২০২৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি জনাব মিয়া গোলাম পরওয়ার।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-
২-৯ জুলাই রাজধানীতে জুলাই শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়, জুলাই স্মৃতিবিজড়িত স্থানে স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান;
১৬ জুলাই জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে আলোচনা সভা;
১৮-৩১ জুলাই সারাদেশে জুলাই শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়, জুলাই স্মৃতিবিজড়িত স্থানে স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান;
১ আগস্ট সারাদেশে (মহানগরী, জেলা ও উপজেলা) গণমিছিল;
২-৪ আগস্ট শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে কর্মসূচি এবং
৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে রাজধানীসহ সারাদেশে (মহানগরী, জেলা ও উপজেলা) সমাবেশ ও মিছিল।
এছাড়া মহিলা বিভাগ, ছাত্র সংগঠন ও জুলাই যোদ্ধাদের বিভিন্ন ফোরামের উদ্যোগে আরও কর্মসূচি পালিত হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর জনাব মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরী উত্তর এবং দক্ষিণের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “দু-একটি সংবাদমাধ্যম এমনভাবে লেখালেখি করছে, মনে হয় তারা একটি রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র।” একটি বড় ব্যবসায়ী করপোরেট গ্রুপের মালিকানাধীন সংবাদপত্রের ভূমিকা এমন হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “ঠিক আছে, আপনি যদি রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে থাকেন, বিএনপি যদি আপনাকে কোনো অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে থাকে, তাহলে ঘোষণা দিন যে আপনার এই পত্রিকা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং আপনি একটি দলের মুখপাত্র। এ ঘোষণা দিয়েই তাদের পত্রিকা প্রকাশ করা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “আপনার গণমাধ্যমের চরিত্র যদি এত মিথ্যাচারপূর্ণ হয়, এত রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়, তাহলে গণমাধ্যমের এই আচরণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমরাও কী সেই অনাকাঙ্ক্ষিত পথ ধরব? কিন্তু জামায়াতে ইসলামী সেই পথ ধরতে চায় না।” তিনি দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে এসব পত্রিকাগুলো ফ্যাসিবাদের প্রতিনিধিত্ব করত, আর এখন তারা বিএনপি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছে। তিনি করপোরেট হাউসগুলোর প্রতি সত্য সংবাদ পরিবেশন এবং হলুদ সাংবাদিকতা পরিহারের আহ্বান জানান।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, “যারা অখণ্ড পাকিস্তান চেয়েছে, এমন ব্যক্তিদের বিএনপি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও এমপি বানিয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তাহলে কী বাংলাদেশবিরোধীদের বিএনপি পুরস্কৃত করেনি? তিনি বলেন, যারা অখণ্ড পাকিস্তান চেয়েছে, তাদের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও এমপি বানিয়ে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার দায়ে আগে বিএনপিরই জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তিনি বলেন, “আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখুন। নয়তো অতীত থেকে বেরিয়ে এসে জুলাই চেতনা লালন করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের উদ্যোগ নিন।”
কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেন, গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ব্যতীত জুলাই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে না। জুলাই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটলে আবারও সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদ নতুন রূপে আবির্ভূত হবে। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বর্তমান সরকার জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও চেতনাকে অবমাননা করেছে। ফলে মাত্র চার মাসেই সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিএনপি পুরোনো ফ্যাসিবাদীদের সুরে কথা বলছে। তিনি বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা কোনো অপরাধ করিনি, তাই আমাদের ক্ষমা চাওয়ার কোনো যুক্তি নেই। আয়নায় নিজের চেহারা দেখার পরামর্শ দিয়ে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, অতীত নিয়ে বেশি নাড়াচাড় করলে নিজের পরিবারের অপকর্ম জাতির সামনে ফুটে উঠবে।
তিনি অতীত থেকে ফিরে এসে জুলাই চেতনায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, চব্বিশের ৩৬ জুলাইয়ের স্মরণে জামায়াতে ইসলামী ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করে জুলাইয়ের স্পিরিট ধারণ করতে চায়। তিনি বলেন, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন-এই তিনটি ছিল তাদের অঙ্গীকার। এর মধ্যে নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু বিচার ও সংস্কার হয়নি। সরকার গণহত্যার বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারকে উপেক্ষা করলে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে তা নিশ্চিত করতে বাধ্য করবে।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, “সাড়ে ১৫ বছরের জুলুম-নির্যাতন, গুম, খুন, গ্রেফতার, হয়রানি ও নৃশংসতা থেকে মুক্তির জন্য রাজনৈতিক দলগুলো ভূমিকা পালন করেছিল। তবে তারা ফ্যাসিস্ট অপশক্তির হাত থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে পারেনি। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট অপশক্তি ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে পালায়। কোনো অপশক্তিকে আর এদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে দেওয়া হবে না।”
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, জুলাই নিছক একটি মাসের নাম নয়; এ অঞ্চলের কয়েক দশকের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিবাদের নাম জুলাই। সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর অন্যতম শ্রেষ্ঠত্বের নামও জুলাই। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এটি একটি স্থায়ী হুঙ্কারের নাম। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ঐতিহাসিক দলিলের নামও জুলাই। তিনি বলেন, জুলাইকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা অনেকেই করছে, তবে তা সম্ভব হবে না। জুলাই চেতনায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে কোনো আপস চলবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
২০২৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি জনাব মিয়া গোলাম পরওয়ার।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-
২-৯ জুলাই রাজধানীতে জুলাই শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়, জুলাই স্মৃতিবিজড়িত স্থানে স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান;
১৬ জুলাই জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে আলোচনা সভা;
১৮-৩১ জুলাই সারাদেশে জুলাই শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়, জুলাই স্মৃতিবিজড়িত স্থানে স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান;
১ আগস্ট সারাদেশে (মহানগরী, জেলা ও উপজেলা) গণমিছিল;
২-৪ আগস্ট শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে কর্মসূচি এবং
৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে রাজধানীসহ সারাদেশে (মহানগরী, জেলা ও উপজেলা) সমাবেশ ও মিছিল।
এছাড়া মহিলা বিভাগ, ছাত্র সংগঠন ও জুলাই যোদ্ধাদের বিভিন্ন ফোরামের উদ্যোগে আরও কর্মসূচি পালিত হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর জনাব মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরী উত্তর এবং দক্ষিণের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “দু-একটি সংবাদমাধ্যম এমনভাবে লেখালেখি করছে, মনে হয় তারা একটি রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র।” একটি বড় ব্যবসায়ী করপোরেট গ্রুপের মালিকানাধীন সংবাদপত্রের ভূমিকা এমন হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “ঠিক আছে, আপনি যদি রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে থাকেন, বিএনপি যদি আপনাকে কোনো অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে থাকে, তাহলে ঘোষণা দিন যে আপনার এই পত্রিকা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং আপনি একটি দলের মুখপাত্র। এ ঘোষণা দিয়েই তাদের পত্রিকা প্রকাশ করা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “আপনার গণমাধ্যমের চরিত্র যদি এত মিথ্যাচারপূর্ণ হয়, এত রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়, তাহলে গণমাধ্যমের এই আচরণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমরাও কী সেই অনাকাঙ্ক্ষিত পথ ধরব? কিন্তু জামায়াতে ইসলামী সেই পথ ধরতে চায় না।” তিনি দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে এসব পত্রিকাগুলো ফ্যাসিবাদের প্রতিনিধিত্ব করত, আর এখন তারা বিএনপি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছে। তিনি করপোরেট হাউসগুলোর প্রতি সত্য সংবাদ পরিবেশন এবং হলুদ সাংবাদিকতা পরিহারের আহ্বান জানান।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, “যারা অখণ্ড পাকিস্তান চেয়েছে, এমন ব্যক্তিদের বিএনপি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও এমপি বানিয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তাহলে কী বাংলাদেশবিরোধীদের বিএনপি পুরস্কৃত করেনি? তিনি বলেন, যারা অখণ্ড পাকিস্তান চেয়েছে, তাদের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও এমপি বানিয়ে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার দায়ে আগে বিএনপিরই জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তিনি বলেন, “আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখুন। নয়তো অতীত থেকে বেরিয়ে এসে জুলাই চেতনা লালন করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের উদ্যোগ নিন।”
কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেন, গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ব্যতীত জুলাই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে না। জুলাই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটলে আবারও সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদ নতুন রূপে আবির্ভূত হবে। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বর্তমান সরকার জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও চেতনাকে অবমাননা করেছে। ফলে মাত্র চার মাসেই সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিএনপি পুরোনো ফ্যাসিবাদীদের সুরে কথা বলছে। তিনি বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা কোনো অপরাধ করিনি, তাই আমাদের ক্ষমা চাওয়ার কোনো যুক্তি নেই। আয়নায় নিজের চেহারা দেখার পরামর্শ দিয়ে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, অতীত নিয়ে বেশি নাড়াচাড় করলে নিজের পরিবারের অপকর্ম জাতির সামনে ফুটে উঠবে।
তিনি অতীত থেকে ফিরে এসে জুলাই চেতনায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, চব্বিশের ৩৬ জুলাইয়ের স্মরণে জামায়াতে ইসলামী ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করে জুলাইয়ের স্পিরিট ধারণ করতে চায়। তিনি বলেন, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন-এই তিনটি ছিল তাদের অঙ্গীকার। এর মধ্যে নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু বিচার ও সংস্কার হয়নি। সরকার গণহত্যার বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারকে উপেক্ষা করলে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে তা নিশ্চিত করতে বাধ্য করবে।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, “সাড়ে ১৫ বছরের জুলুম-নির্যাতন, গুম, খুন, গ্রেফতার, হয়রানি ও নৃশংসতা থেকে মুক্তির জন্য রাজনৈতিক দলগুলো ভূমিকা পালন করেছিল। তবে তারা ফ্যাসিস্ট অপশক্তির হাত থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে পারেনি। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট অপশক্তি ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে পালায়। কোনো অপশক্তিকে আর এদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে দেওয়া হবে না।”
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, জুলাই নিছক একটি মাসের নাম নয়; এ অঞ্চলের কয়েক দশকের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিবাদের নাম জুলাই। সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর অন্যতম শ্রেষ্ঠত্বের নামও জুলাই। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এটি একটি স্থায়ী হুঙ্কারের নাম। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ঐতিহাসিক দলিলের নামও জুলাই। তিনি বলেন, জুলাইকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা অনেকেই করছে, তবে তা সম্ভব হবে না। জুলাই চেতনায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে কোনো আপস চলবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আপনার মতামত লিখুন