প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে শেরপুর পৌর শহরের দমদমা-কালীগঞ্জ এলাকায় পঞ্চাশ শতক জমির উপর প্রায় ১০ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক জেলা কসাইখানা। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতের লক্ষ্যে নির্মিত কসাইখানাটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো এর কার্যক্রম চালু হয়নি। আধুনিক কসাইখানাটি দ্রুত চালু করা হলে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পরিবেশদূষণ ও অপরিকল্পিতভাবে পশু জবাইয়ের সমস্যাও কমবে।
স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে কসাইখানাটি নির্মিত হওয়ায় সেখানে পশু নিয়ে গিয়ে জবাই করে আবার মাংস শহরে এনে বিক্রি করা তাদের জন্য ব্যয়বহুল। তাদের দাবি, সেখানে পশু জবাই করলে সময় অপচয় ও খরচ দুটোই বেশি হবে।
শেরপুর পৌর শহরের চাপাতলী এলাকার মাংস ব্যবসায়ী রাসেল বলেন, শহর থেকে গিয়ে পশু জবাই করে মাংস নিয়ে আসলে অতিরিক্ত গাড়িভাড়া গুনতে হবে। এতে আমাদের ব্যবসায় লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ক্রেতাদের বড় একটি অংশ নিজেদের চোখের সামনে পশু জবাই না দেখলে মাংসের মান নিয়ে সন্দেহ করেন। এসব কারণে কসাইখানাটি ব্যবহার করতে মাংস ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহ রয়েছে। স্থানীয় আরেক মাংস ব্যবসায়ী সুজন বলেন, শহরের এক পাশে কসাইখানাটি নির্মিত হওয়ায় তাদের সময় অপচয় ও পরিবহন খরচ বেশি পড়বে। এতে মাংসের দামও বেড়ে যেতে পারে। কসাইখানাটি যদি শহরের ভিতরে চাপাতলী এলাকায় নির্মাণ করা হতো, তাহলে আমাদের জন্য সুবিধা হতো।
শেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেজওয়ানুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘ সারা দেশে নির্মিত ১৭টি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক কসাইখানার মধ্যে এটি একটি। স্থানীয় মানুষদের কাছে মানসম্মত ও নিরাপদ মাংস সরবরাহের লক্ষ্যে কসাইখানাটি নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এখান থেকে প্রক্রিয়াজাত মাংস বিদেশে রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কসাইখানাটি চালু ও পরিচালনার মূল দায়িত্ব শেরপুর পৌরসভার।’
শেরপুর পৌরসভার প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা বলেন, ‘গত জুন মাসে আমরা কসাইখানাটি বুঝে পেয়েছি। এটি শহর থেকে কিছুটা এক পাশে হওয়ায় মাংস ব্যবসায়ীরা সেখানে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তবে খুব শিগগিরই তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। তাদের কি চাহিদা, কি করলে তারা আসবে তাদের কাছ থেকে জেনে সেভাবে তাদের নিয়ে আসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে শেরপুর পৌর শহরের দমদমা-কালীগঞ্জ এলাকায় পঞ্চাশ শতক জমির উপর প্রায় ১০ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক জেলা কসাইখানা। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতের লক্ষ্যে নির্মিত কসাইখানাটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো এর কার্যক্রম চালু হয়নি। আধুনিক কসাইখানাটি দ্রুত চালু করা হলে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পরিবেশদূষণ ও অপরিকল্পিতভাবে পশু জবাইয়ের সমস্যাও কমবে।
স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে কসাইখানাটি নির্মিত হওয়ায় সেখানে পশু নিয়ে গিয়ে জবাই করে আবার মাংস শহরে এনে বিক্রি করা তাদের জন্য ব্যয়বহুল। তাদের দাবি, সেখানে পশু জবাই করলে সময় অপচয় ও খরচ দুটোই বেশি হবে।
শেরপুর পৌর শহরের চাপাতলী এলাকার মাংস ব্যবসায়ী রাসেল বলেন, শহর থেকে গিয়ে পশু জবাই করে মাংস নিয়ে আসলে অতিরিক্ত গাড়িভাড়া গুনতে হবে। এতে আমাদের ব্যবসায় লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ক্রেতাদের বড় একটি অংশ নিজেদের চোখের সামনে পশু জবাই না দেখলে মাংসের মান নিয়ে সন্দেহ করেন। এসব কারণে কসাইখানাটি ব্যবহার করতে মাংস ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহ রয়েছে। স্থানীয় আরেক মাংস ব্যবসায়ী সুজন বলেন, শহরের এক পাশে কসাইখানাটি নির্মিত হওয়ায় তাদের সময় অপচয় ও পরিবহন খরচ বেশি পড়বে। এতে মাংসের দামও বেড়ে যেতে পারে। কসাইখানাটি যদি শহরের ভিতরে চাপাতলী এলাকায় নির্মাণ করা হতো, তাহলে আমাদের জন্য সুবিধা হতো।
শেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেজওয়ানুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘ সারা দেশে নির্মিত ১৭টি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক কসাইখানার মধ্যে এটি একটি। স্থানীয় মানুষদের কাছে মানসম্মত ও নিরাপদ মাংস সরবরাহের লক্ষ্যে কসাইখানাটি নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এখান থেকে প্রক্রিয়াজাত মাংস বিদেশে রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কসাইখানাটি চালু ও পরিচালনার মূল দায়িত্ব শেরপুর পৌরসভার।’
শেরপুর পৌরসভার প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা বলেন, ‘গত জুন মাসে আমরা কসাইখানাটি বুঝে পেয়েছি। এটি শহর থেকে কিছুটা এক পাশে হওয়ায় মাংস ব্যবসায়ীরা সেখানে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তবে খুব শিগগিরই তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। তাদের কি চাহিদা, কি করলে তারা আসবে তাদের কাছ থেকে জেনে সেভাবে তাদের নিয়ে আসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

আপনার মতামত লিখুন