ময়মনসিংহ নগরীর মধ্য বাড়েরা কাদুর বাড়ি বাইলেনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যালেন্সর প্রফেসর ড. এএসএম আমানুল্লাহ। এর মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ আঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে এই আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়। পরে নগরীর টাউন হল এলাকায় তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যালেন্সর প্রফেসর ড. এএসএম আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষা কারিকুলাম ইতোমধ্যে দুইবার সংশোধন হয়েছে এবং তৃতীয়বারের জন্য প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি ট্রেড কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা প্রায় ঊনচল্লিশটি সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে। এর মধ্যে কিছু ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে, কিছু বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। আর কিছু সম্পন্ন করতে আরও সময় প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ১৯৯২ সালে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পার্লামেন্টে আইন পাসের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের উচ্চ শিক্ষাকে একটি সুসংগঠিত কাঠামোর মধ্যে আনা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই প্রত্যাশা এখনও পুরোপুরি পূরণ হয়নি। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ গ্র্যাজজুয়েট বের হচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষার্থী চাকরি পাচ্ছে না। এই হিসাব অনুযায়ী, ১০ বছরে প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী বেকার থেকে যাবে। অর্থাৎ আমরা এমন একটি ব্যবস্থার মধ্যে আছি, যেখানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জনের পরও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে না, যা রাষ্ট্র ও সমাজের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। অথচ একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য কখনোই এমন হওয়ার কথা নয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখ করে তিনি জানান, এখানে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ এর মতো অধিভুক্ত কলেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সবাই অবগত। এই শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়, এ কথা শুরু থেকেই বলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বলা হবে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। প্রথমত, সিলেবাস যুগোপযোগী করতে হবে। শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। ল্যাবগুলোকে কার্যকর করতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এমন বিষয়গুলো পড়াতে হবে, যেগুলো থেকে পাশ করার পর দেশে ও বিদেশে চাকরির সুযোগ তৈরি হয়।
আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল আক্তার। শুভেচ্ছা বক্তব্য আনন্দমোহন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শাকির হোসেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান মিলন , ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন এবং শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী।

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
ময়মনসিংহ নগরীর মধ্য বাড়েরা কাদুর বাড়ি বাইলেনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যালেন্সর প্রফেসর ড. এএসএম আমানুল্লাহ। এর মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ আঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে এই আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়। পরে নগরীর টাউন হল এলাকায় তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যালেন্সর প্রফেসর ড. এএসএম আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষা কারিকুলাম ইতোমধ্যে দুইবার সংশোধন হয়েছে এবং তৃতীয়বারের জন্য প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি ট্রেড কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা প্রায় ঊনচল্লিশটি সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে। এর মধ্যে কিছু ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে, কিছু বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। আর কিছু সম্পন্ন করতে আরও সময় প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ১৯৯২ সালে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পার্লামেন্টে আইন পাসের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের উচ্চ শিক্ষাকে একটি সুসংগঠিত কাঠামোর মধ্যে আনা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই প্রত্যাশা এখনও পুরোপুরি পূরণ হয়নি। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ গ্র্যাজজুয়েট বের হচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষার্থী চাকরি পাচ্ছে না। এই হিসাব অনুযায়ী, ১০ বছরে প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী বেকার থেকে যাবে। অর্থাৎ আমরা এমন একটি ব্যবস্থার মধ্যে আছি, যেখানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জনের পরও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে না, যা রাষ্ট্র ও সমাজের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। অথচ একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য কখনোই এমন হওয়ার কথা নয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখ করে তিনি জানান, এখানে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ এর মতো অধিভুক্ত কলেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সবাই অবগত। এই শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়, এ কথা শুরু থেকেই বলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বলা হবে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। প্রথমত, সিলেবাস যুগোপযোগী করতে হবে। শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। ল্যাবগুলোকে কার্যকর করতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এমন বিষয়গুলো পড়াতে হবে, যেগুলো থেকে পাশ করার পর দেশে ও বিদেশে চাকরির সুযোগ তৈরি হয়।
আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল আক্তার। শুভেচ্ছা বক্তব্য আনন্দমোহন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শাকির হোসেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান মিলন , ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন এবং শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী।

আপনার মতামত লিখুন