শেরপুর     মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

শেরপুরে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা, বিচারের দাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ



শেরপুরে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা, বিচারের দাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ছবি: প্রতিনিধি

শেরপুরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে সংঘবদ্ধ যুবকদের হামলায় নিহত হয়েছেন পলিটেকনিক শিক্ষার্থী আল মুহতাছিম সাইফ (১৭)। এ ঘটনার প্রতিবাদে ৯ জুন মঙ্গলবার দুপুরে শেরপুর পলিটেকনিক্যাল কলেজে ছাত্রদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। তারা সাইফ হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও আইনের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি জানান। ৯ জুন মঙ্গলবার সকালে সাইফের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা।


এর আগে, সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত সাইফ শহরের দমদমা কালিগঞ্জ মহল্লার আব্দুল মালেক ও রেবেকা সুলতানা দম্পতির একমাত্র সন্তান। তিনি শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের প্রথম শিফটের দ্বিতীয় পর্বের শিক্ষার্থী ছিলেন। এদিকে শিক্ষার্থী সাইফের মৃত্যুর সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

‎‎জানা যায়, গত ২৯ মে ঈদুল আজহার পরদিন বিকেল ৪ টার দিকে শেরপুরের তাতালপুর বিএম রোড এলাকায় ঘুরতে যায় সাইফ। ওইসময় সাইফকে একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পার্শ্ববর্তী দিঘারপাড় এলাকার নাঈম মিয়া (১৯), পাপ্পু (২০) স্বপন (২১) ও আরমান (২০) ছবি তোলার জন্য সাইফকে সরে যেতে বলে। সাইফ সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং যুবকরা তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে আরও ১০-১৫ জনকে ডেকে এনে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সাইফকে মারধর করে ও রাস্তার পাশে জমে থাকা মাঠের পানিতে চুবিয়ে হত্যাচেষ্টা করে। এতে সাইফ চিৎকার করলে লোকজন ছুটে আসে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। সাইফকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসার পর সোমবার দুপুরে তিনি মারা যান।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে সাইফের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। লাশ শেরপুরে পৌঁছার পর দমদমা কালীগঞ্জ এলাকায় প্রথম নামাজে জানাজা এবং শ্রীবরদীর ভেলুয়া ইউনিয়নের গ্রামের বাড়ি এলাকায় দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, মারধরের ঘটনায় গত ৬ জুন ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন সাইফের মা রেবেকা সুলতানা। ওই মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, শেরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের লাগামহীন তৎপরতা এখন জননিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ হুমকিতে পরিণত হয়েছে। প্রকাশ্যে হামলা, মারধর ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে একের পর এক ঘটনা ঘটলেও অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাওয়ায় তাদের বেপরোয়া মনোভাব আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কলেজ ছাত্র আল মুহতাসিম সায়িবের মর্মান্তিক মৃত্যু প্রমাণ করেছে, কিশোর গ্যাং আর শুধুমাত্র একটি সামাজিক ব্যাধি নয়; এটি এখন ভয়ংকর অপরাধচক্রে রূপ নিয়েছে।

সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, আর কত মায়ের বুক খালি হলে, আর কত সম্ভাবনাময় তরুণের প্রাণ ঝরে গেলে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে? শেরপুরবাসী এখন কেবল আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চায়। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো কিশোর গ্যাং আর কারও সন্তানের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার সাহস না পায়। অপরাধীদের প্রতি কোনো ধরনের শিথিলতা নয়, বরং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬


শেরপুরে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা, বিচারের দাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

featured Image

শেরপুরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে সংঘবদ্ধ যুবকদের হামলায় নিহত হয়েছেন পলিটেকনিক শিক্ষার্থী আল মুহতাছিম সাইফ (১৭)। এ ঘটনার প্রতিবাদে ৯ জুন মঙ্গলবার দুপুরে শেরপুর পলিটেকনিক্যাল কলেজে ছাত্রদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। তারা সাইফ হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও আইনের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি জানান। ৯ জুন মঙ্গলবার সকালে সাইফের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা।


এর আগে, সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত সাইফ শহরের দমদমা কালিগঞ্জ মহল্লার আব্দুল মালেক ও রেবেকা সুলতানা দম্পতির একমাত্র সন্তান। তিনি শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের প্রথম শিফটের দ্বিতীয় পর্বের শিক্ষার্থী ছিলেন। এদিকে শিক্ষার্থী সাইফের মৃত্যুর সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

‎‎জানা যায়, গত ২৯ মে ঈদুল আজহার পরদিন বিকেল ৪ টার দিকে শেরপুরের তাতালপুর বিএম রোড এলাকায় ঘুরতে যায় সাইফ। ওইসময় সাইফকে একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পার্শ্ববর্তী দিঘারপাড় এলাকার নাঈম মিয়া (১৯), পাপ্পু (২০) স্বপন (২১) ও আরমান (২০) ছবি তোলার জন্য সাইফকে সরে যেতে বলে। সাইফ সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং যুবকরা তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে আরও ১০-১৫ জনকে ডেকে এনে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সাইফকে মারধর করে ও রাস্তার পাশে জমে থাকা মাঠের পানিতে চুবিয়ে হত্যাচেষ্টা করে। এতে সাইফ চিৎকার করলে লোকজন ছুটে আসে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। সাইফকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসার পর সোমবার দুপুরে তিনি মারা যান।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে সাইফের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। লাশ শেরপুরে পৌঁছার পর দমদমা কালীগঞ্জ এলাকায় প্রথম নামাজে জানাজা এবং শ্রীবরদীর ভেলুয়া ইউনিয়নের গ্রামের বাড়ি এলাকায় দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, মারধরের ঘটনায় গত ৬ জুন ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন সাইফের মা রেবেকা সুলতানা। ওই মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, শেরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের লাগামহীন তৎপরতা এখন জননিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ হুমকিতে পরিণত হয়েছে। প্রকাশ্যে হামলা, মারধর ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে একের পর এক ঘটনা ঘটলেও অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাওয়ায় তাদের বেপরোয়া মনোভাব আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কলেজ ছাত্র আল মুহতাসিম সায়িবের মর্মান্তিক মৃত্যু প্রমাণ করেছে, কিশোর গ্যাং আর শুধুমাত্র একটি সামাজিক ব্যাধি নয়; এটি এখন ভয়ংকর অপরাধচক্রে রূপ নিয়েছে।

সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, আর কত মায়ের বুক খালি হলে, আর কত সম্ভাবনাময় তরুণের প্রাণ ঝরে গেলে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে? শেরপুরবাসী এখন কেবল আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চায়। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো কিশোর গ্যাং আর কারও সন্তানের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার সাহস না পায়। অপরাধীদের প্রতি কোনো ধরনের শিথিলতা নয়, বরং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত