বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় জেরিকা তাসনীম দিশাকে (১৯) চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে দিশাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকার কাফরুল থানাধীন নিজ বাসা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন দিশা। ঘটনার আগে তাঁরা একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসেও গিয়েছিলেন।
এ ছাড়া একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে এ মামলার অপর রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) সঙ্গে দিশাকে দেখা গেছে। তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির পাশাপাশি রেস্টুরেন্টেও গিয়েছিলেন তিনি। নিহত তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট (সিডিআর) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঘটনার আগে দিশার সঙ্গে তার একাধিকবার ফোনে কথা হয়েছিল।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডে দিশার জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, অন্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ, আলামত উদ্ধার এবং অপর আসামি দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখতে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় শুক্রবার রাত ১টা ৫ মিনিটে মামলা করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
মামলার এজাহারে তাহসিফের বাবা উল্লেখ করেন, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার পর দীপ নামে তার এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হন ছেলে। রাত বেশি হলেও ফিরে না আসায় তার মা বারবার ফোন করলে তাহসিফ কিছুক্ষণের মধ্যে ফেরার কথা জানান। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারে তার ফোন থেকে মায়ের ফোনে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, রওনা দিয়েছি, আসছি। কিন্তু রাত পেরিয়ে পরদিন বিকেল হলেও তিনি ফিরে আসেননি।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২৮ অক্টোবর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তরখান থেকে নৌ পুলিশ ফোন করে জানায়, রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ২৯ অক্টোবর দুপুরে নৌ পুলিশ পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে। প্রয়োজনীয় ধর্মীয় রীতি শেষে ওই দিন বিকেলে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় জেরিকা তাসনীম দিশাকে (১৯) চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে দিশাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকার কাফরুল থানাধীন নিজ বাসা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন দিশা। ঘটনার আগে তাঁরা একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসেও গিয়েছিলেন।
এ ছাড়া একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে এ মামলার অপর রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) সঙ্গে দিশাকে দেখা গেছে। তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির পাশাপাশি রেস্টুরেন্টেও গিয়েছিলেন তিনি। নিহত তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট (সিডিআর) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঘটনার আগে দিশার সঙ্গে তার একাধিকবার ফোনে কথা হয়েছিল।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডে দিশার জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, অন্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ, আলামত উদ্ধার এবং অপর আসামি দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখতে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় শুক্রবার রাত ১টা ৫ মিনিটে মামলা করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
মামলার এজাহারে তাহসিফের বাবা উল্লেখ করেন, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার পর দীপ নামে তার এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হন ছেলে। রাত বেশি হলেও ফিরে না আসায় তার মা বারবার ফোন করলে তাহসিফ কিছুক্ষণের মধ্যে ফেরার কথা জানান। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারে তার ফোন থেকে মায়ের ফোনে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, রওনা দিয়েছি, আসছি। কিন্তু রাত পেরিয়ে পরদিন বিকেল হলেও তিনি ফিরে আসেননি।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২৮ অক্টোবর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তরখান থেকে নৌ পুলিশ ফোন করে জানায়, রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ২৯ অক্টোবর দুপুরে নৌ পুলিশ পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে। প্রয়োজনীয় ধর্মীয় রীতি শেষে ওই দিন বিকেলে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন