ময়মনসিংহে লোকসংস্কৃতির অমূল্য ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশেষ বাউল গানের আসর 'ভাব তরঙ্গ'। সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এই নান্দনিক বাউল গানের আসরের এ পর্বে পরিবেশিত হয় মরমি বাউল সাধক জালাল উদ্দীন খাঁ'র অমর বাণী। শেকড় সন্ধানী এই সুরের মূর্ছনা দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
ময়মনসিংহ নগরীর জয়নুল উদ্যানের ব্যাটবল চত্বর বধ্যভূমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ভাব তরঙ্গ (জালাল পর্ব) বাউল গানের আসরটি শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) বিকাল ৫ টায় শুরু হয়ে রাত ৮ টা পর্যন্ত চলমান থাকে। সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের আয়োজনে এই মহতি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বাঙালি সংস্কৃতির আদি ও খাঁটি রূপটিকে সবার সামনে তুলে ধরা। আয়োজকেরা জানান, প্রতিমাসের দ্বিতীয় শুক্রবারে নিয়মিতভাবে এই আসরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে প্রতি পর্বে আলাদা আলাদা বাউল সাধকের গান পরিবেশন করা হচ্ছে।
এ পর্বটি উৎসর্গ করা হয় মরমি বাউল সাধক জালাল উদ্দীন খাঁ'র প্রতি। জালাল খাঁ রচিত জনপ্রিয় ও ভাবগম্ভীর জালাল গীতির গেয়ে শোনান বাউল সাধক জালাল শাহ্ চিশতি, মযমনসিংহ অঞ্চলের অন্যতম জ্যেষ্ঠ বাউল আব্দুল জব্বার, বাউল স্বদেশ তালুকদার, বাউল মো: শহীদুল ইসলাম, বাউল মো: আব্দুল হাফিজ, বাউল মো: আনোয়ার সরকার, বাউল মো: সিরাজ মন্ডল, বাউল বিল্লাল ফকির।, বাউল সাধন চন্দ্র, বাউল বিপ্লব বর্মন। তাঁদের দরদভরা কণ্ঠ আর আধ্যাত্মিক বাণী উপস্থিত শ্রোতাদের বিমোহিত করে রাখে। জালাল খাঁ রচিত 'ভাব তরঙ্গ এসো আমার সঙ্গে' গানটি দিয়ে বাউলশিল্পীরা তাদের পরিবেশনা শুরু করেন। তারপর একে একে গেয়ে শুনান দিন গেলে দিন আর পাবে না, এ বিশ্ববাজারে সাঁই নিরঞ্জনে গানসহ তাঁর রচিত আত্মতত্ত্ব, পরমতত্ত্ব, নিগূঢ় তত্ত্ব, লোকতত্ত্ব, দেশতত্ত্ব, বিরহতত্ত্বের গান পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্রের চমৎকার মেলবন্ধন পরিবেশনাটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। হারমোনিয়ামে বাউল আনোয়ার সরকার ও বাউল মো: শহীদুল ইসলাম,
দোতরায় বাউল স্বদেশ তালুকদার, বাঁশিতে বাউল বিপ্লব বর্মন, ঢোলে শিপন বর্মন এবং মন্দিরায় বাউল বিল্লাল ফকিরের যুগলবন্দি সুরের এক মোহময় পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রতিটি গানের শেষে করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো উৎসব প্রাঙ্গণ।
সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বাউল সাধনার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ হলো আধ্যাত্মিক বাউল সাধকদের পুণ্যভূমি। যুগ যুগ ধরে এই সাধকেরা মানবতার গান গেয়েছেন, যা আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার শিক্ষা দেয়। বর্তমানের বাণিজ্যিক সংগীতের ভিড়ে আমাদের এই চিরন্তন লোকজ সুরগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি। আর সেই উদ্দেশ্য থেকেই ‘ভাব তরঙ্গ’ অনুষ্ঠানের ধারাবাহিক পথচলা।

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
ময়মনসিংহে লোকসংস্কৃতির অমূল্য ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশেষ বাউল গানের আসর 'ভাব তরঙ্গ'। সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এই নান্দনিক বাউল গানের আসরের এ পর্বে পরিবেশিত হয় মরমি বাউল সাধক জালাল উদ্দীন খাঁ'র অমর বাণী। শেকড় সন্ধানী এই সুরের মূর্ছনা দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
ময়মনসিংহ নগরীর জয়নুল উদ্যানের ব্যাটবল চত্বর বধ্যভূমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ভাব তরঙ্গ (জালাল পর্ব) বাউল গানের আসরটি শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) বিকাল ৫ টায় শুরু হয়ে রাত ৮ টা পর্যন্ত চলমান থাকে। সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের আয়োজনে এই মহতি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বাঙালি সংস্কৃতির আদি ও খাঁটি রূপটিকে সবার সামনে তুলে ধরা। আয়োজকেরা জানান, প্রতিমাসের দ্বিতীয় শুক্রবারে নিয়মিতভাবে এই আসরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে প্রতি পর্বে আলাদা আলাদা বাউল সাধকের গান পরিবেশন করা হচ্ছে।
এ পর্বটি উৎসর্গ করা হয় মরমি বাউল সাধক জালাল উদ্দীন খাঁ'র প্রতি। জালাল খাঁ রচিত জনপ্রিয় ও ভাবগম্ভীর জালাল গীতির গেয়ে শোনান বাউল সাধক জালাল শাহ্ চিশতি, মযমনসিংহ অঞ্চলের অন্যতম জ্যেষ্ঠ বাউল আব্দুল জব্বার, বাউল স্বদেশ তালুকদার, বাউল মো: শহীদুল ইসলাম, বাউল মো: আব্দুল হাফিজ, বাউল মো: আনোয়ার সরকার, বাউল মো: সিরাজ মন্ডল, বাউল বিল্লাল ফকির।, বাউল সাধন চন্দ্র, বাউল বিপ্লব বর্মন। তাঁদের দরদভরা কণ্ঠ আর আধ্যাত্মিক বাণী উপস্থিত শ্রোতাদের বিমোহিত করে রাখে। জালাল খাঁ রচিত 'ভাব তরঙ্গ এসো আমার সঙ্গে' গানটি দিয়ে বাউলশিল্পীরা তাদের পরিবেশনা শুরু করেন। তারপর একে একে গেয়ে শুনান দিন গেলে দিন আর পাবে না, এ বিশ্ববাজারে সাঁই নিরঞ্জনে গানসহ তাঁর রচিত আত্মতত্ত্ব, পরমতত্ত্ব, নিগূঢ় তত্ত্ব, লোকতত্ত্ব, দেশতত্ত্ব, বিরহতত্ত্বের গান পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্রের চমৎকার মেলবন্ধন পরিবেশনাটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। হারমোনিয়ামে বাউল আনোয়ার সরকার ও বাউল মো: শহীদুল ইসলাম,
দোতরায় বাউল স্বদেশ তালুকদার, বাঁশিতে বাউল বিপ্লব বর্মন, ঢোলে শিপন বর্মন এবং মন্দিরায় বাউল বিল্লাল ফকিরের যুগলবন্দি সুরের এক মোহময় পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রতিটি গানের শেষে করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো উৎসব প্রাঙ্গণ।
সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বাউল সাধনার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ হলো আধ্যাত্মিক বাউল সাধকদের পুণ্যভূমি। যুগ যুগ ধরে এই সাধকেরা মানবতার গান গেয়েছেন, যা আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার শিক্ষা দেয়। বর্তমানের বাণিজ্যিক সংগীতের ভিড়ে আমাদের এই চিরন্তন লোকজ সুরগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি। আর সেই উদ্দেশ্য থেকেই ‘ভাব তরঙ্গ’ অনুষ্ঠানের ধারাবাহিক পথচলা।

আপনার মতামত লিখুন