শেরপুর     শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন থামাতে জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ চাইলো ইরান



যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন থামাতে জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ চাইলো ইরান
সংগৃহিত ছবি

ইরান জাতিসংঘকে সতর্ক করে বলেছে, তাদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত বিমান হামলা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ‘আসন্ন গুরুতর হুমকি’ সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে এ হামলা অবিলম্বে বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।


জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমোজগান প্রদেশজুড়ে সেতু, রেলস্টেশন ও আবাসিক এলাকায় ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, এসব হামলা জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের হুমকির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার পরিপন্থী।

ইরাভানির দাবি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত চালানো হামলায় বান্দার আব্বাস–লার এবং কাহুরেস্তান–বান্দার খামির সড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস হয়। একটি সেতুতে হামলার পর একটি বেসামরিক গাড়ি সেতু থেকে নিচে পড়ে গেলে সাতজন নিহত এবং নয়জন আহত হন।

এছাড়া বান্দার আব্বাসের একটি আবাসিক এলাকায় হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

ইরান আরও অভিযোগ করে, আন্তর্জাতিক নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোরের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বান্দার আব্বাস রেলস্টেশনেও সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে। এতে স্টেশনের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুই রেলকর্মী আহত হয়েছেন। হামলার কারণে ওই রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে ৪৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন নারী ও একজন শিশু রয়েছে। আহতদের মধ্যে ২২ জন নারী ও ৯ জন শিশু রয়েছে এবং ৪৭ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে ইরাভানি জানান, চলতি জুলাইয়ের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আহতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে।

রাষ্ট্রদূত ইরাভানি অভিযোগ করেন, বেসামরিক স্থাপনা, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন অবকাঠামো ও রেল নেটওয়ার্কে ধারাবাহিক হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। তিনি বলেন, প্রাণহানি, আহত, অবকাঠামো ধ্বংস, পরিবেশগত ক্ষতি এবং এর সব পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিকভাবে সম্পূর্ণ দায়ী।

তিনি আরও সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক শান্তি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার জন্য ‘গুরুতর ও আসন্ন হুমকি’ সৃষ্টি করছে।

নিরাপত্তা পরিষদকে জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে ইরাভানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কথিত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

চিঠির শেষে তিনি বলেন, জাতিসংঘ যদি কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জনগণ এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার ইরান সংরক্ষণ করে।

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন থামাতে জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ চাইলো ইরান

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

ইরান জাতিসংঘকে সতর্ক করে বলেছে, তাদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত বিমান হামলা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ‘আসন্ন গুরুতর হুমকি’ সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে এ হামলা অবিলম্বে বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।


জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমোজগান প্রদেশজুড়ে সেতু, রেলস্টেশন ও আবাসিক এলাকায় ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, এসব হামলা জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের হুমকির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার পরিপন্থী।

ইরাভানির দাবি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত চালানো হামলায় বান্দার আব্বাস–লার এবং কাহুরেস্তান–বান্দার খামির সড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস হয়। একটি সেতুতে হামলার পর একটি বেসামরিক গাড়ি সেতু থেকে নিচে পড়ে গেলে সাতজন নিহত এবং নয়জন আহত হন।

এছাড়া বান্দার আব্বাসের একটি আবাসিক এলাকায় হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

ইরান আরও অভিযোগ করে, আন্তর্জাতিক নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোরের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বান্দার আব্বাস রেলস্টেশনেও সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে। এতে স্টেশনের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুই রেলকর্মী আহত হয়েছেন। হামলার কারণে ওই রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে ৪৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন নারী ও একজন শিশু রয়েছে। আহতদের মধ্যে ২২ জন নারী ও ৯ জন শিশু রয়েছে এবং ৪৭ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে ইরাভানি জানান, চলতি জুলাইয়ের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আহতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে।

রাষ্ট্রদূত ইরাভানি অভিযোগ করেন, বেসামরিক স্থাপনা, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন অবকাঠামো ও রেল নেটওয়ার্কে ধারাবাহিক হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। তিনি বলেন, প্রাণহানি, আহত, অবকাঠামো ধ্বংস, পরিবেশগত ক্ষতি এবং এর সব পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিকভাবে সম্পূর্ণ দায়ী।

তিনি আরও সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক শান্তি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার জন্য ‘গুরুতর ও আসন্ন হুমকি’ সৃষ্টি করছে।

নিরাপত্তা পরিষদকে জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে ইরাভানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কথিত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

চিঠির শেষে তিনি বলেন, জাতিসংঘ যদি কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জনগণ এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার ইরান সংরক্ষণ করে।


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত