শেরপুর     শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

মাহমুদুল হক রুবেলকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান শেরপুরবাসী



মাহমুদুল হক রুবেলকে  মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান শেরপুরবাসী
সংগৃহিত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করার পর দেশজুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার। শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশকের ইতিহাসে এ আসন থেকে কখনোই কোনো মন্ত্রী বা সমমর্যাদার পদে কাউকে দেখা যায়নি। এবার সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলার মানুষ জনপ্রিয় নেতা ও চারবারের নির্বাচিত এমপি মাহমুদুল হক রুবেলকে জোট সরকারের পূর্ণ মন্ত্রী বা সমমর্যাদার প্রতিনিধির অবস্থানে দেখতে চান। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দ্রুত এই বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে তাদের  প্রত্যাশা।

শেরপুর জেলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি সরকারেই শেরপুর জেলা থেকে মন্ত্রিত্ব বা সমমর্যাদার প্রতিনিধিত্ব ছিল। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদে শেরপুর-১ থেকে খোন্দকার আব্দুল হামিদ ও শেরপুর-২ থেকে অধ্যাপক আব্দুস সালাম বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির আমলে আব্দুস সালাম প্রতিমন্ত্রী এবং সপ্তম সংসদে আওয়ামী লীগ সরকারের পূর্ণ মন্ত্রী হন বেগম মতিয়া চৌধুরী। অষ্টম সংসদে বিএনপির সময় সরকার দলীয় হুইপ হন জাহেদ আলী চৌধুরী। নবম ও দশম সংসদে মতিয়া চৌধুরী কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া আতিউর রহমান আতিক দশম ও একাদশ সংসদে হুইপ এবং সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদে মতিয়া চৌধুরী সংসদ উপনেতার দায়িত্ব পান। তবে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশকের ইতিহাসে শেরপুর-৩ আসন থেকে কখনোই কোনো মন্ত্রী বা সমমর্যাদার পদে কাউকে দেখা যায়নি।

এবারের নির্বাচনে শেরপুর-১ আসনে বিএনপি পরাজিত হলেও বাকি দুটি আসনে দলটির প্রার্থীরা বড় জয় পেয়েছেন। শেরপুর-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী রাজনৈতিকভাবে নতুন। সেই তুলনায় শেরপুর-৩ আসনে চারবার নির্বাচিত মাহমুদুল হক রুবেল একজন প্রবীণ ও দক্ষ রাজনীতিবিদ। প্রয়াত জননেতা ডা. সেরাজুল হকের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজের যোগ্যতা বারবার প্রমাণ করেছেন তিনি। গত ১২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণের পর থেকে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তার কদর আরও বেড়েছে। শহীদ জিয়ার মাজার জিয়ারত ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তার নানামুখী তৎপরতা দেখে এলাকাবাসী এখন তাকে ঘিরেই বড় স্বপ্ন দেখছেন। তাদের বিশ্বাস, জেলার দীর্ঘদিনের সমস্যা যেমন-রেলপথ বাস্তবায়ন, মেডিকেল কলেজ ও সীমান্ত এলাকায় হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে তার মতো অভিজ্ঞ নেতার মন্ত্রিত্ব পাওয়া এখন সময়ের দাবি।

ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, "স্বাধীনতার পর থেকে এই নির্বাচনী এলাকা মন্ত্রিত্বের স্বাদ পায়নি। চারবারের এমপি মাহমুদুল হক রুবেল একজন যোগ্য ও দক্ষ প্রতিনিধি। আমরা বিশ্বাস করি, সরকার প্রধান তারেক রহমান শেরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনা দূর করে তাকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন।"

একই দাবি জানান উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শাহজাহান আকন্দ, সদস্য সচিব লুৎফর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক প্রকৌশলী তৌহিদুর রহমান এবং শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. আব্দুর রহিম দুলাল ও সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলাল।

শেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমকে মুরাদুজ্জামান ও চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. আরিফ হোসেনসহ স্থানীয় বিশিষ্ট নাগরিকগণ মনে করেন, উন্নয়ন ও সঠিক নেতৃত্বের ধারা বজায় রাখতে মাহমুদুল হক রুবেলের কোনো বিকল্প নেই। যোগ্যতার ভিত্তিতে তাকে মন্ত্রিপরিষদে অন্তর্ভুক্ত করলে শেরপুর জেলার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং দল ও সরকার লাভবান হবেন।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


মাহমুদুল হক রুবেলকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান শেরপুরবাসী

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করার পর দেশজুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার। শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশকের ইতিহাসে এ আসন থেকে কখনোই কোনো মন্ত্রী বা সমমর্যাদার পদে কাউকে দেখা যায়নি। এবার সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলার মানুষ জনপ্রিয় নেতা ও চারবারের নির্বাচিত এমপি মাহমুদুল হক রুবেলকে জোট সরকারের পূর্ণ মন্ত্রী বা সমমর্যাদার প্রতিনিধির অবস্থানে দেখতে চান। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দ্রুত এই বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে তাদের  প্রত্যাশা।

শেরপুর জেলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি সরকারেই শেরপুর জেলা থেকে মন্ত্রিত্ব বা সমমর্যাদার প্রতিনিধিত্ব ছিল। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদে শেরপুর-১ থেকে খোন্দকার আব্দুল হামিদ ও শেরপুর-২ থেকে অধ্যাপক আব্দুস সালাম বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির আমলে আব্দুস সালাম প্রতিমন্ত্রী এবং সপ্তম সংসদে আওয়ামী লীগ সরকারের পূর্ণ মন্ত্রী হন বেগম মতিয়া চৌধুরী। অষ্টম সংসদে বিএনপির সময় সরকার দলীয় হুইপ হন জাহেদ আলী চৌধুরী। নবম ও দশম সংসদে মতিয়া চৌধুরী কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া আতিউর রহমান আতিক দশম ও একাদশ সংসদে হুইপ এবং সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদে মতিয়া চৌধুরী সংসদ উপনেতার দায়িত্ব পান। তবে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশকের ইতিহাসে শেরপুর-৩ আসন থেকে কখনোই কোনো মন্ত্রী বা সমমর্যাদার পদে কাউকে দেখা যায়নি।

এবারের নির্বাচনে শেরপুর-১ আসনে বিএনপি পরাজিত হলেও বাকি দুটি আসনে দলটির প্রার্থীরা বড় জয় পেয়েছেন। শেরপুর-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী রাজনৈতিকভাবে নতুন। সেই তুলনায় শেরপুর-৩ আসনে চারবার নির্বাচিত মাহমুদুল হক রুবেল একজন প্রবীণ ও দক্ষ রাজনীতিবিদ। প্রয়াত জননেতা ডা. সেরাজুল হকের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজের যোগ্যতা বারবার প্রমাণ করেছেন তিনি। গত ১২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণের পর থেকে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তার কদর আরও বেড়েছে। শহীদ জিয়ার মাজার জিয়ারত ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তার নানামুখী তৎপরতা দেখে এলাকাবাসী এখন তাকে ঘিরেই বড় স্বপ্ন দেখছেন। তাদের বিশ্বাস, জেলার দীর্ঘদিনের সমস্যা যেমন-রেলপথ বাস্তবায়ন, মেডিকেল কলেজ ও সীমান্ত এলাকায় হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে তার মতো অভিজ্ঞ নেতার মন্ত্রিত্ব পাওয়া এখন সময়ের দাবি।

ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, "স্বাধীনতার পর থেকে এই নির্বাচনী এলাকা মন্ত্রিত্বের স্বাদ পায়নি। চারবারের এমপি মাহমুদুল হক রুবেল একজন যোগ্য ও দক্ষ প্রতিনিধি। আমরা বিশ্বাস করি, সরকার প্রধান তারেক রহমান শেরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনা দূর করে তাকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন।"

একই দাবি জানান উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শাহজাহান আকন্দ, সদস্য সচিব লুৎফর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক প্রকৌশলী তৌহিদুর রহমান এবং শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. আব্দুর রহিম দুলাল ও সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলাল।

শেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমকে মুরাদুজ্জামান ও চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. আরিফ হোসেনসহ স্থানীয় বিশিষ্ট নাগরিকগণ মনে করেন, উন্নয়ন ও সঠিক নেতৃত্বের ধারা বজায় রাখতে মাহমুদুল হক রুবেলের কোনো বিকল্প নেই। যোগ্যতার ভিত্তিতে তাকে মন্ত্রিপরিষদে অন্তর্ভুক্ত করলে শেরপুর জেলার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং দল ও সরকার লাভবান হবেন।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত