আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল থাকার পরও স্থান সংকুলান না হওয়ায় শেরপুরে মৃগী নদীর পাশে ফেলা হচ্ছে পৌরশহরের ময়লা-আবর্জনা। এতে নদী দূষণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন ওই এলাকার মানুষ।
২০২২ সালে শেরপুর পৌরসভার নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকায় তিন একর জমি অধিগ্রহণ এবং স্থাপনা নির্মাণে আরও সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের অষ্টমীতলায় আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়। অথচ পৌর এলাকার আবর্জনা সেখানে না ফেলে, ফেলা হচ্ছে শহরের মীরগঞ্জ এলাকার মৃগী নদীর পাশের জমিতে। এভাবে উন্মুক্ত স্থানে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সামগ্রী, পলিথিন, আবাসিক ও হাসপাতালের বর্জ্য ফেলে নদীসহ পরিবেশ দূষণে পৌর কর্তৃপক্ষের খাম খেয়ালিপনাকে দায়ী করছেন অনেকে।
শেরপুর পৌরসভার তথ্যমতে, শেরপুর পৌর শহরের ৯টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রায় ৩০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। যেখানে ১৫ টন বর্জ্য অষ্টমিতলার নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশনে ফেললেও স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাকি ১৫ টন বর্জ্য ফেলা হয় মৃগী নদীর পাশের জমিতে ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে মৃগী নদীর পানি কালো হয়ে যাচ্ছে। সেসঙ্গে ময়লার দুর্গন্ধ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কবির মিয়া বলেন, দুর্গন্ধের কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বর্জ্যরে একটি অংশ নদীতে মিশে গিয়ে দূষণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
শেরপুর পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ শরিফ উদ্দিন বলেন, ‘দেশে বর্তমানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রকল্পটি বৃহৎ আকারে করতে পারলে এসব আবর্জনাকে সম্পদের পরিণত করা সম্ভব । বর্জ্যকে যদি সম্পদে রূপান্তর করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যায়, তবেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করতে সরকারি সহযোগিতার প্রয়োজন।’
শেরপুর পৌরসভার প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা মৃগী নদীর পাশের জমিতে খুবই অস্থায়ী ভিত্তিতে ময়লা-আবর্জনা ফেলছি। আমরা খাস জমি খুঁজছি নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ড করার জন্য। এরমধ্যেই সরকার এ বিষয়ে আমাদের নিকট পত্র প্রেরণ করেছে। পৌরসভা অথবা পৌরসভার বাইরে খাস জমি পেলে ওই জমিটিকে নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করবো। তখন মীরগঞ্জ ডাম্পিং গ্রাউন্ডটকে আমরা ক্লোজ করে দেবো।’

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল থাকার পরও স্থান সংকুলান না হওয়ায় শেরপুরে মৃগী নদীর পাশে ফেলা হচ্ছে পৌরশহরের ময়লা-আবর্জনা। এতে নদী দূষণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন ওই এলাকার মানুষ।
২০২২ সালে শেরপুর পৌরসভার নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকায় তিন একর জমি অধিগ্রহণ এবং স্থাপনা নির্মাণে আরও সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের অষ্টমীতলায় আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়। অথচ পৌর এলাকার আবর্জনা সেখানে না ফেলে, ফেলা হচ্ছে শহরের মীরগঞ্জ এলাকার মৃগী নদীর পাশের জমিতে। এভাবে উন্মুক্ত স্থানে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সামগ্রী, পলিথিন, আবাসিক ও হাসপাতালের বর্জ্য ফেলে নদীসহ পরিবেশ দূষণে পৌর কর্তৃপক্ষের খাম খেয়ালিপনাকে দায়ী করছেন অনেকে।
শেরপুর পৌরসভার তথ্যমতে, শেরপুর পৌর শহরের ৯টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রায় ৩০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। যেখানে ১৫ টন বর্জ্য অষ্টমিতলার নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশনে ফেললেও স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাকি ১৫ টন বর্জ্য ফেলা হয় মৃগী নদীর পাশের জমিতে ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে মৃগী নদীর পানি কালো হয়ে যাচ্ছে। সেসঙ্গে ময়লার দুর্গন্ধ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কবির মিয়া বলেন, দুর্গন্ধের কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বর্জ্যরে একটি অংশ নদীতে মিশে গিয়ে দূষণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
শেরপুর পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ শরিফ উদ্দিন বলেন, ‘দেশে বর্তমানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রকল্পটি বৃহৎ আকারে করতে পারলে এসব আবর্জনাকে সম্পদের পরিণত করা সম্ভব । বর্জ্যকে যদি সম্পদে রূপান্তর করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যায়, তবেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করতে সরকারি সহযোগিতার প্রয়োজন।’
শেরপুর পৌরসভার প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা মৃগী নদীর পাশের জমিতে খুবই অস্থায়ী ভিত্তিতে ময়লা-আবর্জনা ফেলছি। আমরা খাস জমি খুঁজছি নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ড করার জন্য। এরমধ্যেই সরকার এ বিষয়ে আমাদের নিকট পত্র প্রেরণ করেছে। পৌরসভা অথবা পৌরসভার বাইরে খাস জমি পেলে ওই জমিটিকে নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করবো। তখন মীরগঞ্জ ডাম্পিং গ্রাউন্ডটকে আমরা ক্লোজ করে দেবো।’

আপনার মতামত লিখুন