দীর্ঘ আট বছর পর এক মোটরসাইকেল চালকের ক্লুলেস হত্যার রহস্য উদঘাটন, আসামীদের গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান ও আলামত উদ্ধারের (মোটারসাইকেল) ঘটনায় বিভাগীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। রাজধানীর সিআইডি কার্যালয়ে ১২ অক্টোবর সোমবার ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সিআইড জামালপুর ইউনিটের পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন।
পুরষ্কার পাওয়ায় পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সিআইডি জামালপুর ইউনিটের কর্মকর্তা ও ফোর্সবৃন্দ। মোস্তাফিজুর রহমানও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সিআইডি প্রধান, রেঞ্জ ডিআইজি সহ সিআইডি জামালপুর ইউনিটের সকলের প্রতি। তিনি বলেন, এই হত্যাকান্ডের জটিল রহস্য উদঘাটনে যিনি প্রতিনিয়ত দিকনির্দেশনা ও বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে পাশে ছিলেন শ্রদ্ধেয় অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার স্বাগতা ভট্টাচার্য্য, প্রযুক্তি দিয়ে অভিযানিক কাজে আন্তরিকভাবে সহায়তা করেছেন সিআইডির এলআইসি টিম, সহায়তা করেছেন সিআইডি জামালপুরের সকল অফিসার ও ফোর্সবৃন্দ এবং বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিয়ে যারা সহায়তা করেছেন তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এই প্রাপ্তি দায়িত্ববোধ ও পেশাগত কাজের প্রতি অনুপ্রেরণা আরও বাড়িয়ে দিল। চাকুরীর বাকি সময় যেন পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে যেতে পারি এজন্য সবার দোয়া চাই।
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানাধীন চুংরাপাড়া এলাকায় ২০১৮ সালের ২ জুলাই ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক আবু বকর নূরী (৫০) হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়েছিলো। ভাড়ার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে ওইদিন দুপুরের পর বকশীগঞ্জ বাজারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন ভিকটিম আবু বকর নূরী। রাতে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ইসলামপুরের চুংরাপাড়া গ্রামের পুবেরবন্দ এলাকায় একটি মৃতদেহ পড়ে থাকার সংবাদ পেয়ে ভিকটিমের স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহটি তার স্বামী হিসেবে শনাক্ত করেন। ঘটনার দিন আনুমানিক রাত সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভিকটিমের মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে কৌশলে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২, তারিখ-০৩/০৭/২০১৮ খ্রি., ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০)।
মামলা দায়েরের পর ইসলামপুর থানা পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরবর্তীতে মামলাটির অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ২০২০ সালে ১৯ আগস্ট মামলাটির তদন্তভার সিআইডি গ্রহণ করে। সিআইডি তদন্তভার গ্রহণের পর মামলার বিভিন্ন দিক নতুনভাবে পর্যালোচনা করে রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। প্রায় আট বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা মামলাটির রহস্য উদঘাটনে সিআইডি জামালপুর ইউনিটের তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে ভিকটিমের মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তির ছবি সংগ্রহ করেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় ছবিগুলো থেকে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হলেও সিআইডি বিভিন্ন মাধ্যমে ছবিগুলো প্রচার করে। এ লক্ষ্যে জামালপুর সহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান, হাট-বাজার ও জনসমাগমস্থলে প্রায় ৫ হাজার পোস্টার লাগানো হয়। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন কনটেন্টের মাধ্যমে তাদের ছবি প্রচার করে তথ্যদাতার জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এ প্রচারণার ফলে বিভিন্ন সূত্র থেকে সন্দিগ্ধ ব্যক্তিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য, তথ্য-উপাত্তের বিশ্লেষণ, ফরেনসিক যাচাই এবং বিশেষ গোয়েন্দ তথ্য ব্যবহার করে ধারাবাহিক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একাধিকবার অভিযান পরিচালনার পর শেষ পর্যন্ত হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত ৩ আসামিকে এ বছরের আগস্ট মাসে গাজীপুর ও জামালপুর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। পরে ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরো কয়েকজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন আসামী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারেক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে। এভাবেই দীর্ঘ আটবছর পর একটি ক্লুলেস হত্যকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
দীর্ঘ আট বছর পর এক মোটরসাইকেল চালকের ক্লুলেস হত্যার রহস্য উদঘাটন, আসামীদের গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান ও আলামত উদ্ধারের (মোটারসাইকেল) ঘটনায় বিভাগীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। রাজধানীর সিআইডি কার্যালয়ে ১২ অক্টোবর সোমবার ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সিআইড জামালপুর ইউনিটের পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন।
পুরষ্কার পাওয়ায় পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সিআইডি জামালপুর ইউনিটের কর্মকর্তা ও ফোর্সবৃন্দ। মোস্তাফিজুর রহমানও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সিআইডি প্রধান, রেঞ্জ ডিআইজি সহ সিআইডি জামালপুর ইউনিটের সকলের প্রতি। তিনি বলেন, এই হত্যাকান্ডের জটিল রহস্য উদঘাটনে যিনি প্রতিনিয়ত দিকনির্দেশনা ও বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে পাশে ছিলেন শ্রদ্ধেয় অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার স্বাগতা ভট্টাচার্য্য, প্রযুক্তি দিয়ে অভিযানিক কাজে আন্তরিকভাবে সহায়তা করেছেন সিআইডির এলআইসি টিম, সহায়তা করেছেন সিআইডি জামালপুরের সকল অফিসার ও ফোর্সবৃন্দ এবং বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিয়ে যারা সহায়তা করেছেন তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এই প্রাপ্তি দায়িত্ববোধ ও পেশাগত কাজের প্রতি অনুপ্রেরণা আরও বাড়িয়ে দিল। চাকুরীর বাকি সময় যেন পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে যেতে পারি এজন্য সবার দোয়া চাই।
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানাধীন চুংরাপাড়া এলাকায় ২০১৮ সালের ২ জুলাই ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক আবু বকর নূরী (৫০) হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়েছিলো। ভাড়ার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে ওইদিন দুপুরের পর বকশীগঞ্জ বাজারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন ভিকটিম আবু বকর নূরী। রাতে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ইসলামপুরের চুংরাপাড়া গ্রামের পুবেরবন্দ এলাকায় একটি মৃতদেহ পড়ে থাকার সংবাদ পেয়ে ভিকটিমের স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহটি তার স্বামী হিসেবে শনাক্ত করেন। ঘটনার দিন আনুমানিক রাত সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভিকটিমের মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে কৌশলে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২, তারিখ-০৩/০৭/২০১৮ খ্রি., ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০)।
মামলা দায়েরের পর ইসলামপুর থানা পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরবর্তীতে মামলাটির অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ২০২০ সালে ১৯ আগস্ট মামলাটির তদন্তভার সিআইডি গ্রহণ করে। সিআইডি তদন্তভার গ্রহণের পর মামলার বিভিন্ন দিক নতুনভাবে পর্যালোচনা করে রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। প্রায় আট বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা মামলাটির রহস্য উদঘাটনে সিআইডি জামালপুর ইউনিটের তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে ভিকটিমের মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তির ছবি সংগ্রহ করেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় ছবিগুলো থেকে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হলেও সিআইডি বিভিন্ন মাধ্যমে ছবিগুলো প্রচার করে। এ লক্ষ্যে জামালপুর সহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান, হাট-বাজার ও জনসমাগমস্থলে প্রায় ৫ হাজার পোস্টার লাগানো হয়। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন কনটেন্টের মাধ্যমে তাদের ছবি প্রচার করে তথ্যদাতার জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এ প্রচারণার ফলে বিভিন্ন সূত্র থেকে সন্দিগ্ধ ব্যক্তিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য, তথ্য-উপাত্তের বিশ্লেষণ, ফরেনসিক যাচাই এবং বিশেষ গোয়েন্দ তথ্য ব্যবহার করে ধারাবাহিক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একাধিকবার অভিযান পরিচালনার পর শেষ পর্যন্ত হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত ৩ আসামিকে এ বছরের আগস্ট মাসে গাজীপুর ও জামালপুর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। পরে ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরো কয়েকজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন আসামী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারেক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে। এভাবেই দীর্ঘ আটবছর পর একটি ক্লুলেস হত্যকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন