শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের উন্নয়নবঞ্চিত চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্যা উপযোগী টেকসই সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন এলাকাবাসী।
জানা যায়, শেরপুর জেলা শহর থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরত্বের ৬ নং চর, গোয়ালপাড়া, পয়স্তীরচরসহ ৪টি গ্রামে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। অবহেলিত এ চরাঞ্চলে অর্ধ লক্ষ মানুষের বসবাস থাকলেও যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি ছয় মাস থাকে পানির নিচে। জেলা সদরের দুর্গম চরাঞ্চলের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে দশানী ও ব্রক্ষপুত্র নদী। যা গ্রামগুলোকে বিভক্ত করে রেখেছে। কামারেরচর বাজার থেকে মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে হলেও এ গ্রামগুলোতে পৌঁছানো যেন এক দুঃসাহসিক যাত্রা। প্রয়োজন অন্তত তিনটি ব্রিজের। কিন্তু নেই একটিও। এতে বড় ভোগান্তিতে আছেন দশানী নদীর দুই পাড়ের মানুষ। এদিকে বর্ষা এলেই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। চার থেকে দশ ফুট পানিতে তলিয়ে যায় পুরো সড়ক।
তখন চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা। আর শুষ্ক মওসুমে চলতে হয় ভ্যান কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে। যা সময়সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাধীনতার পর থেকে নানা আশ্বাস মিললেও,আজও হয়নি একটি টেকসই সড়ক ও ব্রিজ। সেইসাথে বন্যায় প্রতিবছর শত শত বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয় বাঁধের অভাবে। চরাঞ্চলটি সবজির ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে ফসল ঠিকমতো বাজারে নিতে না পারায় লোকসান গুনছে কৃষক। সেইসাথে নদীর ওপারের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়। তাই সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন এলাকাবাসী। এ দাবিতে গত রোববার হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে দশানী নদীর পাড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকার বাসিন্দারা। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. নওয়াব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে চর এলাকার নেতৃস্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ বক্তব্য রাখেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে এলজিইডি শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চরাঞ্চলের মানুষদের দাবির প্রেক্ষিতে মাঠ পর্যায়ের জরিপ কাজ শেষ হয়েছে। এখন নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের উন্নয়নবঞ্চিত চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্যা উপযোগী টেকসই সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন এলাকাবাসী।
জানা যায়, শেরপুর জেলা শহর থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরত্বের ৬ নং চর, গোয়ালপাড়া, পয়স্তীরচরসহ ৪টি গ্রামে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। অবহেলিত এ চরাঞ্চলে অর্ধ লক্ষ মানুষের বসবাস থাকলেও যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি ছয় মাস থাকে পানির নিচে। জেলা সদরের দুর্গম চরাঞ্চলের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে দশানী ও ব্রক্ষপুত্র নদী। যা গ্রামগুলোকে বিভক্ত করে রেখেছে। কামারেরচর বাজার থেকে মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে হলেও এ গ্রামগুলোতে পৌঁছানো যেন এক দুঃসাহসিক যাত্রা। প্রয়োজন অন্তত তিনটি ব্রিজের। কিন্তু নেই একটিও। এতে বড় ভোগান্তিতে আছেন দশানী নদীর দুই পাড়ের মানুষ। এদিকে বর্ষা এলেই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। চার থেকে দশ ফুট পানিতে তলিয়ে যায় পুরো সড়ক।
তখন চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা। আর শুষ্ক মওসুমে চলতে হয় ভ্যান কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে। যা সময়সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাধীনতার পর থেকে নানা আশ্বাস মিললেও,আজও হয়নি একটি টেকসই সড়ক ও ব্রিজ। সেইসাথে বন্যায় প্রতিবছর শত শত বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয় বাঁধের অভাবে। চরাঞ্চলটি সবজির ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে ফসল ঠিকমতো বাজারে নিতে না পারায় লোকসান গুনছে কৃষক। সেইসাথে নদীর ওপারের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়। তাই সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন এলাকাবাসী। এ দাবিতে গত রোববার হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে দশানী নদীর পাড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকার বাসিন্দারা। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. নওয়াব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে চর এলাকার নেতৃস্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ বক্তব্য রাখেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে এলজিইডি শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চরাঞ্চলের মানুষদের দাবির প্রেক্ষিতে মাঠ পর্যায়ের জরিপ কাজ শেষ হয়েছে। এখন নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন