শেরপুর     শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

ময়মনসিংহের সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অনুমোদনহীন যানবাহন



ময়মনসিংহের সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অনুমোদনহীন যানবাহন
সংগৃহীত ছবি

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ময়মনসিংহের সড়ক-মহাসড়ক গুলোতে দাপিয়ে চলছে অবৈধ ও অনুমোদনহীন যানবাহন। এর একটি বড় অংশই সিএনজি চালিত অটোরিকশা। ৫ হাজার ২০০টি থ্রি হুইলার সড়কে চলাচলের অনুমতি থাকলেও চলছে ১০ থেকে ১২ হাজারেরও বেশি। অধিকাংশ চালকদেরই নেই লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ। অদক্ষ চালকদের কারনে সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যা। 

ময়মনসিংহের সড়ক-মহাসড়ক গুলোতে নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে চলছে অনুমোদনহীন যানবাহন। দুই এপ্রিল থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেসবিহীন ও অননুমোদিত যানবাহন নিয়ে সড়ক-মহাসড়কে চলাচলের নিষেধাজ্ঞা দেয় জেলা প্রশাসন। কিন্তু তা থেকে যায় শুধু কাগজ কলমেই।

সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা, রিকশাসহ ধীরগতির যানবাহন গুলো চলছে বড় গাড়ীর সাথে পাল্লা দিয়ে। এসব যানবাহন ও চালকদের বেশির ভাগই নেই রেজিষ্ট্রেশন, লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ। বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে চলছে সড়কগুলোতে। চালকদের অভিযোগ, বিআরটিএ অফিসে ভোগান্তির কারনে বিলম্বিত হচ্ছে রেজিষ্ট্রেশন ও লাইসেন্স পেতে।

ব্রীজ মোড় এলাকায় রঞ্জিত দাস জানান, সড়কে যে সিএনজি চালিত অটোরিকশা গুলো চলে তার অধিকাংশ নেই নম্বার প্লেট। কোন প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র বা জিনিষ ফেলে আসলে আমরা তা সহজে খুজে পাব না। যদি নম্বর প্লেট থাকত তাহলে সেই গাড়ীটি খুজে পেতাম। শুধু তাই নয়। এই নম্বর প্লেট না থাকায় বেড়েছে অপরাধ প্রবণতা। কারন গাড়ী গুলোকে সহজে চিহৃিত করতে না পারায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। 

দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় নুসরাত জাহান সাথী জানান, সড়কে এসব কমগতির গাড়ী চলায় প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। গত কয়েক বছরে জেলার মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে যত দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে তার বেশির ভাগই সিএনজি চালিত অটোরিকশার সংখ্যা বেশি। এর কারন বেশির ভাগ চালকের নেই লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ।  কম বয়সী কিশোররা একটু শিখেই চালাচ্ছে গাড়ী।  আর যারা এসবে দেখার কথা তাদেরও তৎপরতা নেই বললেই চলে।

ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চালক রাসেল মিয়া জানান, সড়কে গাড়ী চলালে কেউ কখনও বাঁধা দেয় না। লাইসেন্সের জন্য চাপও দেয় না। আর সিএনজি অটোরিকশা সড়কে চালাতে কোন লাইসেন্স লাগে না। এমন কোন আইন এদেশে নাই। 

পাটগুদাম সিএনজি স্ট্যান্ডে চালক রফিকুল ইসলাম জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কিন্তু গাড়ীর কাগজপত্র নাই। রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য দুই বছর আগে কাগজপত্র ও টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।  এখনও কোন কাগজপত্র পাইনি।

শম্ভুগঞ্জ বাজারে সিএনজি অটোরিকশা চালক জয়নাল উদ্দিন জানান, মাঝে মাঝে রাস্তায় গাড়ী আটকায়। তখন দুইশ তিনশ টাকা দিলে গাড়ী ছেড়ে দেয়।৷ আর না দিলে গাড়ী আটক করে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার মামলা দেয়। তাই মামলা থেকে বাঁচতে প্রতিদিন দুইশ তিনশ টাকা দিয়ে গাড়ী চালাচ্ছি। তবে আমাদের অধিকাংশ সিএনজি অটোরিকশার কাগজপত্রের সমস্যা আছে। যদি বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ আমাদের সুযোগ দেয় আর লাইসেন্স করতে ভোগান্তি কমে তাহলে আমারা রেজিষ্ট্রেশন দ্রুত করব। কিন্তু কাগজপত্র জমা দিলে তিন-চার বছর চলে গেলেও আর কোন খবর থাকে না। আমাদের নির্দিষ্ট কোন সিএনজি স্টেশন নাই। সরকার যদি আমাদেরকে একটা সিএনজি স্টেশন করে দিত তাহলে সড়কে গাড়ী রাখতাম না। তারপরও কয়েকদিন পর সরকারী লোকজন এসে আমাদের তুলে দেয়। গাড়ী যদি ঠিকমত চালাতে না পারি তাহলে কিস্তি দিব কিভাবে, আর সংসার চালাব কি করে।

শুধু সিএনজি চালিত অটোরিকশা নয়, সড়ক-মহাসড়ক দখল করে রেখেছে ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা। হালকা এই যানবাহন বেপরোয়া গতি নিয়ে চলতে গিয়ে ঘটছে অনেক দুর্ঘটনা।  মৃত্যুর পাশাপাশি বাড়ছে পঙ্গুত্বের সংখ্যা। সিটি কর্পোরেশনের দেওয়া লাইসেন্সের তুলায়নায় প্রায় সাতগুন বেশি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চলছে সড়কে। বড় বড় সড়কেও উঠে যাচ্ছে এসব যানবাহন। বাড়ছে অসহনীয় যানজট।

সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন জানান, শহরের যানজট নিরসন করতে পাটগুদাম ব্রীজের মোড় এলাকায় অবৈধ ঘরবাড়ি, দোকানপাট উচ্ছেদের মহাযজ্ঞ চালায়। পরবর্তীতে সড়ক বিভাগ আরসিসি রাস্তা নির্মান করে কয়েকটা লেন করে যানবাহন দ্রুত চলে যাওয়ার জন্য। কিন্তু এর কিছুদিন পর আমরা কি দেখলাম? হাজার হাজার সিএনজি চালিত অটোরিকশা সেই লেনগুলো দখল করে নিয়েছে। সারিবদ্ধ ভাবে রাখা হয়েছে অটোরিকশা।  যানবাহন চলবে ত দূরের কথা মানুষই ঠিকমত হাঁটতে পারে না রাস্তাতে। এত উচ্ছেদ, রাস্তা নির্মান কি তাদেরকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য করা হয়েছে নাকি যানজট দূর করতে করা হয়েছে এমন প্রশ্ন কর্তৃপক্ষের কাছে থেকেই যায়। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এ শহরকে ধ্বংস করা যাবে না। শহরের উন্নয়ন করতে হবে। লাইসেন্সবিহীন যানবাহন গুলো শহরের বাইরে পাঠাতে হবে। বৈধ গুলোর জন্য আলাদা স্ট্যান্ড তৈরী করতে হবে। তাহলে সড়কে এসব যানবাহন একটা শৃংখলায় ফিরবে। নয়ত যতই উচ্ছেদ করা হোক, সড়ক নির্মাণ করা হোক, কোনটাই কাজে আসবে না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক এর সহ-সভাপতি শহীদুজ্জামান ছোটন জানান, সিএনজি চালিত অটোরিকশা ৫ হাজারের মত অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে এর সংখ্যা ১৫ হাজারের মত। যার অধিকাংশরই নেই রেজিষ্ট্রেশন।  এতে ছোট রাস্তায় বেশি যানবাহন থাকায় বাড়ছে যানজট। প্রতিদিন ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় না থাকায় সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।  তাই আমরা সচেতন নাগরিক সমাজ চাই, অবৈধভাবে চলা এসব যানবাহন বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। 

বিআরটিএ সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান জানান, সড়ক-মহাসড়ক গুলোতে অবৈধ ভাবে চলা যানবাহন গুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা। বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিন পরিচালনা করা হচ্ছে অভিযান। লাইসেন্সবিহীন যানবাহন জব্দের পাশাপাশি চালকদের দেওয়া হচ্ছে জেল জরিমানা। আর এসব যানবাহনকে রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় আনতে মালিকদের উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে। সচেতনতা বাড়াতে বিতরন করা হচ্ছে লিফলেট। চালকদের দক্ষতা বাড়াতে দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ। একটি দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানি বা যানবাহনের ক্ষতি নয়, এটি রাষ্ট্রের জন্য বড় ক্ষতি। 

সড়ক দুর্ঘটনা, চাঁদাবাজি ও অপরাধ রোধে এসব অনিবন্ধিত যানবাহনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, এমনটাই প্রত্যাশা ময়মনসিংহবাসীর।

বিষয় : জনদুর্ভোগ

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


ময়মনসিংহের সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অনুমোদনহীন যানবাহন

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ময়মনসিংহের সড়ক-মহাসড়ক গুলোতে দাপিয়ে চলছে অবৈধ ও অনুমোদনহীন যানবাহন। এর একটি বড় অংশই সিএনজি চালিত অটোরিকশা। ৫ হাজার ২০০টি থ্রি হুইলার সড়কে চলাচলের অনুমতি থাকলেও চলছে ১০ থেকে ১২ হাজারেরও বেশি। অধিকাংশ চালকদেরই নেই লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ। অদক্ষ চালকদের কারনে সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যা। 

ময়মনসিংহের সড়ক-মহাসড়ক গুলোতে নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে চলছে অনুমোদনহীন যানবাহন। দুই এপ্রিল থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেসবিহীন ও অননুমোদিত যানবাহন নিয়ে সড়ক-মহাসড়কে চলাচলের নিষেধাজ্ঞা দেয় জেলা প্রশাসন। কিন্তু তা থেকে যায় শুধু কাগজ কলমেই।

সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা, রিকশাসহ ধীরগতির যানবাহন গুলো চলছে বড় গাড়ীর সাথে পাল্লা দিয়ে। এসব যানবাহন ও চালকদের বেশির ভাগই নেই রেজিষ্ট্রেশন, লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ। বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে চলছে সড়কগুলোতে। চালকদের অভিযোগ, বিআরটিএ অফিসে ভোগান্তির কারনে বিলম্বিত হচ্ছে রেজিষ্ট্রেশন ও লাইসেন্স পেতে।

ব্রীজ মোড় এলাকায় রঞ্জিত দাস জানান, সড়কে যে সিএনজি চালিত অটোরিকশা গুলো চলে তার অধিকাংশ নেই নম্বার প্লেট। কোন প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র বা জিনিষ ফেলে আসলে আমরা তা সহজে খুজে পাব না। যদি নম্বর প্লেট থাকত তাহলে সেই গাড়ীটি খুজে পেতাম। শুধু তাই নয়। এই নম্বর প্লেট না থাকায় বেড়েছে অপরাধ প্রবণতা। কারন গাড়ী গুলোকে সহজে চিহৃিত করতে না পারায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। 

দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় নুসরাত জাহান সাথী জানান, সড়কে এসব কমগতির গাড়ী চলায় প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। গত কয়েক বছরে জেলার মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে যত দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে তার বেশির ভাগই সিএনজি চালিত অটোরিকশার সংখ্যা বেশি। এর কারন বেশির ভাগ চালকের নেই লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ।  কম বয়সী কিশোররা একটু শিখেই চালাচ্ছে গাড়ী।  আর যারা এসবে দেখার কথা তাদেরও তৎপরতা নেই বললেই চলে।

ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চালক রাসেল মিয়া জানান, সড়কে গাড়ী চলালে কেউ কখনও বাঁধা দেয় না। লাইসেন্সের জন্য চাপও দেয় না। আর সিএনজি অটোরিকশা সড়কে চালাতে কোন লাইসেন্স লাগে না। এমন কোন আইন এদেশে নাই। 

পাটগুদাম সিএনজি স্ট্যান্ডে চালক রফিকুল ইসলাম জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কিন্তু গাড়ীর কাগজপত্র নাই। রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য দুই বছর আগে কাগজপত্র ও টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।  এখনও কোন কাগজপত্র পাইনি।

শম্ভুগঞ্জ বাজারে সিএনজি অটোরিকশা চালক জয়নাল উদ্দিন জানান, মাঝে মাঝে রাস্তায় গাড়ী আটকায়। তখন দুইশ তিনশ টাকা দিলে গাড়ী ছেড়ে দেয়।৷ আর না দিলে গাড়ী আটক করে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার মামলা দেয়। তাই মামলা থেকে বাঁচতে প্রতিদিন দুইশ তিনশ টাকা দিয়ে গাড়ী চালাচ্ছি। তবে আমাদের অধিকাংশ সিএনজি অটোরিকশার কাগজপত্রের সমস্যা আছে। যদি বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ আমাদের সুযোগ দেয় আর লাইসেন্স করতে ভোগান্তি কমে তাহলে আমারা রেজিষ্ট্রেশন দ্রুত করব। কিন্তু কাগজপত্র জমা দিলে তিন-চার বছর চলে গেলেও আর কোন খবর থাকে না। আমাদের নির্দিষ্ট কোন সিএনজি স্টেশন নাই। সরকার যদি আমাদেরকে একটা সিএনজি স্টেশন করে দিত তাহলে সড়কে গাড়ী রাখতাম না। তারপরও কয়েকদিন পর সরকারী লোকজন এসে আমাদের তুলে দেয়। গাড়ী যদি ঠিকমত চালাতে না পারি তাহলে কিস্তি দিব কিভাবে, আর সংসার চালাব কি করে।

শুধু সিএনজি চালিত অটোরিকশা নয়, সড়ক-মহাসড়ক দখল করে রেখেছে ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা। হালকা এই যানবাহন বেপরোয়া গতি নিয়ে চলতে গিয়ে ঘটছে অনেক দুর্ঘটনা।  মৃত্যুর পাশাপাশি বাড়ছে পঙ্গুত্বের সংখ্যা। সিটি কর্পোরেশনের দেওয়া লাইসেন্সের তুলায়নায় প্রায় সাতগুন বেশি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চলছে সড়কে। বড় বড় সড়কেও উঠে যাচ্ছে এসব যানবাহন। বাড়ছে অসহনীয় যানজট।

সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন জানান, শহরের যানজট নিরসন করতে পাটগুদাম ব্রীজের মোড় এলাকায় অবৈধ ঘরবাড়ি, দোকানপাট উচ্ছেদের মহাযজ্ঞ চালায়। পরবর্তীতে সড়ক বিভাগ আরসিসি রাস্তা নির্মান করে কয়েকটা লেন করে যানবাহন দ্রুত চলে যাওয়ার জন্য। কিন্তু এর কিছুদিন পর আমরা কি দেখলাম? হাজার হাজার সিএনজি চালিত অটোরিকশা সেই লেনগুলো দখল করে নিয়েছে। সারিবদ্ধ ভাবে রাখা হয়েছে অটোরিকশা।  যানবাহন চলবে ত দূরের কথা মানুষই ঠিকমত হাঁটতে পারে না রাস্তাতে। এত উচ্ছেদ, রাস্তা নির্মান কি তাদেরকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য করা হয়েছে নাকি যানজট দূর করতে করা হয়েছে এমন প্রশ্ন কর্তৃপক্ষের কাছে থেকেই যায়। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এ শহরকে ধ্বংস করা যাবে না। শহরের উন্নয়ন করতে হবে। লাইসেন্সবিহীন যানবাহন গুলো শহরের বাইরে পাঠাতে হবে। বৈধ গুলোর জন্য আলাদা স্ট্যান্ড তৈরী করতে হবে। তাহলে সড়কে এসব যানবাহন একটা শৃংখলায় ফিরবে। নয়ত যতই উচ্ছেদ করা হোক, সড়ক নির্মাণ করা হোক, কোনটাই কাজে আসবে না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক এর সহ-সভাপতি শহীদুজ্জামান ছোটন জানান, সিএনজি চালিত অটোরিকশা ৫ হাজারের মত অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে এর সংখ্যা ১৫ হাজারের মত। যার অধিকাংশরই নেই রেজিষ্ট্রেশন।  এতে ছোট রাস্তায় বেশি যানবাহন থাকায় বাড়ছে যানজট। প্রতিদিন ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় না থাকায় সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।  তাই আমরা সচেতন নাগরিক সমাজ চাই, অবৈধভাবে চলা এসব যানবাহন বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। 

বিআরটিএ সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান জানান, সড়ক-মহাসড়ক গুলোতে অবৈধ ভাবে চলা যানবাহন গুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা। বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিন পরিচালনা করা হচ্ছে অভিযান। লাইসেন্সবিহীন যানবাহন জব্দের পাশাপাশি চালকদের দেওয়া হচ্ছে জেল জরিমানা। আর এসব যানবাহনকে রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় আনতে মালিকদের উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে। সচেতনতা বাড়াতে বিতরন করা হচ্ছে লিফলেট। চালকদের দক্ষতা বাড়াতে দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ। একটি দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানি বা যানবাহনের ক্ষতি নয়, এটি রাষ্ট্রের জন্য বড় ক্ষতি। 

সড়ক দুর্ঘটনা, চাঁদাবাজি ও অপরাধ রোধে এসব অনিবন্ধিত যানবাহনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, এমনটাই প্রত্যাশা ময়মনসিংহবাসীর।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত