শেকড়ের সংস্কৃতির সহজাত শুদ্ধ রুপটি প্রজন্মের সামনে তোলে ধরার মানসে ময়মনসিংহ নগরীতে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে 'ভাব তরঙ্গ' শিরোনামে বাউল গানের আসর। 'দেশীয় সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ' মূলমন্ত্রে উজ্জ্বীবিত ময়মনসিংহ নগরীর গণসাংস্কৃতিক সংগঠন সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘ। নগরীর জয়নুল উদ্যানের ব্যাটবল চত্বর বধ্যভূমি প্রাঙ্গণে প্রতিমাসের দ্বিতীয় শুক্রবারে নিয়মিতাবে এই বাউল গানের আসর আয়োজন করছে।
ইতোমধ্যে দুটি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখ ভাব তরঙ্গ (লালন পর্ব) আয়োজনের মাধ্যমে এর শুভসূচনা হয়। পরবর্তিতে গত ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখ ভাব তরঙ্গের জালাল পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যাতে মরমি বাউল সাধক জালাল উদ্দীন খাঁ'র বিভিন্ন তত্ত্বের গান বাউলশিল্পীরা পরিবেশন করেন। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ ভাব তরঙ্গের করিম পর্ব অনুষ্ঠিত হবে বলে সংগঠন সূত্রে জানা যায়, যাতে বাউল সাধক শাহ আব্দুল করিমের বিভিন্ন ঘরনার গান পরিবেশন করা হবে।
আয়োজক সংগঠনের বরাতে জানা যায, সহজাত শেকড়ের সংস্কৃতির শুদ্ধ স্বরুপ বিকাশের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে ‘ভাব তরঙ্গ’ শিরোনামে বাউল গানের আসর আয়োজন করা হচ্ছে। ভাব তরঙ্গের একেক পর্বে একেক সাধকের গানের বাণী পরিবেশিত হবে। ইতোমধ্যে দুটি পর্বের লালন পর্বে লালনগীতি ও জালাল পর্বে জালালগীতি পরিবেশিত হয়েছে। প্রতিটি পর্বে এভাবেই বাউল সাধকদের প্রখর চিন্তার গানের বাণীগুলো এভাবেই তোলে ধরা হবে।
সংগঠনের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বাঙালী জাতির রয়েছে সহজাত সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ভান্ডার। বাংলার মাটি বাউল সাধকদের পুন্যভূমি। যুগে যুগে বাংলার মাটিতে আগমন ঘটেছে সশিক্ষায় শিক্ষিত বাউল সাধকদের। তাঁরা তাঁদের গানের মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন গণমানুষের অধিকারের কথা, সৃষ্টির কথা, সৃষ্টিতত্ত্বের কথা, দেহতত্ত্বের কথা, মানবতার কথা, সহমর্মিতার কথা, সহনশীলতার কথা, সম্প্রীতির কথা, অসাম্প্রদায়িক সহাবস্থানের কথা। তাঁদের গানের বাণীগুলো শুদ্ধরুপে তোলে ধরা একান্ত প্রয়োজন। এদিকে, আজ সংস্কৃতির নামে অনেক ক্ষেত্রেই সঙ্গীত সস্তা বাণিজ্যিক বিনোদনের উপকরণে পরিণত হচ্ছে। ফলে শেকড়ের সংস্কৃতির প্রকৃত রূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব ভাবনা থেকেই বাউল সাধকদের গানের বাণী ও দর্শনের শুদ্ধ রূপ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘ভাব তরঙ্গ’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে।
গত দুটি পর্বে দেখা যায়, আয়োজনে নেই কোন আভিজাত্য বা গতানুগতিক চিত্র। পুরনো আদলে পরিবেশিত হয়েছে বাউল গান। ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে প্রকৃতির মাঝে মাটিতে বসেছিল ভাব তরঙ্গের আসর। বাউলশিল্পী ও বাদকেরা জমিয়ে তোলেন আসর। বাদকরা মাটিতে বসে বাদ্যযন্ত্রে সংগত করেন আর গায়করা বেহালা কাঁধে নিয়ে, কখনো দুতারা হাতে খালি গলায় গানের সুরের দ্যূতি ছড়িয়ে দেন চারপাশে। আর ভাব তরঙ্গের ভাবের আবেশে মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাগণ। যান্ত্রিকতা থেকে বেড়িয়ে এসে এভাবে সহজাতভাবে শেকড়ের সংস্কৃতি তোলে ধরা একান্ত জরুরি বলে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাগণ মত ব্যক্ত করেন এবং এ ধরণের সহজিয়া আয়োজনের জন্য সমাজ রূপান্তরকে সাধুবাদ জানান।
সংস্কৃতি হলো একটি জাতির জীবনাচার, রীতিনীতি, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, চিন্তা-চেতনা, নিজস্ব ইতিহাসের বহি:প্রকাশ। এই সংস্কৃতিই হলো জাতিগঠনের অন্যতম মাধ্যম। সংস্কৃতির মাধ্যমেই ফুটে উঠে একটি জাতির মানসিক প্রকাশ। যে জাতি সংস্কৃতিগতভাবে যত উন্নত সে জাতির মানসিক বিকাশও তত উন্নত। আমাদের যে সমৃদ্ধ সহজাত স্বকীয় শেকড়ের সংস্কৃতি রয়েছে তার বিকাশে সমাজ রূপান্তরের মত সকলেই এগিয়ে আসা উচিত বলে প্রগতিশীল সচেতন মহল মনে করেন।

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শেকড়ের সংস্কৃতির সহজাত শুদ্ধ রুপটি প্রজন্মের সামনে তোলে ধরার মানসে ময়মনসিংহ নগরীতে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে 'ভাব তরঙ্গ' শিরোনামে বাউল গানের আসর। 'দেশীয় সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ' মূলমন্ত্রে উজ্জ্বীবিত ময়মনসিংহ নগরীর গণসাংস্কৃতিক সংগঠন সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘ। নগরীর জয়নুল উদ্যানের ব্যাটবল চত্বর বধ্যভূমি প্রাঙ্গণে প্রতিমাসের দ্বিতীয় শুক্রবারে নিয়মিতাবে এই বাউল গানের আসর আয়োজন করছে।
ইতোমধ্যে দুটি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখ ভাব তরঙ্গ (লালন পর্ব) আয়োজনের মাধ্যমে এর শুভসূচনা হয়। পরবর্তিতে গত ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখ ভাব তরঙ্গের জালাল পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যাতে মরমি বাউল সাধক জালাল উদ্দীন খাঁ'র বিভিন্ন তত্ত্বের গান বাউলশিল্পীরা পরিবেশন করেন। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ ভাব তরঙ্গের করিম পর্ব অনুষ্ঠিত হবে বলে সংগঠন সূত্রে জানা যায়, যাতে বাউল সাধক শাহ আব্দুল করিমের বিভিন্ন ঘরনার গান পরিবেশন করা হবে।
আয়োজক সংগঠনের বরাতে জানা যায, সহজাত শেকড়ের সংস্কৃতির শুদ্ধ স্বরুপ বিকাশের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে ‘ভাব তরঙ্গ’ শিরোনামে বাউল গানের আসর আয়োজন করা হচ্ছে। ভাব তরঙ্গের একেক পর্বে একেক সাধকের গানের বাণী পরিবেশিত হবে। ইতোমধ্যে দুটি পর্বের লালন পর্বে লালনগীতি ও জালাল পর্বে জালালগীতি পরিবেশিত হয়েছে। প্রতিটি পর্বে এভাবেই বাউল সাধকদের প্রখর চিন্তার গানের বাণীগুলো এভাবেই তোলে ধরা হবে।
সংগঠনের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বাঙালী জাতির রয়েছে সহজাত সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ভান্ডার। বাংলার মাটি বাউল সাধকদের পুন্যভূমি। যুগে যুগে বাংলার মাটিতে আগমন ঘটেছে সশিক্ষায় শিক্ষিত বাউল সাধকদের। তাঁরা তাঁদের গানের মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন গণমানুষের অধিকারের কথা, সৃষ্টির কথা, সৃষ্টিতত্ত্বের কথা, দেহতত্ত্বের কথা, মানবতার কথা, সহমর্মিতার কথা, সহনশীলতার কথা, সম্প্রীতির কথা, অসাম্প্রদায়িক সহাবস্থানের কথা। তাঁদের গানের বাণীগুলো শুদ্ধরুপে তোলে ধরা একান্ত প্রয়োজন। এদিকে, আজ সংস্কৃতির নামে অনেক ক্ষেত্রেই সঙ্গীত সস্তা বাণিজ্যিক বিনোদনের উপকরণে পরিণত হচ্ছে। ফলে শেকড়ের সংস্কৃতির প্রকৃত রূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব ভাবনা থেকেই বাউল সাধকদের গানের বাণী ও দর্শনের শুদ্ধ রূপ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘ভাব তরঙ্গ’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে।
গত দুটি পর্বে দেখা যায়, আয়োজনে নেই কোন আভিজাত্য বা গতানুগতিক চিত্র। পুরনো আদলে পরিবেশিত হয়েছে বাউল গান। ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে প্রকৃতির মাঝে মাটিতে বসেছিল ভাব তরঙ্গের আসর। বাউলশিল্পী ও বাদকেরা জমিয়ে তোলেন আসর। বাদকরা মাটিতে বসে বাদ্যযন্ত্রে সংগত করেন আর গায়করা বেহালা কাঁধে নিয়ে, কখনো দুতারা হাতে খালি গলায় গানের সুরের দ্যূতি ছড়িয়ে দেন চারপাশে। আর ভাব তরঙ্গের ভাবের আবেশে মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাগণ। যান্ত্রিকতা থেকে বেড়িয়ে এসে এভাবে সহজাতভাবে শেকড়ের সংস্কৃতি তোলে ধরা একান্ত জরুরি বলে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাগণ মত ব্যক্ত করেন এবং এ ধরণের সহজিয়া আয়োজনের জন্য সমাজ রূপান্তরকে সাধুবাদ জানান।
সংস্কৃতি হলো একটি জাতির জীবনাচার, রীতিনীতি, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, চিন্তা-চেতনা, নিজস্ব ইতিহাসের বহি:প্রকাশ। এই সংস্কৃতিই হলো জাতিগঠনের অন্যতম মাধ্যম। সংস্কৃতির মাধ্যমেই ফুটে উঠে একটি জাতির মানসিক প্রকাশ। যে জাতি সংস্কৃতিগতভাবে যত উন্নত সে জাতির মানসিক বিকাশও তত উন্নত। আমাদের যে সমৃদ্ধ সহজাত স্বকীয় শেকড়ের সংস্কৃতি রয়েছে তার বিকাশে সমাজ রূপান্তরের মত সকলেই এগিয়ে আসা উচিত বলে প্রগতিশীল সচেতন মহল মনে করেন।

আপনার মতামত লিখুন