শেরপুর     মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

চারবার ভাইভা শেষে তথ্য ক্যাডারে শেরপুরের শাহরিয়ার



চারবার ভাইভা শেষে তথ্য ক্যাডারে শেরপুরের শাহরিয়ার
ছবি : প্রতিনিধি

একবার নয়, টানা ৩বার বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েও ক্যাডার পদ পাননি। তবে হতাশ না হয়ে ধৈর্য, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম ধরে রেখে ৪র্থ বারে স্বপ্ন ছুঁয়েছেন শেরপুর সদর উপজেলার কৃতী সন্তান মো. শাহরিয়ার ইসলাম। ৪৭তম বিসিএস-২০২৪-এর চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারে সহকারী পরিচালক বা সমমানের পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।


মো. শাহরিয়ার ইসলাম শেরপুর সদর উপজেলার চান্দেরনগর মাইজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা আলহাজ্ব মো. আব্দুল মান্নান একজন ব্যবসায়ী এবং মা সেলিনা বেগম গৃহিণী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

শিক্ষাজীবনেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০১৩ সালে শেরপুরের ইদ্রিসিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে দাখিল এবং ২০১৫ সালে তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা, টঙ্গী শাখা থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে আলিম পাস করেন। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

বর্তমানে তিনি সোনালী ব্যাংকের ঝিনাইগাতী শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত। চাকরির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি চালিয়ে যান। এর আগে ৪৪তম, ৪৫তম ও ৪৬তম বিসিএসে ভাইভা দিয়েও ক্যাডার পদে সুপারিশ পাননি। তবে ৪৪তম বিসিএসে নন-ক্যাডার পদে উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

নিজের বিসিএস যাত্রা সম্পর্কে শাহরিয়ার ইসলাম বলেন, “আমার বিসিএসের যাত্রা ছিল দীর্ঘ, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের। চারটি বিসিএসের ভাইভায় অংশ নেওয়ার পর অবশেষে ৪৭তম বিসিএসে ক্যাডার সুপারিশ পেয়েছি। মাঝপথে অনেক অনিশ্চয়তা, মানসিক চাপ ও হতাশার মুহূর্ত এসেছে। একই সঙ্গে চাকরির দায়িত্ব পালন করে প্রস্তুতি নেওয়াও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমি কখনো লক্ষ্য থেকে সরে যাইনি।”

ক্যাডার পছন্দ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমার প্রথম পছন্দ ছিল প্রশাসন ক্যাডার, দ্বিতীয় পছন্দ পুলিশ ক্যাডার। তবে তথ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি ক্যাডারই দেশের সেবার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তথ্য ক্যাডারে থেকেও দেশের জন্য কার্যকর অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।”

এ সাফল্যের জন্য তিনি সর্বপ্রথম মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। পাশাপাশি বাবা-মা, স্ত্রী, পরিবারের সদস্য, শিক্ষক, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “তাঁদের দোয়া, অনুপ্রেরণা ও অবিচল সমর্থন ছাড়া এই পথচলা এতটা সহজ হতো না।”

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে শাহরিয়ার ইসলাম বলেন, “আমার লক্ষ্য একজন সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং তথ্যের সঠিক ও ইতিবাচক প্রচারের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।”

টানা চারটি বিসিএসের ভাইভা দিয়ে শেষ পর্যন্ত তথ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া শাহরিয়ার ইসলামের এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের বিসিএস প্রত্যাশীদের জন্য অধ্যবসায়, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


চারবার ভাইভা শেষে তথ্য ক্যাডারে শেরপুরের শাহরিয়ার

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

একবার নয়, টানা ৩বার বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েও ক্যাডার পদ পাননি। তবে হতাশ না হয়ে ধৈর্য, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম ধরে রেখে ৪র্থ বারে স্বপ্ন ছুঁয়েছেন শেরপুর সদর উপজেলার কৃতী সন্তান মো. শাহরিয়ার ইসলাম। ৪৭তম বিসিএস-২০২৪-এর চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারে সহকারী পরিচালক বা সমমানের পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।


মো. শাহরিয়ার ইসলাম শেরপুর সদর উপজেলার চান্দেরনগর মাইজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা আলহাজ্ব মো. আব্দুল মান্নান একজন ব্যবসায়ী এবং মা সেলিনা বেগম গৃহিণী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

শিক্ষাজীবনেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০১৩ সালে শেরপুরের ইদ্রিসিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে দাখিল এবং ২০১৫ সালে তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা, টঙ্গী শাখা থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে আলিম পাস করেন। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

বর্তমানে তিনি সোনালী ব্যাংকের ঝিনাইগাতী শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত। চাকরির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি চালিয়ে যান। এর আগে ৪৪তম, ৪৫তম ও ৪৬তম বিসিএসে ভাইভা দিয়েও ক্যাডার পদে সুপারিশ পাননি। তবে ৪৪তম বিসিএসে নন-ক্যাডার পদে উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

নিজের বিসিএস যাত্রা সম্পর্কে শাহরিয়ার ইসলাম বলেন, “আমার বিসিএসের যাত্রা ছিল দীর্ঘ, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের। চারটি বিসিএসের ভাইভায় অংশ নেওয়ার পর অবশেষে ৪৭তম বিসিএসে ক্যাডার সুপারিশ পেয়েছি। মাঝপথে অনেক অনিশ্চয়তা, মানসিক চাপ ও হতাশার মুহূর্ত এসেছে। একই সঙ্গে চাকরির দায়িত্ব পালন করে প্রস্তুতি নেওয়াও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমি কখনো লক্ষ্য থেকে সরে যাইনি।”

ক্যাডার পছন্দ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমার প্রথম পছন্দ ছিল প্রশাসন ক্যাডার, দ্বিতীয় পছন্দ পুলিশ ক্যাডার। তবে তথ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি ক্যাডারই দেশের সেবার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তথ্য ক্যাডারে থেকেও দেশের জন্য কার্যকর অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।”

এ সাফল্যের জন্য তিনি সর্বপ্রথম মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। পাশাপাশি বাবা-মা, স্ত্রী, পরিবারের সদস্য, শিক্ষক, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “তাঁদের দোয়া, অনুপ্রেরণা ও অবিচল সমর্থন ছাড়া এই পথচলা এতটা সহজ হতো না।”

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে শাহরিয়ার ইসলাম বলেন, “আমার লক্ষ্য একজন সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং তথ্যের সঠিক ও ইতিবাচক প্রচারের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।”

টানা চারটি বিসিএসের ভাইভা দিয়ে শেষ পর্যন্ত তথ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া শাহরিয়ার ইসলামের এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের বিসিএস প্রত্যাশীদের জন্য অধ্যবসায়, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত