শেরপুর টাইমসে প্রকাশিত "একসময়ের শিক্ষক, কোরআনের ক্বারি ও ইমাম, এখন ভাঙা ঘরে দিন কাটে অভাবে" শিরোনামের মানবিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর শেরপুরের প্রবীণ শিক্ষক ও ক্বারি শামছুল হকের জীবনে এসেছে আশার আলো। তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তিনি পেয়েছেন একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। পাশাপাশি রক্ত সৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে নতুন বসতঘর এবং পুনরায় চালু হয়েছে তাদের বয়স্ক ভাতা।
বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শেরপুর সদর উপজেলার ধলা ইউনিয়নের চাঁন্দেরনগর মুসলিমপাড়ায় তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ক্বারি শামছুল হক ও তার স্ত্রী রেজিয়া বেগমের হাতে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তুলে দেওয়া হয়। সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল বদিউজ্জামান মাহফুজ আনুষ্ঠানিকভাবে অটোরিকশার চাবি হস্তান্তর করেন।
আয়োজকরা জানান, অটোরিকশাটি ভাড়ায় পরিচালনার মাধ্যমে প্রবীণ এই দম্পতির জন্য নিয়মিত আয়ের একটি ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বাবলম্বী জীবনযাপনের সুযোগ পাবেন।
একই দিন রাতে জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন তাদের বাড়িতে গিয়ে নবনির্মিত ঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেন। রক্ত সৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ঘরটি পাওয়ায় দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এ সময় ধলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, ৫ নম্বর ধলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. জয়নাল আবেদিন সরকার, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ফুরকান আলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বেলায়েত হোসেন, রক্ত সৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আল আমিন রাজু, শেরপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শামীম, সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম, শিক্ষক মিনহাজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অটোরিকশা ও নতুন ঘর হস্তান্তরকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন মানবেতর জীবনযাপন করা এই দম্পতির জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হওয়ায় তারা এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর টাইমসে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং বন্ধ থাকা বয়স্ক ভাতা পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করা হয়।
রক্ত সৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আল আমিন রাজু জানান, শেরপুর টাইমসে সংবাদ প্রকাশের পর সংগঠনের সদস্য এ. এম. আব্দুল ওয়াদুদ ও হাফিজের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন তারা। এরপর সংগঠনের উদ্যোগে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ঘরের চাল ও মাটি কাটার কাজ শেষ হওয়ার পর জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন বিষয়টি জানতে পেরে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে অবশিষ্ট নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন।
উল্লেখ্য, শেরপুর টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে, ৮৮ বছর বয়সী শামছুল হক ক্বারি কোহাকান্দা এম. আর. দাখিল মাদরাসায় টানা ৩৫ বছর শিক্ষকতা করেছেন এবং দীর্ঘদিন স্থানীয় মসজিদে ইমামতি করেছেন। অথচ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস, অনিয়মিত খাবার এবং চরম অর্থকষ্টে দিন কাটছিল তার ও তার ৭৫ বছর বয়সী স্ত্রী রেজিয়া বেগমের।
মানবিক সেই প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে প্রবীণ এই দম্পতির জীবনে যে পরিবর্তন এসেছে, সেটিকে মানবিক সাংবাদিকতার একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬
শেরপুর টাইমসে প্রকাশিত "একসময়ের শিক্ষক, কোরআনের ক্বারি ও ইমাম, এখন ভাঙা ঘরে দিন কাটে অভাবে" শিরোনামের মানবিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর শেরপুরের প্রবীণ শিক্ষক ও ক্বারি শামছুল হকের জীবনে এসেছে আশার আলো। তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তিনি পেয়েছেন একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। পাশাপাশি রক্ত সৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে নতুন বসতঘর এবং পুনরায় চালু হয়েছে তাদের বয়স্ক ভাতা।
বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শেরপুর সদর উপজেলার ধলা ইউনিয়নের চাঁন্দেরনগর মুসলিমপাড়ায় তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ক্বারি শামছুল হক ও তার স্ত্রী রেজিয়া বেগমের হাতে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তুলে দেওয়া হয়। সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল বদিউজ্জামান মাহফুজ আনুষ্ঠানিকভাবে অটোরিকশার চাবি হস্তান্তর করেন।
আয়োজকরা জানান, অটোরিকশাটি ভাড়ায় পরিচালনার মাধ্যমে প্রবীণ এই দম্পতির জন্য নিয়মিত আয়ের একটি ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বাবলম্বী জীবনযাপনের সুযোগ পাবেন।
একই দিন রাতে জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন তাদের বাড়িতে গিয়ে নবনির্মিত ঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেন। রক্ত সৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ঘরটি পাওয়ায় দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এ সময় ধলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, ৫ নম্বর ধলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. জয়নাল আবেদিন সরকার, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ফুরকান আলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বেলায়েত হোসেন, রক্ত সৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আল আমিন রাজু, শেরপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শামীম, সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম, শিক্ষক মিনহাজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অটোরিকশা ও নতুন ঘর হস্তান্তরকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন মানবেতর জীবনযাপন করা এই দম্পতির জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হওয়ায় তারা এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর টাইমসে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং বন্ধ থাকা বয়স্ক ভাতা পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করা হয়।
রক্ত সৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আল আমিন রাজু জানান, শেরপুর টাইমসে সংবাদ প্রকাশের পর সংগঠনের সদস্য এ. এম. আব্দুল ওয়াদুদ ও হাফিজের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন তারা। এরপর সংগঠনের উদ্যোগে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ঘরের চাল ও মাটি কাটার কাজ শেষ হওয়ার পর জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন বিষয়টি জানতে পেরে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে অবশিষ্ট নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন।
উল্লেখ্য, শেরপুর টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে, ৮৮ বছর বয়সী শামছুল হক ক্বারি কোহাকান্দা এম. আর. দাখিল মাদরাসায় টানা ৩৫ বছর শিক্ষকতা করেছেন এবং দীর্ঘদিন স্থানীয় মসজিদে ইমামতি করেছেন। অথচ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস, অনিয়মিত খাবার এবং চরম অর্থকষ্টে দিন কাটছিল তার ও তার ৭৫ বছর বয়সী স্ত্রী রেজিয়া বেগমের।
মানবিক সেই প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে প্রবীণ এই দম্পতির জীবনে যে পরিবর্তন এসেছে, সেটিকে মানবিক সাংবাদিকতার একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন