শেরপুর     মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে ঝিনাইগাতীর সাহাতি নদী



দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে ঝিনাইগাতীর সাহাতি নদী
ছবি: প্রতিনিধি

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর সাহাতি নদী। এ নদীটি ভূমিদস্যুেদর কবলে পড়েছে। দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার, নদী পুনঃখনন এবং দুই তীরে বাঁধ নির্মাণের দাবিতে সরব হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা।


ঝিনাইগাতী উপজেলার ২ নং ধানশাইল ইউনিয়নের চাপাঝোড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ নদীটি ঝিনাইগাতী উপজেলা সংলগ্ন হয়ে উত্তরের পাহাড়ি ঢলের পানির অন্যতম উৎস। কিন্তু বর্তমানে ভাটির দিকে পানি নিষ্কাশনের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। নদীর দুই তীরের বিপুল পরিমাণ জমি ইতোমধ্যেই স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। অনেকে গাছপালা রোপণ করে নদীর দুপাশের বহু জমি জবরদখল করেছেন। দ্রুত নদীটি খনন ও বেদখল হয়ে যাওয়া জায়গা দখলমুক্ত করা না গেলে ঐতিহ্যবাহী সাহাতি নদী তার অস্তিত্ব হারাবে। এছাড়াও, নদীর উজানে বন্যার সময় পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত এ নদীপথেই প্রবাহিত হয়। কিন্তু নদীর দুই তীরে কোনো বাঁধ না থাকায় প্রতি বছরই বাড়িঘর ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়। গত দুই বছর ধরে সাহাতি নদীর উত্তর পাশে বন্যার ভাঙনের কারণে প্রায় ৪০-৫০ ফুট জায়গা বালিতে পরিণত হয়েছে। এতে প্রায় ১০০-১৫০ একর ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। অনতিবিলম্বে বাঁধ নির্মাণ করা না হলে আসন্ন আমন মৌসুমে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে সাহাতি নদীর দুই তীরে বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার, নদী পুনঃখনন এবং দুই তীরে বাঁধ নির্মাণ করে চাপাঝোড়া এলাকাবাসীকে বহুমুখী সমস্যা থেকে রেহাই দিতে সরকারি হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয়রা মনে করছেন, সরকারের দ্রুত পদক্ষেপই পারে এ নদীকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং এলাকার কৃষকদের জীবনযাত্রাকে স্বাভাবিক করতে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্থানীয়দের চাহিদা অনুযায়ী খাল-নদী পয়ঃনিস্কাশন ও পুনঃখননের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। সাহাতি নদী যেহেতু কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাই বিষয়টি নিয়ে দ্রুত কাজ করার চেষ্টা থাকবে।’

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে ঝিনাইগাতীর সাহাতি নদী

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর সাহাতি নদী। এ নদীটি ভূমিদস্যুেদর কবলে পড়েছে। দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার, নদী পুনঃখনন এবং দুই তীরে বাঁধ নির্মাণের দাবিতে সরব হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা।


ঝিনাইগাতী উপজেলার ২ নং ধানশাইল ইউনিয়নের চাপাঝোড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ নদীটি ঝিনাইগাতী উপজেলা সংলগ্ন হয়ে উত্তরের পাহাড়ি ঢলের পানির অন্যতম উৎস। কিন্তু বর্তমানে ভাটির দিকে পানি নিষ্কাশনের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। নদীর দুই তীরের বিপুল পরিমাণ জমি ইতোমধ্যেই স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। অনেকে গাছপালা রোপণ করে নদীর দুপাশের বহু জমি জবরদখল করেছেন। দ্রুত নদীটি খনন ও বেদখল হয়ে যাওয়া জায়গা দখলমুক্ত করা না গেলে ঐতিহ্যবাহী সাহাতি নদী তার অস্তিত্ব হারাবে। এছাড়াও, নদীর উজানে বন্যার সময় পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত এ নদীপথেই প্রবাহিত হয়। কিন্তু নদীর দুই তীরে কোনো বাঁধ না থাকায় প্রতি বছরই বাড়িঘর ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়। গত দুই বছর ধরে সাহাতি নদীর উত্তর পাশে বন্যার ভাঙনের কারণে প্রায় ৪০-৫০ ফুট জায়গা বালিতে পরিণত হয়েছে। এতে প্রায় ১০০-১৫০ একর ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। অনতিবিলম্বে বাঁধ নির্মাণ করা না হলে আসন্ন আমন মৌসুমে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে সাহাতি নদীর দুই তীরে বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার, নদী পুনঃখনন এবং দুই তীরে বাঁধ নির্মাণ করে চাপাঝোড়া এলাকাবাসীকে বহুমুখী সমস্যা থেকে রেহাই দিতে সরকারি হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয়রা মনে করছেন, সরকারের দ্রুত পদক্ষেপই পারে এ নদীকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং এলাকার কৃষকদের জীবনযাত্রাকে স্বাভাবিক করতে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্থানীয়দের চাহিদা অনুযায়ী খাল-নদী পয়ঃনিস্কাশন ও পুনঃখননের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। সাহাতি নদী যেহেতু কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাই বিষয়টি নিয়ে দ্রুত কাজ করার চেষ্টা থাকবে।’


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত