চুলায় আগুন নেই, হাঁড়িতে ভাত নেই। রান্নাঘরের নিস্তব্ধ চুলার সামনে অসহায় হয়ে বসে আছেন গৃহিণীরা। কেউ মুড়ি-চিড়া কিংবা শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন, আবার কেউ লাকড়ির চুলায় কোনো রকমে রান্না করে পরিবারের ক্ষুধা মেটাচ্ছেন। শুধু রান্নাবান্নাই নয়, গ্যাসচালিত যানবাহন বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরাও। এরই মধ্যে বিকল্প জ্বালানির সংকট ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
এভাবেই টানা প্রায় ৬২ ঘণ্টা ধরে গ্যাসহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শেরপুর জেলার বাসিন্দারা। গত বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ১০টা থেকে জেলার আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পেরিয়ে গেলেও স্বাভাবিক হয়নি পরিস্থিতি। কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার রাত থেকে হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন গৃহিণীরা। গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোতে রান্নাবান্না প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। কেউ কেউ মাটির বা লাকড়ির চুলা ব্যবহার করে কোনোভাবে রান্নার ব্যবস্থা করছেন। তবে শহর এলাকায় হঠাৎ করে বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করাও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
শেরপুর শহরের চাপাতলি এলাকার বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, গ্যাস না থাকায় বাসায় রান্নাবান্না হয় না। তাই বাড়তি দামে দুদিন ধরে হোটেলে খাচ্ছি। জানি না কবে গ্যাস আসবে। অন্তত দিনে দুই ঘণ্টা হলেও গ্যাস দেওয়া উচিত, যাতে জরুরি গৃহস্থালি কাজগুলো করা যায়।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। জেলার একমাত্র সিএনজি স্টেশনটিতে গ্যাস না থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে আন্তঃসড়ক ও লোকাল রুটে পরিবহন সংকট তৈরি হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
সিএনজি চালক আক্তার হোসেন বলেন, গ্যাস না থাকলে আমরা কেমনে সিএনজি চালাব? এটা চালিয়েই আমাদের সংসার চলে। কয়েকদিন ধরে গ্যাস একদমই নেই। আমরা দিন আনি দিন খাই। সিএনজি চালাতে না পারলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্যাসের সরবরাহ চালু হোক।
তিতাস গ্যাসের শেরপুর জেলার ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. বদরুজ্জামান গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত ১২ আগস্ট বুধবার রাত ১০টা থেকে শেরপুরে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। মাতারবাড়ী ও মহেশখালী অঞ্চলের এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও পাঁচ থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে।
তিতাস গ্যাসের তথ্য অনুযায়ী, শেরপুরে প্রায় ৪ হাজার আবাসিক গ্রাহক ও ২২টি বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ রয়েছে। এ ছাড়া জেলায় একটি সিএনজিচালিত পাম্প রয়েছে। জেলার মাসিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২৭ থেকে ৩২ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে গ্যাসের চাপ থাকে ২০ থেকে ২২ পিএসআই। শেরপুরে গ্যাসের সরবরাহ মূলত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মাতারবাড়ী অঞ্চল থেকে হয়ে থাকে।
এদিকে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মিডিয়া ও জনসংযোগ শাখার জনসংযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. আল আমিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, গ্যাস সরবরাহের জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। আমাদের সব পাইপলাইন ঠিক আছে। কিন্তু আমরা পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছি না বলে সম্মানিত গ্রাহকদের গ্যাস দিতে পারছি না। এটি একটি জাতীয় সমস্যা। খুব শিগগিরই এর সমাধান হবে। যেহেতু এটি জাতীয় সমস্যা, তাই নির্দিষ্ট করে সময় বলা সম্ভব নয়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক ঢাকা পোস্টকে বলেন, শেরপুর জেলায় একেবারে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এ বিষয়টি আমাদের জানা নেই। দেশের গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি তিতাস গ্যাস ভালোভাবে বলতে পারবে। তবে এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি সমস্যা এবং খুব শিগগিরই এর সমাধান হবে।
তিনি বলেন,কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে অবস্থিত সামিট এলএনজি টার্মিনাল বা ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) থেকে পুনরায় জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গতকাল সন্ধ্যা কিছুটা সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে গ্যাস সংকটেরও সমাধান হবে। শেরপুরে গত দুই-তিন দিন ধরে গ্যাস পুরোপুরি বন্ধ থাকার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করে দেখব।
এদিকে টানা গ্যাস সংকটে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তাঁদের প্রশ্ন, সাময়িক সংকটের কথা বলা হলেও যদি তা টানা ৬২ ঘণ্টা স্থায়ী হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়?
গ্যাসের অপেক্ষায় শেরপুরের মানুষের প্রতিটি সকাল, দুপুর ও রাত পার হচ্ছে। রান্নাঘরের চুলায় আগুন জ্বলার অপেক্ষায় রয়েছে অসংখ্য পরিবার। অন্যদিকে গ্যাসের অভাবে সিএনজিচালিত যানবাহন চলাচলে সংকট তৈরি হওয়ায় বাড়ছে যাত্রীদের ভোগান্তিও। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
চুলায় আগুন নেই, হাঁড়িতে ভাত নেই। রান্নাঘরের নিস্তব্ধ চুলার সামনে অসহায় হয়ে বসে আছেন গৃহিণীরা। কেউ মুড়ি-চিড়া কিংবা শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন, আবার কেউ লাকড়ির চুলায় কোনো রকমে রান্না করে পরিবারের ক্ষুধা মেটাচ্ছেন। শুধু রান্নাবান্নাই নয়, গ্যাসচালিত যানবাহন বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরাও। এরই মধ্যে বিকল্প জ্বালানির সংকট ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
এভাবেই টানা প্রায় ৬২ ঘণ্টা ধরে গ্যাসহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শেরপুর জেলার বাসিন্দারা। গত বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ১০টা থেকে জেলার আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পেরিয়ে গেলেও স্বাভাবিক হয়নি পরিস্থিতি। কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার রাত থেকে হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন গৃহিণীরা। গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোতে রান্নাবান্না প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। কেউ কেউ মাটির বা লাকড়ির চুলা ব্যবহার করে কোনোভাবে রান্নার ব্যবস্থা করছেন। তবে শহর এলাকায় হঠাৎ করে বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করাও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
শেরপুর শহরের চাপাতলি এলাকার বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, গ্যাস না থাকায় বাসায় রান্নাবান্না হয় না। তাই বাড়তি দামে দুদিন ধরে হোটেলে খাচ্ছি। জানি না কবে গ্যাস আসবে। অন্তত দিনে দুই ঘণ্টা হলেও গ্যাস দেওয়া উচিত, যাতে জরুরি গৃহস্থালি কাজগুলো করা যায়।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। জেলার একমাত্র সিএনজি স্টেশনটিতে গ্যাস না থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে আন্তঃসড়ক ও লোকাল রুটে পরিবহন সংকট তৈরি হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
সিএনজি চালক আক্তার হোসেন বলেন, গ্যাস না থাকলে আমরা কেমনে সিএনজি চালাব? এটা চালিয়েই আমাদের সংসার চলে। কয়েকদিন ধরে গ্যাস একদমই নেই। আমরা দিন আনি দিন খাই। সিএনজি চালাতে না পারলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্যাসের সরবরাহ চালু হোক।
তিতাস গ্যাসের শেরপুর জেলার ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. বদরুজ্জামান গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত ১২ আগস্ট বুধবার রাত ১০টা থেকে শেরপুরে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। মাতারবাড়ী ও মহেশখালী অঞ্চলের এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও পাঁচ থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে।
তিতাস গ্যাসের তথ্য অনুযায়ী, শেরপুরে প্রায় ৪ হাজার আবাসিক গ্রাহক ও ২২টি বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ রয়েছে। এ ছাড়া জেলায় একটি সিএনজিচালিত পাম্প রয়েছে। জেলার মাসিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২৭ থেকে ৩২ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে গ্যাসের চাপ থাকে ২০ থেকে ২২ পিএসআই। শেরপুরে গ্যাসের সরবরাহ মূলত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মাতারবাড়ী অঞ্চল থেকে হয়ে থাকে।
এদিকে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মিডিয়া ও জনসংযোগ শাখার জনসংযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. আল আমিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, গ্যাস সরবরাহের জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। আমাদের সব পাইপলাইন ঠিক আছে। কিন্তু আমরা পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছি না বলে সম্মানিত গ্রাহকদের গ্যাস দিতে পারছি না। এটি একটি জাতীয় সমস্যা। খুব শিগগিরই এর সমাধান হবে। যেহেতু এটি জাতীয় সমস্যা, তাই নির্দিষ্ট করে সময় বলা সম্ভব নয়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক ঢাকা পোস্টকে বলেন, শেরপুর জেলায় একেবারে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এ বিষয়টি আমাদের জানা নেই। দেশের গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি তিতাস গ্যাস ভালোভাবে বলতে পারবে। তবে এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি সমস্যা এবং খুব শিগগিরই এর সমাধান হবে।
তিনি বলেন,কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে অবস্থিত সামিট এলএনজি টার্মিনাল বা ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) থেকে পুনরায় জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গতকাল সন্ধ্যা কিছুটা সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে গ্যাস সংকটেরও সমাধান হবে। শেরপুরে গত দুই-তিন দিন ধরে গ্যাস পুরোপুরি বন্ধ থাকার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করে দেখব।
এদিকে টানা গ্যাস সংকটে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তাঁদের প্রশ্ন, সাময়িক সংকটের কথা বলা হলেও যদি তা টানা ৬২ ঘণ্টা স্থায়ী হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়?
গ্যাসের অপেক্ষায় শেরপুরের মানুষের প্রতিটি সকাল, দুপুর ও রাত পার হচ্ছে। রান্নাঘরের চুলায় আগুন জ্বলার অপেক্ষায় রয়েছে অসংখ্য পরিবার। অন্যদিকে গ্যাসের অভাবে সিএনজিচালিত যানবাহন চলাচলে সংকট তৈরি হওয়ায় বাড়ছে যাত্রীদের ভোগান্তিও। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন