শেরপুর     শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

শ্রীবরদীতে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন



শ্রীবরদীতে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, কৃষক থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের পেশাজীবীসহ সবাই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তীব্র গরমের এই মৌসুমে বিদ্যুতের এমন অনিয়মিত সরবরাহ মানুষের জীবনযাত্রাকে করে তুলেছে অসহনীয়। এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অব্যবস্থাপনার কারণে অনিয়ন্ত্রিত লোডশেডিং হচ্ছে বলেও দাবি করছেন অনেকে। 

স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কাছ থেকে জানা যায়, দিন- রাত মিলিয়ে প্রায় ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রায়শই আধা ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলে আবার দেড় থেকে দুই ঘন্টা বিদ্যুতের দেখা মিলছেনা। এছাড়াও সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেও দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা সময় ধরে বিদ্যুৎ আসছে না। এতে করে গৃহস্থালির স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধদের পাশাপাশি খামারের গবাদিপশুরও কষ্ট বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। এদিকে অটোরিকশা ও ভ্যান চালকদেরও গাড়ি চার্জ না দিতে পারায় উপার্জন করতে পারছেনা। এছাড়াও লোডশেডিংয়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের ওপর। এসএসসি পরীক্ষা চলমান থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। 

শ্রীবরদী উপজেলার এসএসসি পরীক্ষার্থী সুজন ও কাউছার অভিযোগ করে বলেন, দিনে গরমে পড়তে পারি না, আবার রাতে বিদ্যুৎ থাকে না। এতে করে পড়াশোনায় খুব সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছি না। 

আরেক পরীক্ষার্থী রোকন জানান, মোমবাতি বা চার্জ লাইট দিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে, এতে চোখে সমস্যা হচ্ছে এবং মনোযোগও ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এইভাবে চলতে থাকলে পরীক্ষায় ভালো ফল করা কঠিন হয়ে যাবে। আমরা দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান চাই। 

এদিকে, লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। বাজারের দোকানপাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে গেছে। ফ্রিজ, ফ্যান বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালাতে না পারায় মালামাল নষ্ট হয়ে দোকানিরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। বোরো ধানের সেচ কার্যক্রমও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষুদ্র শিল্প, মাড়াইকলের মতো উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোও ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই অধিক মাত্রায় লোডশেডিং করা হচ্ছে। ফলে তারা আগে থেকে কোনো প্রস্তুতি নিতে পারছেন না। এছাড়াও শ্রীবরদী উপজেলার কিছু এলাকায় ঝিনাইগাতী সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া ও সেই লাইন দেখভালের দায়িত্ব আবার অন্য সাবস্টেশনে থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলেও জানান তারা। তবে এই অব্যবস্থাপনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলেও মনে করছেন তারা। 

শ্রীবরদী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী সূর্য্য নারায়ন ভৌমিক জানান, চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও জনবল কম থাকায় লাইন মেরামতের ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়ার কথাও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


শ্রীবরদীতে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, কৃষক থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের পেশাজীবীসহ সবাই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তীব্র গরমের এই মৌসুমে বিদ্যুতের এমন অনিয়মিত সরবরাহ মানুষের জীবনযাত্রাকে করে তুলেছে অসহনীয়। এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অব্যবস্থাপনার কারণে অনিয়ন্ত্রিত লোডশেডিং হচ্ছে বলেও দাবি করছেন অনেকে। 

স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কাছ থেকে জানা যায়, দিন- রাত মিলিয়ে প্রায় ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রায়শই আধা ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলে আবার দেড় থেকে দুই ঘন্টা বিদ্যুতের দেখা মিলছেনা। এছাড়াও সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেও দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা সময় ধরে বিদ্যুৎ আসছে না। এতে করে গৃহস্থালির স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধদের পাশাপাশি খামারের গবাদিপশুরও কষ্ট বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। এদিকে অটোরিকশা ও ভ্যান চালকদেরও গাড়ি চার্জ না দিতে পারায় উপার্জন করতে পারছেনা। এছাড়াও লোডশেডিংয়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের ওপর। এসএসসি পরীক্ষা চলমান থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। 

শ্রীবরদী উপজেলার এসএসসি পরীক্ষার্থী সুজন ও কাউছার অভিযোগ করে বলেন, দিনে গরমে পড়তে পারি না, আবার রাতে বিদ্যুৎ থাকে না। এতে করে পড়াশোনায় খুব সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছি না। 

আরেক পরীক্ষার্থী রোকন জানান, মোমবাতি বা চার্জ লাইট দিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে, এতে চোখে সমস্যা হচ্ছে এবং মনোযোগও ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এইভাবে চলতে থাকলে পরীক্ষায় ভালো ফল করা কঠিন হয়ে যাবে। আমরা দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান চাই। 

এদিকে, লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। বাজারের দোকানপাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে গেছে। ফ্রিজ, ফ্যান বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালাতে না পারায় মালামাল নষ্ট হয়ে দোকানিরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। বোরো ধানের সেচ কার্যক্রমও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষুদ্র শিল্প, মাড়াইকলের মতো উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোও ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই অধিক মাত্রায় লোডশেডিং করা হচ্ছে। ফলে তারা আগে থেকে কোনো প্রস্তুতি নিতে পারছেন না। এছাড়াও শ্রীবরদী উপজেলার কিছু এলাকায় ঝিনাইগাতী সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া ও সেই লাইন দেখভালের দায়িত্ব আবার অন্য সাবস্টেশনে থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলেও জানান তারা। তবে এই অব্যবস্থাপনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলেও মনে করছেন তারা। 

শ্রীবরদী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী সূর্য্য নারায়ন ভৌমিক জানান, চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও জনবল কম থাকায় লাইন মেরামতের ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়ার কথাও জানান তিনি।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত