শেরপুর     মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

নাকুগাঁও স্থলবন্দরে এক মাস ধরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ



নাকুগাঁও স্থলবন্দরে এক মাস ধরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
ছবি: প্রতিনিধি

ভারতের মেঘালয় রাজ্যে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডালু-তুরা মহাসড়ক  বিধ্বস্ত হওয়ায় প্রায় এক মাস ধরে শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন এবং বন্দরে কর্মরত শত শত লোড-আনলোড শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। একইসঙ্গে বন্দরের রাজস্ব আয়ও প্রায় শূন্যের কোঠায় এসে ঠেকেছে।

নাকুগাঁও স্থলবন্দর এবং আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডালু-তুরা জাতীয় মহাসড়কের (NH-217) বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন থেকে বেহাল দশা।  সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সড়কগুলো আরও ধসে পড়ে। ফলে শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বিধ্বস্ত এই সড়কে একের পর এক ট্রাক দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতের ডালু ব্যবসায়ী ও পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা বাংলাদেশে পণ্যবাহী ট্রাক পাঠানো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পশ্চিম গারো হিলস এবং দক্ষিণ গারো হিলস জেলার ডালু-মহেন্দ্রগঞ্জ-গারোবাঁধা-তুরা এবং ডালু-তুরা সড়কের দুটিতেই অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসের কারণে বেশকিছু স্থানে সড়ক বিধ্বস্ত হয় এবং সড়কের উপর মাটি পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে বেশকিছু স্থানে পাথর-কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক সড়কে আটকা পড়ে আছে।   এই পরিস্থিতিতে গত ১০ জুলাই ভারতের মেঘালয় রাজ্য ডালু অঞ্চলের ব্যবসায়ী এবং পরিবহণ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো এক জরুরি বৈঠক করে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সড়ক সংস্কার করে ভারি গাড়ি চলাচলের উপযোগী না করা পর্যন্ত জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে এতো ঝুঁকি নিয়ে বর্ডারের দিকে কোনো পণ্যবাহী গাড়ি পাঠানো হবে না। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই ওপার থেকে পাথর ও কয়লা আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে সর্বশেষ মঙ্গলবার ( ১৪ জুলাই) ভুটানের একটি পাথরবাহী ট্রাক বিশেষ ব্যবস্থায় বিকল্প সড়কে বন্দরে প্রবেশ করেছে। 

এদিকে ভারতের অংশে সড়ক ধসে পণ্য পরিবহণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা চরম বিপাকে পড়েছেন।  বন্দর সচল না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন লোড-আনলোড শ্রমিকরা।

নাকুগাঁও স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতীয় অংশের সড়কটি মেরামতের জন্য ওই দেশের কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সংস্থা (NHIDCL) কাজ শুরু করলেও অতিবৃষ্টির কারণে সংস্কার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে ওপারের   সড়ক মেরামত করা না হলে এই বন্দরে আমদানি-রপ্তানিকারকদের বড় ধরনের লোকসান গুণতে হবে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে।

এ বিষয়ে নাকগাঁও স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বকুল ভারতের ডালু বন্দরের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ধরেন সাংমার বরাত দিয়ে বলেন, নতুন করে পাহাড়ি ঢল বা বৃষ্টি না হলে এবং রোদ থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে   সড়ক সংস্কারের কাজ শেষ হবে। সেক্ষেত্রে এক সপ্তাহের মধ্যে পণ্য আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন তিনি।

এ বিষয়ে নাকুগাঁও স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রায় একমাস ধরে ভারতের অংশে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় পাথর বা কয়লা কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে না।এর উপর অতিবর্ষণ ও পাহাড়ধসের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। তবে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ) সকালে বিশেষ ব্যবস্থায় বিকল্প সড়কে ভুটানের একটি পাথরবাহী ট্রাক ঢুকেছে বন্দরে। প্রায় একমাস ধরে বন্দরে কোনো পণ্য আমদানি না হওয়ার রাজস্ব তহবিল প্রায় শূন্যের কোঠায় থেকেছে।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


নাকুগাঁও স্থলবন্দরে এক মাস ধরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভারতের মেঘালয় রাজ্যে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডালু-তুরা মহাসড়ক  বিধ্বস্ত হওয়ায় প্রায় এক মাস ধরে শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন এবং বন্দরে কর্মরত শত শত লোড-আনলোড শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। একইসঙ্গে বন্দরের রাজস্ব আয়ও প্রায় শূন্যের কোঠায় এসে ঠেকেছে।

নাকুগাঁও স্থলবন্দর এবং আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডালু-তুরা জাতীয় মহাসড়কের (NH-217) বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন থেকে বেহাল দশা।  সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সড়কগুলো আরও ধসে পড়ে। ফলে শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বিধ্বস্ত এই সড়কে একের পর এক ট্রাক দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতের ডালু ব্যবসায়ী ও পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা বাংলাদেশে পণ্যবাহী ট্রাক পাঠানো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পশ্চিম গারো হিলস এবং দক্ষিণ গারো হিলস জেলার ডালু-মহেন্দ্রগঞ্জ-গারোবাঁধা-তুরা এবং ডালু-তুরা সড়কের দুটিতেই অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসের কারণে বেশকিছু স্থানে সড়ক বিধ্বস্ত হয় এবং সড়কের উপর মাটি পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে বেশকিছু স্থানে পাথর-কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক সড়কে আটকা পড়ে আছে।   এই পরিস্থিতিতে গত ১০ জুলাই ভারতের মেঘালয় রাজ্য ডালু অঞ্চলের ব্যবসায়ী এবং পরিবহণ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো এক জরুরি বৈঠক করে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সড়ক সংস্কার করে ভারি গাড়ি চলাচলের উপযোগী না করা পর্যন্ত জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে এতো ঝুঁকি নিয়ে বর্ডারের দিকে কোনো পণ্যবাহী গাড়ি পাঠানো হবে না। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই ওপার থেকে পাথর ও কয়লা আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে সর্বশেষ মঙ্গলবার ( ১৪ জুলাই) ভুটানের একটি পাথরবাহী ট্রাক বিশেষ ব্যবস্থায় বিকল্প সড়কে বন্দরে প্রবেশ করেছে। 

এদিকে ভারতের অংশে সড়ক ধসে পণ্য পরিবহণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা চরম বিপাকে পড়েছেন।  বন্দর সচল না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন লোড-আনলোড শ্রমিকরা।

নাকুগাঁও স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতীয় অংশের সড়কটি মেরামতের জন্য ওই দেশের কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সংস্থা (NHIDCL) কাজ শুরু করলেও অতিবৃষ্টির কারণে সংস্কার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে ওপারের   সড়ক মেরামত করা না হলে এই বন্দরে আমদানি-রপ্তানিকারকদের বড় ধরনের লোকসান গুণতে হবে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে।

এ বিষয়ে নাকগাঁও স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বকুল ভারতের ডালু বন্দরের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ধরেন সাংমার বরাত দিয়ে বলেন, নতুন করে পাহাড়ি ঢল বা বৃষ্টি না হলে এবং রোদ থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে   সড়ক সংস্কারের কাজ শেষ হবে। সেক্ষেত্রে এক সপ্তাহের মধ্যে পণ্য আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন তিনি।

এ বিষয়ে নাকুগাঁও স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রায় একমাস ধরে ভারতের অংশে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় পাথর বা কয়লা কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে না।এর উপর অতিবর্ষণ ও পাহাড়ধসের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। তবে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ) সকালে বিশেষ ব্যবস্থায় বিকল্প সড়কে ভুটানের একটি পাথরবাহী ট্রাক ঢুকেছে বন্দরে। প্রায় একমাস ধরে বন্দরে কোনো পণ্য আমদানি না হওয়ার রাজস্ব তহবিল প্রায় শূন্যের কোঠায় থেকেছে।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত