শেরপুর     শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

দুর্দিনে কংগ্রেসকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টায় মমতা-অভিষেক!



দুর্দিনে কংগ্রেসকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টায় মমতা-অভিষেক!
ছবি: প্রতিনিধি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার ১০ জনপথে গেলেন ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার (৯ জুন) দিল্লির ১০ জনপথে কংগ্রেসনেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। আর বুধবার সকালে ওই বাড়িতেই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।


তৃণমূল সূত্রের খবর, রাহুল এবং অভিষেকের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বৈঠক হয়। দু’জনের মধ্যে ‘ইতিবাচক বৈঠক’ হয়েছে বলে ওই সূত্রের দাবি।

সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে দুই নেতার মধ্যে। কীভাবে, মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে বিজেপি বিরোধিতার প্রশ্নে দলগুলি এককাট্টা হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। 

তবে তৃণমূল সূত্রের খবর, বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথাবার্তা বলেছেন রাহুল এবং অভিষেক।

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর একের পর এক ধাক্কা খাচ্ছে তৃণমূল। পরিষদীয় দলের পর সংসদীয় দলেও ভাঙন ধরেছে। তৃণমূলের ২০ জন লোকসভার এমপি ‘বিদ্রোহী’ হয়ে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

এই পরিস্থিতিতে রাহুল-অভিষেক বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দুর্দিনে কংগ্রেসকে আঁকড়ে ধরে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন মমতা এবং অভিষেক। 

সেই কারণেই মমতা-সোনিয়া বৈঠকের পরের দিনই অভিষেক রাহুলের দুয়ারে গেলেন বলে মনে করছেন অনেকে।

সোমবারই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে মমতা এবং সোনিয়ার সৌজন্যসাক্ষাৎ হয়েছিল। একে অপরকে আলিঙ্গন করেছিলেন তারা। 

তার পরের দিন বিকেলেই সোনিয়ার বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন মমতা। ঘটনাচক্রে, সেই সময়েই আবার সই জাল-কাণ্ডের তদন্তে মমতার বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ।

কংগ্রেসে থাকাকালীন রাজীব গান্ধীর অত্যন্ত প্রিয়পাত্রী ছিলেন মমতা। সেই সূত্র ধরেই সোনিয়ার সঙ্গে মমতার রসায়ন বরাবরই ভাল।

১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল গড়লেও গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভেঙে যায়নি। জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুতে রাহুলের সঙ্গে মমতার মতপার্থক্য সামনে এসেছে একাধিক বার। 

কিন্তু সনিয়া-মমতা সম্পর্কে প্রকাশ্যে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। রাহুলকে একাধিক বার নিশানা করলেও প্রকাশ্যে সনিয়ার সমালোচনা করতে দেখা যায়নি তৃণমূলনেত্রীকে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটে ভরাডুবির পরে প্রকাশ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে সহযোগিতার বার্তাও দিয়েছেন মমতা।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬


দুর্দিনে কংগ্রেসকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টায় মমতা-অভিষেক!

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার ১০ জনপথে গেলেন ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার (৯ জুন) দিল্লির ১০ জনপথে কংগ্রেসনেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। আর বুধবার সকালে ওই বাড়িতেই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।


তৃণমূল সূত্রের খবর, রাহুল এবং অভিষেকের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বৈঠক হয়। দু’জনের মধ্যে ‘ইতিবাচক বৈঠক’ হয়েছে বলে ওই সূত্রের দাবি।

সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে দুই নেতার মধ্যে। কীভাবে, মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে বিজেপি বিরোধিতার প্রশ্নে দলগুলি এককাট্টা হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। 

তবে তৃণমূল সূত্রের খবর, বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথাবার্তা বলেছেন রাহুল এবং অভিষেক।

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর একের পর এক ধাক্কা খাচ্ছে তৃণমূল। পরিষদীয় দলের পর সংসদীয় দলেও ভাঙন ধরেছে। তৃণমূলের ২০ জন লোকসভার এমপি ‘বিদ্রোহী’ হয়ে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

এই পরিস্থিতিতে রাহুল-অভিষেক বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দুর্দিনে কংগ্রেসকে আঁকড়ে ধরে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন মমতা এবং অভিষেক। 

সেই কারণেই মমতা-সোনিয়া বৈঠকের পরের দিনই অভিষেক রাহুলের দুয়ারে গেলেন বলে মনে করছেন অনেকে।

সোমবারই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে মমতা এবং সোনিয়ার সৌজন্যসাক্ষাৎ হয়েছিল। একে অপরকে আলিঙ্গন করেছিলেন তারা। 

তার পরের দিন বিকেলেই সোনিয়ার বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন মমতা। ঘটনাচক্রে, সেই সময়েই আবার সই জাল-কাণ্ডের তদন্তে মমতার বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ।

কংগ্রেসে থাকাকালীন রাজীব গান্ধীর অত্যন্ত প্রিয়পাত্রী ছিলেন মমতা। সেই সূত্র ধরেই সোনিয়ার সঙ্গে মমতার রসায়ন বরাবরই ভাল।

১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল গড়লেও গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভেঙে যায়নি। জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুতে রাহুলের সঙ্গে মমতার মতপার্থক্য সামনে এসেছে একাধিক বার। 

কিন্তু সনিয়া-মমতা সম্পর্কে প্রকাশ্যে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। রাহুলকে একাধিক বার নিশানা করলেও প্রকাশ্যে সনিয়ার সমালোচনা করতে দেখা যায়নি তৃণমূলনেত্রীকে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটে ভরাডুবির পরে প্রকাশ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে সহযোগিতার বার্তাও দিয়েছেন মমতা।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত