবাই জানান, তারা সিভি জমা দিয়ে লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন। এর মধ্যে দুইজন কোনো ধরনের মৌখিক পরীক্ষাও দেননি বলে লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন।কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তারা সুগন্ধা আবাসিক এলাকা ও পাঁচলাইশে অবস্থিত এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের বাড়ি এবং চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ কার্যালয়ে রাখা বাক্সে সিভি জমা দিয়েছিলেন। সেখানেই তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং পরে যোগদানপত্রও দেওয়া হয় বলে তারা জানান।শুধু সাধারণ কর্মী নিয়োগ নয়, উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও নিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ না করার তথ্য পাওয়া গেছে।ইসলামী ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বা ডিএমডি পদে নিয়োগ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আগের পদে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। একই সঙ্গে যোগদানের আগে মোট ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত রয়েছে।কিন্তু এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আকিজ উদ্দিন মাত্র আট বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিয়ে ডিএমডি পদে পদোন্নতি পান। ডিএমডি হওয়ার আগে আগের পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন থাকলেও তার ছিল মাত্র এক বছর চার মাসের অভিজ্ঞতা।অন্যদিকে ডিএমডি মিফতাহ উদ্দিনের মোট অভিজ্ঞতা ছিল ১৭ বছর, যেখানে নীতিমালায় ২০ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত ছিল। ডিএমডি হওয়ার আগে দুই বছরের অভিজ্ঞতার বিধান থাকলেও তার ছিল এক বছরের অভিজ্ঞতা।বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের পর ইসলামী ব্যাংকের নীতিগত পরিবর্তনগুলো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সংযোজন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। একই সঙ্গে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এবং কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়ার বাধ্যবাধকতাও অনেক ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়নি।এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি যুক্ত থাকে না। এটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব বিষয়। তবে ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভূমিকা পালন করে। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর অনিয়ম পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও নির্দেশনা দেওয়া হবে।ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংঘটিত অনিয়ম তদন্তে চারটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ নিরীক্ষার দায়িত্ব দেয়। সেই নিরীক্ষাতেও এস আলমের সময়কার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।বাংলাদেশ ব্যাংক ও বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।এই পরীক্ষা বন্ধের দাবিতে দুই কর্মী হাইকোর্টে রিট করেন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।এরপর ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিশেষ দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার আয়োজন করে।ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫ হাজার ৩৭৩ কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র ৪০২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী সবাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং চাকরিতে বহাল থাকেন।অন্যদিকে ৪ হাজার ৯৭২ জন কর্মকর্তা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পরীক্ষায় অংশ নেননি। ব্যাংকের অভিযোগ, তাদের কয়েকজন পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী কর্মীদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন এবং ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। পাশাপাশি কর্মবিরতি, সড়ক বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগও ওঠে।ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব কর্মকাণ্ডকে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নীতিমালাবিরোধী হিসেবে বিবেচনা করে। পরিচালনা পর্ষদের পরামর্শ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে মানবসম্পদ নীতিমালা অনুসারে ৪ হাজার ৬৮৫ জনকে তিন মাসের বেতন পরিশোধ করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হোসাইন বলেন, ওই কর্মীদের নিয়োগ বৈধ না অবৈধ—শুধু এই বিবেচনায় তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়নি। তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় তারা নিয়োগ পেয়েছিলেন, সেখানে সার্ভিস রুল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করা হয়নি।তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া পূর্ণ করার সুযোগ হিসেবে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা পরীক্ষায় অংশ নেননি এবং অন্যদেরও পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা দিয়েছেন। ফলে ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করায় তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্তের আওতায় দেখেছে বলে জানান তিনি।


ঝিনাইগাতী সীমান্তে চোরাইপথে আনা ১৭ লাখ টাকার কসমেটিকস জব্দ

ঝিনাইগাতী সীমান্তে চোরাইপথে আনা ১৭ লাখ টাকার কসমেটিকস জব্দ

শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার ভোরে উপজেলার গজনী সীমান্ত এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।এ সময় কসমেটিকস বহনে ব্যবহৃত একটি পাওয়ার টিলারের ট্রলিও জব্দ করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি টহল দল গজনী এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ভারত থেকে চোরাইপথে আনা বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস ও একটি পাওয়ার টিলারের ট্রলি জব্দ করা হয়।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, জব্দ করা কসমেটিকস ও ট্রলির আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ২৫০ টাকা। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় তাঁদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ বলেন, শেরপুর সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।


জামালপুর মডেল আলিম মাদ্রাসার জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও আইসিটি ল্যাবের উদ্বোধন

জামালপুর মডেল আলিম মাদ্রাসার জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও আইসিটি ল্যাবের উদ্বোধন

জামালপুর মডেল আলিম মাদ্রাসায় ২০২৬ সালের জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও আইসিটি ল্যাবের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে সংবর্ধনা ও আইসিটি ল্যাবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী।জামালপুর মডেল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শাহাদাত হোসেন মিলনের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক,বকশীগঞ্জের কেআরাই কামিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মোঃ নুরুজ্জামান নুরী সহ আরো অনেকে।এ সময় বক্তারা ময়মনসিংহ বিভাগের মাদ্রাসা বোর্ডে সর্বোচ্চ জিপিএ প্রাপ্ত জামালপুর মডেল মাদ্রাসার জিপিএ ৫ প্রাপ্ত  ১৩  জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি,ইসলামের নীতি নৈতিকতার শিক্ষা গ্রহণ করার সাথে সাথে প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আগামীর সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান। এর আগে জামালপুর মডেল মাদ্রাসার  আইসিটি  ল্যাবের  উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী।


কবে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

কবে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, আগামী বছরের প্রথম দিকে এসব নির্বাচন শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয় এক ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।মীর শাহে আলম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও জেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী বছর ৬ জুনের মধ্যে সব নির্বাচন সম্পন্ন হবে।জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনই কোনো ঝুঁকি দেখছেন না বলেও জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দফতর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর আওতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এ কর্মসূচিতে প্রাথমিকভাবে ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ব্যবহারের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্থানীয় সরকারের যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান আছে এলজিইডি সদর দফতর, সমস্ত সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, নির্বাহী প্রকৌশলী এলজিইডির দফতরগুলো, ওয়াসা, জনস্বাস্থ্য এবং সারা বাংলাদেশের যত হাটবাজার বা গ্রোথ সেন্টার আছে এটা সংখ্যা ৬ হাজার ৫৪৪টি। এই ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের রুফটপে বা ছাদে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যাচ্ছি। এজন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা এডিবি বরাদ্দ থেকে টাকা ছাড় করেছি এবং আলাদা আলাদা চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা এই কর্মসূচি আগামী জানুয়ারির ২৭ তারিখের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে টাকা ছাড় করেছি ৩৭০ কোটি টাকা।মীর শাহে আলম বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে আমরা একটা স্ট্যান্ডার্ড হিসাব নিয়েছি এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও তার একটা হিসাব দিয়েছে যে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ছাদে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে খরচ হবে প্লাস-মাইনাস ৩ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা। এই ৩ লক্ষ ২৬ হাজার টাকার হিসাবকে প্লাস-মাইনাস করেই আমরা বাংলাদেশের সমস্ত ইউনিয়ন পরিষদ যেখানে বিল্ডিং আছে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার। সাড়ে তিন হাজার ইউনিয়ন পরিষদে আমরা টাকা ছাড় করেছি।স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের হাটবাজারের সংখ্যা সারা বাংলাদেশে ৬ হাজার ৫৪৪টি। হাটবাজারের যে অর্থ উপজেলা উন্নয়ন তহবিল থেকে ব্যয় করা হয়, এর ১৫% এবং ১০% টাকা সংশ্লিষ্ট হাটের উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট হাটের ব্যয় করার জন্য নীতিমালাতে নির্ধারিত আছে। আমরা টাকাও পাঠিয়েছি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে আলাদা চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে যে, হাটবাজার উন্নয়নের যে টাকা, এই টাকা থেকে তারা তাদের হাটের যে রুফটপগুলো বা ছাদগুলো আছে সেই ছাদে তারা প্যানেল তৈরি করে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তারা ব্যবহার করবে।মীর শাহে আলম বলেন, আমাদের টার্গেট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিত্যক্ত ছাদকে ব্যবহার করে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাচ্ছি প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট। এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, তারা যে ১৫০ মেগাওয়াট ব্যবহার করবেন, আর বাকি ১৫০ মেগাওয়াট সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্যাকেজ অনুযায়ী নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হিসাবে জাতীয় গ্রিডে এই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ সরকারের কাছে বিক্রি করবে।তিনি বলেন, বিক্রি করলে আমরা হিসাব করে যেটা দেখেছি, আমরা যে টাকা ছাড় করছি এবং তারা যে টাকা ব্যয় করবে, ১০ টাকা ৫০ পয়সা হিসেবে তারা যদি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরকারের কাছে জাতীয় গ্রিডে দিয়ে বিক্রি করে বা গ্রিডে দিয়ে বিক্রি করে টাকা পায়, তাহলে ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে ব্যয়কৃত অর্থ আমাদের উঠে আসবে।


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা তারেক রহমানের

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা তারেক রহমানের

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) বারহাম সালেহ এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। উভয় বৈঠকে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। কিন্তু এ সংকটের স্থায়ী সমাধান বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বোঝা চাপিয়ে রাখার মধ্যে নয়, রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মধ্যেই এর সমাধান নিহিত।রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে মিয়ানমারে এমন একটি পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যেখানে রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে নিজেদের ভূমিতে ফিরতে পারেন।বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বের বিষয়টিও উঠে আসে। সংকটের স্থায়ী সমাধানে কেবল মানবিক সহায়তা নয়, প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতেও সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।বারহাম সালেহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে, সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।অন্যদিকে জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠকেও রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার বিষয়টি আলোচনায় আসে। রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে সংকটটি দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিয়েছে। কয়েক দফা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপত্তা ও অনুকূল পরিবেশের প্রশ্নে তা কার্যকরভাবে এগোয়নি। ফলে কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান বাংলাদেশের জন্য মানবিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত নানা চাপ তৈরি করছে।এর আগে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ. হুসেইন মোহামেদ লতিফ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা।সফর সূচি অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। এরপর তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে এবং স্পেন কর্তৃক আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন। বিকেলে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন।তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে এটিই হবে জাতিসংঘে তার প্রথম ভাষণ এবং প্রথা অনুযায়ী তিনি বাংলায় বক্তব্য রাখবেন।


৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এইচএসসি-সমমানের ফল প্রকাশের প্রস্তুতি

৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এইচএসসি-সমমানের ফল প্রকাশের প্রস্তুতি

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফল প্রস্তুতের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানান আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।তিনি বলেন, নভেম্বরের ৭ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতে পারে। এ লক্ষ্যে ফল প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে।অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা কিছুটা দেরিতে শেষ হয়েছে। তবে ফল প্রস্তুতের কাজে অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সম্ভাব্য সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৫ আগস্টের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল।তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর। ফলে চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দ্রুততার সঙ্গে ফল প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। তাদের জন্য সারাদেশে পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল ২ হাজার ৬৯৭টি।এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। এসব পরীক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন।এ ছাড়া মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।এদিকে, বোর্ডভিত্তিক হিসাবে এবার সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে। এ বোর্ডে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯৩ জন। তারা ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন।এ ছাড়া রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন এবং কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।অন্যদিকে, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন।


পেট্রোল অকটেন পেতে ঘরে বসে যেভাবে নিবন্ধন করবেন ‘ফুয়েল পাস’

পেট্রোল অকটেন পেতে ঘরে বসে যেভাবে নিবন্ধন করবেন ‘ফুয়েল পাস’

বিএডের ‘কালো আইন’ বাতিল চেয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শুরুতেই ১০ম গ্রেড দাবি

বিএডের ‘কালো আইন’ বাতিল চেয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শুরুতেই ১০ম গ্রেড দাবি

শেরপুরে অগ্রণী ব্যাংকের আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

শেরপুরে অগ্রণী ব্যাংকের আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

শিক্ষার্থী সাইফ হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল শেরপুর, গ্রেফতার ৩

শিক্ষার্থী সাইফ হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল শেরপুর, গ্রেফতার ৩

শেরপুরে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধকরণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

শেরপুরে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধকরণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, যেভাবে ধরা পড়ল দুই ‘খুনি’

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, যেভাবে ধরা পড়ল দুই ‘খুনি’

শেরপুর কৃষি ব্যাংকের ঋণের দায়ে নারী গ্রেফতার

শেরপুর কৃষি ব্যাংকের ঋণের দায়ে নারী গ্রেফতার

দুই গোল্ড মেডেলসহ আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডে অভির বিশ্ব রেকর্ড

দুই গোল্ড মেডেলসহ আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডে অভির বিশ্ব রেকর্ড

বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষা

বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষা

নালিতাবাড়ীতে ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

নালিতাবাড়ীতে ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা