শেরপুর     শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

বিএডের ‘কালো আইন’ বাতিল চেয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শুরুতেই ১০ম গ্রেড দাবি



বিএডের ‘কালো আইন’ বাতিল চেয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শুরুতেই ১০ম গ্রেড দাবি
ছবি : প্রতিনিধি

এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে বিদ্যমান বেতন গ্রেড বৈষম্য দূর করে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় যোগদানের শুরু থেকেই ১০ম গ্রেড প্রদান এবং পাঁচ বছরের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে বিএড প্রশিক্ষণ সম্পন্নের সুযোগ দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। একইসঙ্গে বর্তমান এমপিও নীতিমালায় বিএড সংক্রান্ত যে বিধানের কারণে অনেক শিক্ষক ১১তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন, সেটিকে “বৈষম্যমূলক” ও “কালো আইন” আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

এ দাবিতে ইতোমধ্যে শিক্ষকরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন বলেও জানা গেছে। শিক্ষক নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

শিক্ষকদের অভিযোগ, বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা চাকরিতে যোগদানের শুরুতেই ১০ম গ্রেড সুবিধা পান এবং পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএড প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। অথচ এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা, ভৌতবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানসহ মূল বিষয়ের শিক্ষকরা বিএড ডিগ্রি না থাকলে ১১তম গ্রেডে বেতন পান।

অন্যদিকে আইসিটি, হিন্দুধর্ম, কৃষি শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা ও লাইব্রেরিয়ানসহ কিছু বিষয়ের শিক্ষক বিএড ছাড়াই সরাসরি ১০ম গ্রেড সুবিধা পাচ্ছেন। একই প্রতিষ্ঠানে একই মর্যাদার শিক্ষক হয়েও শুধু বিষয়ের ভিন্নতার কারণে এমন বেতন বৈষম্য তৈরি হওয়ায় শিক্ষক সমাজে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

শিক্ষকদের মতে, মূল বিষয়ের শিক্ষকদেরই সবচেয়ে বেশি ক্লাস নিতে হয়, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করতে হয় এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফলাফলের প্রধান দায়িত্ব পালন করতে হয়। অথচ তারাই ১১তম গ্রেডে সীমাবদ্ধ থাকছেন। এতে শিক্ষক সমাজের আত্মমর্যাদা ও পেশাগত উদ্দীপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ফুলপুরের দেওলা প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক মাহিদ হাসান লাভলু বলেন, “আমি ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ হয়ে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেছি। শিক্ষকতাকে মহান পেশা হিসেবে গ্রহণ করলেও বর্তমান এমপিও নীতিমালার কারণে আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো যোগদানের শুরু থেকেই ১০ম গ্রেড এবং পরে পাঁচ বছরের মধ্যে বিএড সম্পন্নের সুযোগ থাকা উচিত।”

ভৌতবিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক বখতিয়ার উদ্দিন বিদ্যুৎ বলেন, “সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে বিদ্যমান গ্রেড বৈষম্য অত্যন্ত হতাশাজনক। একই দায়িত্ব পালন করেও আমরা সমান মর্যাদা পাচ্ছি না। কিছু বিষয়ের শিক্ষক বিএড ছাড়াই ১০ম গ্রেড পেলেও মূল বিষয়ের শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে থাকছেন, যা অযৌক্তিক।”

সহকারী শিক্ষক (আরবি) মাইনুদ্দিন হাসান জিয়া বলেন, “মূল বিষয়ের শিক্ষকরা অধিক একাডেমিক চাপ বহন করেও ন্যায্য গ্রেড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বৈষম্য শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং শিক্ষক সমাজে হতাশা বাড়াচ্ছে।”

শিক্ষকদের দাবি, বিএড একটি প্রশিক্ষণমূলক কোর্স হওয়ায় চাকরিতে প্রবেশের শুরুতেই এটিকে গ্রেড নির্ধারণের শর্ত না করে চাকরিতে যোগদানের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ সম্পন্নের সুযোগ দেওয়া উচিত। তারা এমপিও নীতিমালার বৈষম্যমূলক ধারা সংশোধন করে সকল বিষয়ের শিক্ষকদের জন্য সমান ও একক বেতন গ্রেড নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


বিএডের ‘কালো আইন’ বাতিল চেয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শুরুতেই ১০ম গ্রেড দাবি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image

এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে বিদ্যমান বেতন গ্রেড বৈষম্য দূর করে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় যোগদানের শুরু থেকেই ১০ম গ্রেড প্রদান এবং পাঁচ বছরের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে বিএড প্রশিক্ষণ সম্পন্নের সুযোগ দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। একইসঙ্গে বর্তমান এমপিও নীতিমালায় বিএড সংক্রান্ত যে বিধানের কারণে অনেক শিক্ষক ১১তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন, সেটিকে “বৈষম্যমূলক” ও “কালো আইন” আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

এ দাবিতে ইতোমধ্যে শিক্ষকরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন বলেও জানা গেছে। শিক্ষক নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

শিক্ষকদের অভিযোগ, বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা চাকরিতে যোগদানের শুরুতেই ১০ম গ্রেড সুবিধা পান এবং পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএড প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। অথচ এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা, ভৌতবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানসহ মূল বিষয়ের শিক্ষকরা বিএড ডিগ্রি না থাকলে ১১তম গ্রেডে বেতন পান।

অন্যদিকে আইসিটি, হিন্দুধর্ম, কৃষি শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা ও লাইব্রেরিয়ানসহ কিছু বিষয়ের শিক্ষক বিএড ছাড়াই সরাসরি ১০ম গ্রেড সুবিধা পাচ্ছেন। একই প্রতিষ্ঠানে একই মর্যাদার শিক্ষক হয়েও শুধু বিষয়ের ভিন্নতার কারণে এমন বেতন বৈষম্য তৈরি হওয়ায় শিক্ষক সমাজে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

শিক্ষকদের মতে, মূল বিষয়ের শিক্ষকদেরই সবচেয়ে বেশি ক্লাস নিতে হয়, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করতে হয় এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফলাফলের প্রধান দায়িত্ব পালন করতে হয়। অথচ তারাই ১১তম গ্রেডে সীমাবদ্ধ থাকছেন। এতে শিক্ষক সমাজের আত্মমর্যাদা ও পেশাগত উদ্দীপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ফুলপুরের দেওলা প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক মাহিদ হাসান লাভলু বলেন, “আমি ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ হয়ে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেছি। শিক্ষকতাকে মহান পেশা হিসেবে গ্রহণ করলেও বর্তমান এমপিও নীতিমালার কারণে আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো যোগদানের শুরু থেকেই ১০ম গ্রেড এবং পরে পাঁচ বছরের মধ্যে বিএড সম্পন্নের সুযোগ থাকা উচিত।”

ভৌতবিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক বখতিয়ার উদ্দিন বিদ্যুৎ বলেন, “সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে বিদ্যমান গ্রেড বৈষম্য অত্যন্ত হতাশাজনক। একই দায়িত্ব পালন করেও আমরা সমান মর্যাদা পাচ্ছি না। কিছু বিষয়ের শিক্ষক বিএড ছাড়াই ১০ম গ্রেড পেলেও মূল বিষয়ের শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে থাকছেন, যা অযৌক্তিক।”

সহকারী শিক্ষক (আরবি) মাইনুদ্দিন হাসান জিয়া বলেন, “মূল বিষয়ের শিক্ষকরা অধিক একাডেমিক চাপ বহন করেও ন্যায্য গ্রেড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বৈষম্য শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং শিক্ষক সমাজে হতাশা বাড়াচ্ছে।”

শিক্ষকদের দাবি, বিএড একটি প্রশিক্ষণমূলক কোর্স হওয়ায় চাকরিতে প্রবেশের শুরুতেই এটিকে গ্রেড নির্ধারণের শর্ত না করে চাকরিতে যোগদানের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ সম্পন্নের সুযোগ দেওয়া উচিত। তারা এমপিও নীতিমালার বৈষম্যমূলক ধারা সংশোধন করে সকল বিষয়ের শিক্ষকদের জন্য সমান ও একক বেতন গ্রেড নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত