শেরপুর     মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই নেপালে ফিরলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী



গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই নেপালে ফিরলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহিত ছবি

অর্থপাচারের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার মধ্যেই নেপালে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নেপালি কংগ্রেসের নেতা শের বাহাদুর দেউবা। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেশে ফেরেন ৮০ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।


কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বাইরে অপেক্ষমাণ শত শত সমর্থককে হাত নেড়ে ও হাসিমুখে অভিবাদন জানান দেউবা। তাকে ঘিরে বিমানবন্দর ও পরবর্তী সমাবেশস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেউবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটি মানি লন্ডারিং তদন্ত বিভাগ তদন্ত করছে।

এর আগে গত এপ্রিল মাসে অর্থপাচারের অভিযোগে দেউবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। একই মামলায় তার স্ত্রী ও দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবার বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে চিকিৎসার জন্য নেপাল ছাড়েন দেউবা। এরপর প্রায় ছয় মাস দেশের বাইরে অবস্থান করেন তিনি।

নেপালে নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ক্ষমতায় আসার পর দেশটির প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় ও তদন্ত জোরদার হয়েছে। গত মার্চে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও সেপ্টেম্বরের প্রাণঘাতী বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার অভিযোগে স্বল্প সময়ের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া ‘জেন-জি’ আন্দোলনের পর নেপালের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভে রূপ নেয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি ও রাজনৈতিক স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেন। এর জেরে তৎকালীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়।

বিক্ষোভের সময় দেউবার বাড়িতেও হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের দেউবা ও তার স্ত্রীকে আক্রমণের চেষ্টা করতে দেখা যায়।

এ ছাড়া দেউবার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়ার অভিযোগও ওঠে। তবে বিক্ষোভ তদন্তে গঠিত কমিশনের কাছে দেওয়া বক্তব্যে দেউবা এসব ভিডিওকে সম্ভাব্য ভুয়া বলে দাবি করেন। তিনি ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করলেও এর পেছনে কারা রয়েছে তা জানেন না বলে জানান।

তদন্ত কমিশন দেউবার বাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তিতে পাওয়া বিপুল নগদ অর্থের অভিযোগের বিষয়ে আরও তদন্তের সুপারিশ করেছে।

এদিকে নেপালি কংগ্রেসের নেতৃত্বও হারিয়েছেন দেউবা। তরুণ নেতাদের নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবির মুখে গত জানুয়ারিতে দলটির সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এই প্রবীণ নেতা।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই নেপালে ফিরলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

অর্থপাচারের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার মধ্যেই নেপালে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নেপালি কংগ্রেসের নেতা শের বাহাদুর দেউবা। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেশে ফেরেন ৮০ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।


কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বাইরে অপেক্ষমাণ শত শত সমর্থককে হাত নেড়ে ও হাসিমুখে অভিবাদন জানান দেউবা। তাকে ঘিরে বিমানবন্দর ও পরবর্তী সমাবেশস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেউবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটি মানি লন্ডারিং তদন্ত বিভাগ তদন্ত করছে।

এর আগে গত এপ্রিল মাসে অর্থপাচারের অভিযোগে দেউবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। একই মামলায় তার স্ত্রী ও দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবার বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে চিকিৎসার জন্য নেপাল ছাড়েন দেউবা। এরপর প্রায় ছয় মাস দেশের বাইরে অবস্থান করেন তিনি।

নেপালে নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ক্ষমতায় আসার পর দেশটির প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় ও তদন্ত জোরদার হয়েছে। গত মার্চে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও সেপ্টেম্বরের প্রাণঘাতী বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার অভিযোগে স্বল্প সময়ের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া ‘জেন-জি’ আন্দোলনের পর নেপালের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভে রূপ নেয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি ও রাজনৈতিক স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেন। এর জেরে তৎকালীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়।

বিক্ষোভের সময় দেউবার বাড়িতেও হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের দেউবা ও তার স্ত্রীকে আক্রমণের চেষ্টা করতে দেখা যায়।

এ ছাড়া দেউবার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়ার অভিযোগও ওঠে। তবে বিক্ষোভ তদন্তে গঠিত কমিশনের কাছে দেওয়া বক্তব্যে দেউবা এসব ভিডিওকে সম্ভাব্য ভুয়া বলে দাবি করেন। তিনি ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করলেও এর পেছনে কারা রয়েছে তা জানেন না বলে জানান।

তদন্ত কমিশন দেউবার বাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তিতে পাওয়া বিপুল নগদ অর্থের অভিযোগের বিষয়ে আরও তদন্তের সুপারিশ করেছে।

এদিকে নেপালি কংগ্রেসের নেতৃত্বও হারিয়েছেন দেউবা। তরুণ নেতাদের নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবির মুখে গত জানুয়ারিতে দলটির সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এই প্রবীণ নেতা।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত