শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ও নলকুড়া ইউনিয়নে নকল বীজধান আবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় দেড় শতাধিক কৃষক।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, চলতি বোরো মৌসুমে ঝিনাইগাতী বাজারের মেসার্স নুরুল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স সাব্বির বীজ ভাণ্ডার থেকে মধুপুরের মিরন সীড কোম্পানির নামে উচ্চ ফলনশীল হাইবিট ব্রী-৯৬ বীজধানের মোড়কে তাদের কাছে নকল বীজ বিক্রি করা হয়েছে। মূলত বেশি মুনাফার আশায় ডিলারদের মাধ্যমে এ বীজ বিক্রি করা হয়েছে। ফলে এখন ধান গাছে শীষ না এসে ফসল নষ্ট হচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলা সদর ও নলকুড়া ইউনিয়নের চার-পাঁচটি গ্রামে ১৫০ জন কৃষকের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ একর জমিতে হাইবিট ব্রী-৯৬ বীজধান আবাদ করা হয়। প্রতি একরে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দিঘিরপাড় গ্রামের কৃষক আরশাদুল হক বলেন, ব্রী-৯৬ বীজ কিনে ৭৫ শতক জমিতে আবাদ করেছেন। এতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন ধান হওয়ার সময় হলেও উল্টো ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই অবস্থা এলাকার আরও অনেক কৃষকের। তিনি এ ঘটনার বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
অভিযোগ সম্পর্কে মেসার্স নুরল এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. নুরল আমিন ও সাব্বির বীজ ভাণ্ডারের মালিক মো. শহিদুল্লাহ বলেন, আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অনুমোদিত বীজই বিক্রি করেছি। তবে বীজের মোড়কে কোনো অনিয়ম থাকার কথা না। হলে সেটা কোম্পানির বিষয়। তাদের কাছ থেকে এনে আমরা শুধু বিক্রি করেছি।
এ ব্যাপারে মধুপুরের মিরন সীড কোম্পানির আঞ্চলিক বিপণন কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বলেন, বিষয়টি তারা শুনেছেন ।মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিকারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চেষ্টা করা হবে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি । বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্রী-৯৬-এর পরিবর্তে অন্য জাতের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ বীজ উৎপাদন, পরিবহন ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দেখা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে আগামী আমন মৌসুমে প্রণোদনার আওতায় আনা হবে।

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ও নলকুড়া ইউনিয়নে নকল বীজধান আবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় দেড় শতাধিক কৃষক।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, চলতি বোরো মৌসুমে ঝিনাইগাতী বাজারের মেসার্স নুরুল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স সাব্বির বীজ ভাণ্ডার থেকে মধুপুরের মিরন সীড কোম্পানির নামে উচ্চ ফলনশীল হাইবিট ব্রী-৯৬ বীজধানের মোড়কে তাদের কাছে নকল বীজ বিক্রি করা হয়েছে। মূলত বেশি মুনাফার আশায় ডিলারদের মাধ্যমে এ বীজ বিক্রি করা হয়েছে। ফলে এখন ধান গাছে শীষ না এসে ফসল নষ্ট হচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলা সদর ও নলকুড়া ইউনিয়নের চার-পাঁচটি গ্রামে ১৫০ জন কৃষকের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ একর জমিতে হাইবিট ব্রী-৯৬ বীজধান আবাদ করা হয়। প্রতি একরে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দিঘিরপাড় গ্রামের কৃষক আরশাদুল হক বলেন, ব্রী-৯৬ বীজ কিনে ৭৫ শতক জমিতে আবাদ করেছেন। এতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন ধান হওয়ার সময় হলেও উল্টো ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই অবস্থা এলাকার আরও অনেক কৃষকের। তিনি এ ঘটনার বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
অভিযোগ সম্পর্কে মেসার্স নুরল এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. নুরল আমিন ও সাব্বির বীজ ভাণ্ডারের মালিক মো. শহিদুল্লাহ বলেন, আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অনুমোদিত বীজই বিক্রি করেছি। তবে বীজের মোড়কে কোনো অনিয়ম থাকার কথা না। হলে সেটা কোম্পানির বিষয়। তাদের কাছ থেকে এনে আমরা শুধু বিক্রি করেছি।
এ ব্যাপারে মধুপুরের মিরন সীড কোম্পানির আঞ্চলিক বিপণন কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বলেন, বিষয়টি তারা শুনেছেন ।মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিকারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চেষ্টা করা হবে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি । বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্রী-৯৬-এর পরিবর্তে অন্য জাতের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ বীজ উৎপাদন, পরিবহন ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দেখা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে আগামী আমন মৌসুমে প্রণোদনার আওতায় আনা হবে।

আপনার মতামত লিখুন