শেরপুর     সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

হরমুজ প্রণালি খোলাসহ যা যা থাকছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে



হরমুজ প্রণালি খোলাসহ যা যা থাকছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে
ছবি: প্রতিনিধি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চুক্তির বিভিন্ন শর্ত ও বিষয়বস্তু প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। তবে এসব তথ্য এখনো দুই দেশের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি।


সোমবার (১৫ জুন) ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখে পাকিস্তান। এর কিছুক্ষণ পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা জানান।

এরপর ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন শর্ত প্রকাশ করে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

এ ছাড়া ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরান থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

মেহর নিউজের তথ্যমতে, ইরানের তত্ত্বাবধানে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের পুনর্গঠন কর্মসূচিতে সহায়তা করবে। এ জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবে ইরান।

এ ছাড়া অঞ্চলটিতে নতুন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি না করা এবং অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার অঙ্গীকারও করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মেহর নিউজ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ হওয়া ইরানি তহবিলের অন্তত অর্ধেক মুক্ত না করা পর্যন্ত, ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নৌ-অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতার আলোচনা শুরু হবে না।

বার্তা সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত যে চুক্তি হবে, তা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চুক্তির বিষয়ে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ টোলমুক্তভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়া হবে।’

তিনি বিশ্বের জাহাজগুলোকে ‘ইঞ্জিন চালু’ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তেল পরিবহন আবারও স্বাভাবিকভাবে চলবে।’

পরে আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, তার আগে অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও সফল হননি। তিনি বলেন, এই চুক্তি পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্রাম্প আরও জানান, আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর এবং হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের কাজ শেষ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

এদিকে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে নেয়নি ইসরায়েলের ডানপন্থি রাজনৈতিক মহল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকটি ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম ইতোমধ্যে ট্রাম্পের সমালোচনা শুরু করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থানের মধ্যে এখন দৃশ্যমান পার্থক্য তৈরি হয়েছে। এই চুক্তি কার্যকর হলে ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান সীমিত করতে বা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই চুক্তিকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরাজয় হিসেবে দেখছে। তাদের আশঙ্কা, এই সমঝোতাকে ইরান নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


হরমুজ প্রণালি খোলাসহ যা যা থাকছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চুক্তির বিভিন্ন শর্ত ও বিষয়বস্তু প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। তবে এসব তথ্য এখনো দুই দেশের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি।


সোমবার (১৫ জুন) ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখে পাকিস্তান। এর কিছুক্ষণ পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা জানান।

এরপর ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন শর্ত প্রকাশ করে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

এ ছাড়া ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরান থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

মেহর নিউজের তথ্যমতে, ইরানের তত্ত্বাবধানে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের পুনর্গঠন কর্মসূচিতে সহায়তা করবে। এ জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবে ইরান।

এ ছাড়া অঞ্চলটিতে নতুন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি না করা এবং অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার অঙ্গীকারও করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মেহর নিউজ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ হওয়া ইরানি তহবিলের অন্তত অর্ধেক মুক্ত না করা পর্যন্ত, ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নৌ-অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতার আলোচনা শুরু হবে না।

বার্তা সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত যে চুক্তি হবে, তা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চুক্তির বিষয়ে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ টোলমুক্তভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়া হবে।’

তিনি বিশ্বের জাহাজগুলোকে ‘ইঞ্জিন চালু’ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তেল পরিবহন আবারও স্বাভাবিকভাবে চলবে।’

পরে আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, তার আগে অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও সফল হননি। তিনি বলেন, এই চুক্তি পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্রাম্প আরও জানান, আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর এবং হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের কাজ শেষ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

এদিকে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে নেয়নি ইসরায়েলের ডানপন্থি রাজনৈতিক মহল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকটি ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম ইতোমধ্যে ট্রাম্পের সমালোচনা শুরু করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থানের মধ্যে এখন দৃশ্যমান পার্থক্য তৈরি হয়েছে। এই চুক্তি কার্যকর হলে ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান সীমিত করতে বা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই চুক্তিকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরাজয় হিসেবে দেখছে। তাদের আশঙ্কা, এই সমঝোতাকে ইরান নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত