শেরপুর     বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
 ‍SherpurTimes24

ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই: মির্জা ফখরুল



ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই: মির্জা ফখরুল
সংগৃহিত ছবি

দেশে নতুন বিভাজনের রাজনীতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসলাম ধর্মের জনসংখ্যা বেশি হলেও এ দেশে সবার সমান গুরুত্ব। ইসলাম ব্যতীত অন্য সব ধর্মের মানুষকে খাটো করার সুযোগ নেই।


আজ বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার এসোসিয়েশন’ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ। বিএনপি ও জামায়াত বলে কেউ সুবিধা পাবে না। জনগণের ভালোবাসা দিয়ে নির্বাচিত হতে হবে। সত্যিকারার্থে গণতন্ত্রের ভিত্তিই অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান-মেম্বরদের নিয়ে জাতীয় সংগঠন করা হবে। এডহক কমিটি করবেন আপনারা। আপনাদের সংগঠনের সেই কাউন্সিলে প্রধানমন্ত্রী আসবেন।’

তিনি বলেন, আমাদের ছোট  দেশ। কিন্তু সমস্যা অনেক। সীমিত সম্পদ দিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরনে কাজ শুরু করেছে সরকার। নির্বাচনের আগে দল গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় দেশ গঠনের কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আগে দল গুছিয়েছি, সরকার গঠন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কাজ  শুরু করেছেন, এ বছরের মধ্যে ৪১ লক্ষ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড সুবিধার আওতায় আনা হবে।  কৃষক কার্ড চালু করা, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষক ঋণ মওকুফ  করেছেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতার ব্যবস্থা করেছেন, খাল খনন শুরু করেছেন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই কাজগুলো জনগণের, তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের উপকারের কাজ, জনগণের স্বস্তির জন্য। আমাদের প্রস্তাব আছে এসব উন্নয়নমূলক কাজে তৃনমূল জনপ্রতিনিধিদের, তৃণমূল নেতাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। সেটির কাজও শুরু  হয়েছে। প্রতিটি উন্নয়নের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হবে। এটি বেশি প্রয়োজন, না হলে শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি হয় না।’

তিনি বলেন, শুধু ইউএনও, সরকরি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে শক্তিশালী উন্নয়ন সম্ভব না। চেয়ারম্যান-মেম্বারদেরও ক্ষমতায়ন করতে হবে। তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ সঠিক নেতৃত্বের পথ বেছে নেয়। তৃণমূল নেতারাই দেশকে সবচেয়ে ভালো চিনে। 

এসময় ধর্মীয় বিভাজনের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের সমস্য অনেক। সম্পদ সীমিত। আমাদের মধ্যে নতুন বিভাজনের রাজনীতি করার চেষ্টা হচ্ছে। ধর্মের নামে বিভাজনের চেষ্টা চলছে। আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ কিন্তু অন্য ধর্মকে খাটো করা যাবে না। অন্য সব ধর্মকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্র সবার। আপনি চেয়ারম্যান হলে পূজায় যান, ঈদে উৎসবে অংশ নেন, সুতরাং বিভাজন চলবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অনেক ক্ষতি করেছে, আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র একসাথে যায় না। ৭১ এর পর থেকে ২৪ পর্যন্ত তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছেন, তখনই গণতন্ত্রের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছেন। জনগণের প্রতিনিধিদের অন্যায় প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে বরখাস্ত করা যেন না হয় সেভাবেই আইন পাস করার চেষ্টা আছে। চেয়ারম্যান-মেম্বরদের যে ভাতা দেওয়া হয়, তা অতি সামান্য, তদের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

 ‍SherpurTimes24

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই: মির্জা ফখরুল

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশে নতুন বিভাজনের রাজনীতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসলাম ধর্মের জনসংখ্যা বেশি হলেও এ দেশে সবার সমান গুরুত্ব। ইসলাম ব্যতীত অন্য সব ধর্মের মানুষকে খাটো করার সুযোগ নেই।


আজ বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার এসোসিয়েশন’ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ। বিএনপি ও জামায়াত বলে কেউ সুবিধা পাবে না। জনগণের ভালোবাসা দিয়ে নির্বাচিত হতে হবে। সত্যিকারার্থে গণতন্ত্রের ভিত্তিই অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান-মেম্বরদের নিয়ে জাতীয় সংগঠন করা হবে। এডহক কমিটি করবেন আপনারা। আপনাদের সংগঠনের সেই কাউন্সিলে প্রধানমন্ত্রী আসবেন।’

তিনি বলেন, আমাদের ছোট  দেশ। কিন্তু সমস্যা অনেক। সীমিত সম্পদ দিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরনে কাজ শুরু করেছে সরকার। নির্বাচনের আগে দল গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় দেশ গঠনের কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আগে দল গুছিয়েছি, সরকার গঠন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কাজ  শুরু করেছেন, এ বছরের মধ্যে ৪১ লক্ষ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড সুবিধার আওতায় আনা হবে।  কৃষক কার্ড চালু করা, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষক ঋণ মওকুফ  করেছেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতার ব্যবস্থা করেছেন, খাল খনন শুরু করেছেন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই কাজগুলো জনগণের, তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের উপকারের কাজ, জনগণের স্বস্তির জন্য। আমাদের প্রস্তাব আছে এসব উন্নয়নমূলক কাজে তৃনমূল জনপ্রতিনিধিদের, তৃণমূল নেতাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। সেটির কাজও শুরু  হয়েছে। প্রতিটি উন্নয়নের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হবে। এটি বেশি প্রয়োজন, না হলে শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি হয় না।’

তিনি বলেন, শুধু ইউএনও, সরকরি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে শক্তিশালী উন্নয়ন সম্ভব না। চেয়ারম্যান-মেম্বারদেরও ক্ষমতায়ন করতে হবে। তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ সঠিক নেতৃত্বের পথ বেছে নেয়। তৃণমূল নেতারাই দেশকে সবচেয়ে ভালো চিনে। 

এসময় ধর্মীয় বিভাজনের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের সমস্য অনেক। সম্পদ সীমিত। আমাদের মধ্যে নতুন বিভাজনের রাজনীতি করার চেষ্টা হচ্ছে। ধর্মের নামে বিভাজনের চেষ্টা চলছে। আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ কিন্তু অন্য ধর্মকে খাটো করা যাবে না। অন্য সব ধর্মকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্র সবার। আপনি চেয়ারম্যান হলে পূজায় যান, ঈদে উৎসবে অংশ নেন, সুতরাং বিভাজন চলবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অনেক ক্ষতি করেছে, আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র একসাথে যায় না। ৭১ এর পর থেকে ২৪ পর্যন্ত তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছেন, তখনই গণতন্ত্রের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছেন। জনগণের প্রতিনিধিদের অন্যায় প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে বরখাস্ত করা যেন না হয় সেভাবেই আইন পাস করার চেষ্টা আছে। চেয়ারম্যান-মেম্বরদের যে ভাতা দেওয়া হয়, তা অতি সামান্য, তদের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’


 ‍SherpurTimes24


কপিরাইট © ২০২৬ ‍SherpurTimes24 । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত