শেরপুর     শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

মরিচ চাষে বদলে যাচ্ছে নালিতাবাড়ীর কৃষিচিত্র



মরিচ চাষে বদলে যাচ্ছে নালিতাবাড়ীর কৃষিচিত্র
ছবি : প্রতিনিধি

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীর তীরবর্তী এলাকায় দিন দিন বাড়ছে মরিচ চাষের বিস্তার। স্বল্প খরচে বেশি লাভ এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে এ অঞ্চলের কৃষকের কাছে মরিচ এখন সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত মরিচ পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে; ফলে কৃষকের আগ্রহও ক্রমেই বাড়ছে।

এ অঞ্চলে উৎপাদিত মসলা জাতীয় ফসল মরিচের কদর ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। নালিতাবাড়ীর মরিচ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। স্বল্প খরচ ও তুলনামূলক কম পরিশ্রমে বেশি লাভ পাওয়ায় কৃষক ক্রমেই মরিচ চাষে ঝুঁকছেন। চলতি মৌসুমে শুকনো মরিচের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১২ ইউনিয়নের মধ্যে মরিচপুরান ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি মরিচ চাষ হয়। এ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোন্নগর, ফকিরপাড়া, বেনীরগোপ ও মৌলভীপাড়া এলাকায় মরিচ চাষির সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া যোগানিয়া, কলসপাড়, নয়াবিল, নন্নী, পোড়াগাঁও ও রাজনগরসহ প্রায় সব ইউনিয়নেই কমবেশি মরিচচাষ হচ্ছে। পারিবারিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব মরিচ বিক্রি করে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, এ উপজেলায় মরিচের ব্যাপক উৎপাদনের কারণেই 'মরিচপুরান' নামে একটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৭৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে।

বর্তমানে অনেক ক্ষেতেই মরিচ পাকতে শুরু করেছে। কৃষক পাকা মরিচ সংগ্রহ করে তা শুকিয়ে নিচ্ছেন। নদীর চরাঞ্চল ও বাড়ির আঙিনায় মরিচ শুকিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৭০ থেকে ১০০ টাকা এবং শুকনো মরিচ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

মরিচ চাষিরা জানান, কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় প্রতি বছরই এ অঞ্চলে মরিচ চাষের পরিমাণ বাড়ছে। প্রতি একর জমিতে সর্বনিম্ন ৮০০ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ কেজি পর্যন্ত মরিচ উৎপাদন হয়।

এলাকার কৃষক মো. মুনছুর আলী মীর ও মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে মরিচ চাষে ভালো ফলন ও বেশি লাভ পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে, কৃষক সোহানুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে ফলন কিছুটা কম হলেও বাজারদর সন্তোষজনক।

নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মশিউর রহমান বলেন, মরিচ চাষিদের নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রোগ-বালাই দমন, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি ও পরিচর্যার বিষয়ে কৃষককে সচেতন করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


মরিচ চাষে বদলে যাচ্ছে নালিতাবাড়ীর কৃষিচিত্র

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীর তীরবর্তী এলাকায় দিন দিন বাড়ছে মরিচ চাষের বিস্তার। স্বল্প খরচে বেশি লাভ এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে এ অঞ্চলের কৃষকের কাছে মরিচ এখন সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত মরিচ পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে; ফলে কৃষকের আগ্রহও ক্রমেই বাড়ছে।

এ অঞ্চলে উৎপাদিত মসলা জাতীয় ফসল মরিচের কদর ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। নালিতাবাড়ীর মরিচ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। স্বল্প খরচ ও তুলনামূলক কম পরিশ্রমে বেশি লাভ পাওয়ায় কৃষক ক্রমেই মরিচ চাষে ঝুঁকছেন। চলতি মৌসুমে শুকনো মরিচের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১২ ইউনিয়নের মধ্যে মরিচপুরান ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি মরিচ চাষ হয়। এ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোন্নগর, ফকিরপাড়া, বেনীরগোপ ও মৌলভীপাড়া এলাকায় মরিচ চাষির সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া যোগানিয়া, কলসপাড়, নয়াবিল, নন্নী, পোড়াগাঁও ও রাজনগরসহ প্রায় সব ইউনিয়নেই কমবেশি মরিচচাষ হচ্ছে। পারিবারিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব মরিচ বিক্রি করে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, এ উপজেলায় মরিচের ব্যাপক উৎপাদনের কারণেই 'মরিচপুরান' নামে একটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৭৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে।

বর্তমানে অনেক ক্ষেতেই মরিচ পাকতে শুরু করেছে। কৃষক পাকা মরিচ সংগ্রহ করে তা শুকিয়ে নিচ্ছেন। নদীর চরাঞ্চল ও বাড়ির আঙিনায় মরিচ শুকিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৭০ থেকে ১০০ টাকা এবং শুকনো মরিচ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

মরিচ চাষিরা জানান, কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় প্রতি বছরই এ অঞ্চলে মরিচ চাষের পরিমাণ বাড়ছে। প্রতি একর জমিতে সর্বনিম্ন ৮০০ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ কেজি পর্যন্ত মরিচ উৎপাদন হয়।

এলাকার কৃষক মো. মুনছুর আলী মীর ও মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে মরিচ চাষে ভালো ফলন ও বেশি লাভ পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে, কৃষক সোহানুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে ফলন কিছুটা কম হলেও বাজারদর সন্তোষজনক।

নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মশিউর রহমান বলেন, মরিচ চাষিদের নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রোগ-বালাই দমন, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি ও পরিচর্যার বিষয়ে কৃষককে সচেতন করা হচ্ছে।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত