বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার একইসঙ্গে দুই দেশ সফরে যাচ্ছে তারেক রহমান। রোববার (২১ জুন) প্রথমে যাবেন মালয়েশিয়ায়, সেখান থেকে চীনে। এই দুই দেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী ১৫-১৭টি সমঝোতা স্মারক সই করতে পারেন।
শনিবার (২০ জুন) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া এবং ২৩-২৬ জুন চীন সফর করবেন। দুই সফরসূচি নিয়ে বিস্তারিত জানান তিনি। বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২৮ জন বলে জানান সচিব। তিনি বলেন, ‘মোটামুটি প্রতিটি ক্ষেত্রে সফরসঙ্গীর সংখ্যা যৌক্তিক রাখার চেষ্টা করেছি।’
পররাষ্ট্র সচিব জানান, রোববার দুপুরে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে দুই দিনের জন্য প্রথমে মালয়েশিয়া যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে তার এই সফর। এরপর ২২ জুন রাতে মালয়েশিয়া থেকে যাবেন চীনে।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, মালয়েশিয়া সফরের সময় আগামী ২২ জুন তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। পরে দুই দেশের সরকার প্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ওই বৈঠকে পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক বিষয় আলোচনা হবে। আলোচনার ইস্যু হবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগ। এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপন নিয়ে আলোচনা হবে।
বৈঠকে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া, আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হবে। এছাড়া এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় আর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।
অন্যদিকে চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, মালয়েশিয়া সফর শেষে আগামী ২২ জুন সন্ধ্যায় চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন ২৩ জুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক করার কথা রয়েছে।
ডব্লিউইএফের বার্ষিক সভা সামার দাভোসে অংশগ্রহণকারী কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথাও রয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।
তিনি জানান, চীন সফরের প্রথম দিন বিকেলে ডব্লিউইএফ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক একটি অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন। সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে যোগ দেবেন।
এরপর ২৪ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী সামার দাভোসের ১৩তম বার্ষিক সভার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এবারের এই সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কিল’ । ওই দিন এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর দুপুরে প্রধানমন্ত্রী ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাবেন। সেখানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে থাকবেন।
২৫ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী ও চীনের এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ নামে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। চীনের ব্যবসায়ীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও সম্ভাবনা তুলে ধরবেন। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানাবেন।
একই দিন বিকেলে চীনের গ্রেট হলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেবেন তারেক রহমান। সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় এবং ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন।
পরদিন ২৬ জুন ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
২৬ জুন বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তিয়েনআনমেন স্কয়ারে সেখানকার বীর যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। ওইদিন (২৬ জুন) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন ।
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের মধ্য দিয়ে সহযোগিতার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন পররাষ্ট্র সচিব। বিনিয়োগের জন্য চীনের বেসরকারি খাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে সচিব জানান।
বাংলাদেশে চীনের একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথা রয়েছে এবং সেটির কাজও হচ্ছে বলে জানান তিনি। সেখানে বিভিন্ন বেসরকারি খাতের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে বলে জানানো হয়।
লন্ডনে ১৭ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এরপর তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান থেকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই বিজয়ী হন। একইসঙ্গে তার দল বিএনপি দুইশোর বেশি সিট পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।
এরপর বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব ছেড়ে দেয় ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্র্বতী সরকার। শপথ নিয়ে সেই সরকারে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন তারেক রহমান। এবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের অপেক্ষায় তিনি।

রোববার, ২১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার একইসঙ্গে দুই দেশ সফরে যাচ্ছে তারেক রহমান। রোববার (২১ জুন) প্রথমে যাবেন মালয়েশিয়ায়, সেখান থেকে চীনে। এই দুই দেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী ১৫-১৭টি সমঝোতা স্মারক সই করতে পারেন।
শনিবার (২০ জুন) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া এবং ২৩-২৬ জুন চীন সফর করবেন। দুই সফরসূচি নিয়ে বিস্তারিত জানান তিনি। বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২৮ জন বলে জানান সচিব। তিনি বলেন, ‘মোটামুটি প্রতিটি ক্ষেত্রে সফরসঙ্গীর সংখ্যা যৌক্তিক রাখার চেষ্টা করেছি।’
পররাষ্ট্র সচিব জানান, রোববার দুপুরে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে দুই দিনের জন্য প্রথমে মালয়েশিয়া যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে তার এই সফর। এরপর ২২ জুন রাতে মালয়েশিয়া থেকে যাবেন চীনে।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, মালয়েশিয়া সফরের সময় আগামী ২২ জুন তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। পরে দুই দেশের সরকার প্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ওই বৈঠকে পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক বিষয় আলোচনা হবে। আলোচনার ইস্যু হবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগ। এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপন নিয়ে আলোচনা হবে।
বৈঠকে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া, আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হবে। এছাড়া এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় আর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।
অন্যদিকে চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, মালয়েশিয়া সফর শেষে আগামী ২২ জুন সন্ধ্যায় চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন ২৩ জুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক করার কথা রয়েছে।
ডব্লিউইএফের বার্ষিক সভা সামার দাভোসে অংশগ্রহণকারী কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথাও রয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।
তিনি জানান, চীন সফরের প্রথম দিন বিকেলে ডব্লিউইএফ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক একটি অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন। সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে যোগ দেবেন।
এরপর ২৪ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী সামার দাভোসের ১৩তম বার্ষিক সভার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এবারের এই সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কিল’ । ওই দিন এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর দুপুরে প্রধানমন্ত্রী ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাবেন। সেখানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে থাকবেন।
২৫ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী ও চীনের এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ নামে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। চীনের ব্যবসায়ীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও সম্ভাবনা তুলে ধরবেন। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানাবেন।
একই দিন বিকেলে চীনের গ্রেট হলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেবেন তারেক রহমান। সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় এবং ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন।
পরদিন ২৬ জুন ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
২৬ জুন বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তিয়েনআনমেন স্কয়ারে সেখানকার বীর যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। ওইদিন (২৬ জুন) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন ।
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের মধ্য দিয়ে সহযোগিতার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন পররাষ্ট্র সচিব। বিনিয়োগের জন্য চীনের বেসরকারি খাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে সচিব জানান।
বাংলাদেশে চীনের একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথা রয়েছে এবং সেটির কাজও হচ্ছে বলে জানান তিনি। সেখানে বিভিন্ন বেসরকারি খাতের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে বলে জানানো হয়।
লন্ডনে ১৭ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এরপর তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান থেকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই বিজয়ী হন। একইসঙ্গে তার দল বিএনপি দুইশোর বেশি সিট পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।
এরপর বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব ছেড়ে দেয় ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্র্বতী সরকার। শপথ নিয়ে সেই সরকারে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন তারেক রহমান। এবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের অপেক্ষায় তিনি।

আপনার মতামত লিখুন