বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকট ও হরমুজ প্রণালীর জটিলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতার মধ্যেও দেশের তেল সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল ছিল এবং বর্তমানে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব বলেন।
টুকু বলেন, গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর সংকটের পর কাতার ও সৌদি আরবের সঙ্গে থাকা কিছু জিটুজি চুক্তিতে ফোর্স মেজর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে নির্ধারিত উৎস থেকে সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হলেও সরকার দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রী জানান, এ সময় সরকার প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের তেল ক্রয় করে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছে। ফলে বিশ্বের অনেক দেশে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলেও বাংলাদেশে কোনো ধরনের ড্রাই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত ছিল।
বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের বকেয়া ও আর্থিক ঘাটতি ছিল। আইপিপি (ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনা হলেও তা ভোক্তাদের কাছে কম দামে সরবরাহ করার কারণে একটি বড় আর্থিক গ্যাপ তৈরি হয়েছে, যা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রয়েছে, যা ধীরে ধীরে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে চলমান বিল পরিশোধ ও খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সরকার কাজ করছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে বাপেক্সকে পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে এবং সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে (আইওসি) অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে সমুদ্রের ব্লকগুলোতে যৌথভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো যায়।
মন্ত্রী বলেন, সমুদ্র বিজয়ের পরও বাংলাদেশ প্রত্যাশিত হারে গ্যাস অনুসন্ধানে এগোতে পারেনি। অন্যদিকে যেসব দেশ সমুদ্র সীমা অর্জন করেছে, তারা সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলন করে রফতানি পর্যন্ত করছে।
উপদেষ্টা জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের বাজারে রপ্তানি পণ্যের জন্য কমপ্লায়েন্স বাধ্যবাধকতা থাকায় বাংলাদেশকেও এই খাতে অগ্রসর হতে হবে।
ক্যাপাসিটি চার্জ ইস্যুর প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার এই বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে, তবে বাস্তবতা হলো—অনেক বিনিয়োগকারী জানিয়েছে যে ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ করলে তাদের পক্ষে ব্যাংক ঋণ ও আর্থিক দায় সামলিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানো সম্ভব নয়। এ অবস্থায় হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিলে দেশে আবার বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হতে পারে, তাই বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক পাওয়ার প্ল্যান্ট যথাযথভাবে মেরামত বা মেইনটেনেন্স করা হয়নি, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে হয়েছে, যা ভোক্তার কাছে কম দামে বিক্রি করায় বড় ধরনের আর্থিক গ্যাপ তৈরি হয়েছে এবং বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া দায় হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে টুকু জানান, এসব ক্যাপাসিটি চার্জ ও চুক্তিগত জটিলতা নিয়ে ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে এবং তাদের ফেভারেবল অপিনিয়ন পাওয়া গেলে আইনগত কাঠামোর মধ্যেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়ম ও পরিকল্পনাগত ঘাটতি দেখা গেছে, যার মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ডিজিটাল মিটার প্রকল্প অন্যতম। তিনি উল্লেখ করেন, ৫ লাখ মিটার অর্ডার দেওয়া হলেও তার একটি বড় অংশ এখনো ব্যবহার হয়নি এবং গুদামে পড়ে আছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
ডিপিডিসির প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে টুকু বলেন, ৬৫টি সাবস্টেশন নির্মাণের লক্ষ্য থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ৩৮টি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অনেক প্রকল্প এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একইভাবে আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পেও অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, ফলে এসব খাতে বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর একটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে টুকু বলেন, শাহবাগ এলাকার পেছনে টুইন টাওয়ারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুলসহ বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করা হলেও এসব প্রকল্পের আয় কাঠামো ও অর্থনৈতিক যুক্তি দুর্বল ছিল। ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় হলেও সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত প্রফিট বা রিটার্ন পাওয়া যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকট ও হরমুজ প্রণালীর জটিলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতার মধ্যেও দেশের তেল সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল ছিল এবং বর্তমানে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব বলেন।
টুকু বলেন, গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর সংকটের পর কাতার ও সৌদি আরবের সঙ্গে থাকা কিছু জিটুজি চুক্তিতে ফোর্স মেজর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে নির্ধারিত উৎস থেকে সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হলেও সরকার দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রী জানান, এ সময় সরকার প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের তেল ক্রয় করে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছে। ফলে বিশ্বের অনেক দেশে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলেও বাংলাদেশে কোনো ধরনের ড্রাই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত ছিল।
বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের বকেয়া ও আর্থিক ঘাটতি ছিল। আইপিপি (ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনা হলেও তা ভোক্তাদের কাছে কম দামে সরবরাহ করার কারণে একটি বড় আর্থিক গ্যাপ তৈরি হয়েছে, যা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রয়েছে, যা ধীরে ধীরে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে চলমান বিল পরিশোধ ও খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সরকার কাজ করছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে বাপেক্সকে পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে এবং সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে (আইওসি) অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে সমুদ্রের ব্লকগুলোতে যৌথভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো যায়।
মন্ত্রী বলেন, সমুদ্র বিজয়ের পরও বাংলাদেশ প্রত্যাশিত হারে গ্যাস অনুসন্ধানে এগোতে পারেনি। অন্যদিকে যেসব দেশ সমুদ্র সীমা অর্জন করেছে, তারা সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলন করে রফতানি পর্যন্ত করছে।
উপদেষ্টা জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের বাজারে রপ্তানি পণ্যের জন্য কমপ্লায়েন্স বাধ্যবাধকতা থাকায় বাংলাদেশকেও এই খাতে অগ্রসর হতে হবে।
ক্যাপাসিটি চার্জ ইস্যুর প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার এই বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে, তবে বাস্তবতা হলো—অনেক বিনিয়োগকারী জানিয়েছে যে ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ করলে তাদের পক্ষে ব্যাংক ঋণ ও আর্থিক দায় সামলিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানো সম্ভব নয়। এ অবস্থায় হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিলে দেশে আবার বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হতে পারে, তাই বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক পাওয়ার প্ল্যান্ট যথাযথভাবে মেরামত বা মেইনটেনেন্স করা হয়নি, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে হয়েছে, যা ভোক্তার কাছে কম দামে বিক্রি করায় বড় ধরনের আর্থিক গ্যাপ তৈরি হয়েছে এবং বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া দায় হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে টুকু জানান, এসব ক্যাপাসিটি চার্জ ও চুক্তিগত জটিলতা নিয়ে ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে এবং তাদের ফেভারেবল অপিনিয়ন পাওয়া গেলে আইনগত কাঠামোর মধ্যেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়ম ও পরিকল্পনাগত ঘাটতি দেখা গেছে, যার মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ডিজিটাল মিটার প্রকল্প অন্যতম। তিনি উল্লেখ করেন, ৫ লাখ মিটার অর্ডার দেওয়া হলেও তার একটি বড় অংশ এখনো ব্যবহার হয়নি এবং গুদামে পড়ে আছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
ডিপিডিসির প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে টুকু বলেন, ৬৫টি সাবস্টেশন নির্মাণের লক্ষ্য থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ৩৮টি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অনেক প্রকল্প এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একইভাবে আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পেও অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, ফলে এসব খাতে বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর একটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে টুকু বলেন, শাহবাগ এলাকার পেছনে টুইন টাওয়ারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুলসহ বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করা হলেও এসব প্রকল্পের আয় কাঠামো ও অর্থনৈতিক যুক্তি দুর্বল ছিল। ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় হলেও সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত প্রফিট বা রিটার্ন পাওয়া যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আপনার মতামত লিখুন