কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের নামপরিচয় জানা গেছে। নিহতরা হলেন, রাজধানীর বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী (জেরিফ) (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও শিশু ফায়িজান আহম্মেদ (৫)।
নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের স্বজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদ সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মারা যাওয়ারদের মধ্যে পাঁচজন আমার কাজিন ও ৫ বছর বযসী ভাগনি রয়েছে। এছাড়া আমার মামা মাসুদ ও মামী মেহেরুন্নেসা বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আহাদ সরকার লিখেছেন, কক্সবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রথমে তার পরিবারের ছয় সদস্যের মৃত্যুর খবর পান। পরে আরও একজনের মৃত্যুর খবর আসে।
পোস্টে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন আহাদ সরকার। একই সঙ্গে তাদের জান্নাতুল ফেরদাউস নসিবের জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, এ ধরনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শোকাহত।
উপাচার্য নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ চিহ্নিত করে দায়ীদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিহত পরিবারের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।
এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কথা বলে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নাফিজ তেহামীসহ তার পরিবারের ছয় সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।
এক শোকবার্তায় সাদিক কায়েম বলেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমরা পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত।
তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে মোট ১০ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আরও কয়েকজন। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকায় কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের নামপরিচয় জানা গেছে। নিহতরা হলেন, রাজধানীর বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী (জেরিফ) (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও শিশু ফায়িজান আহম্মেদ (৫)।
নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের স্বজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদ সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মারা যাওয়ারদের মধ্যে পাঁচজন আমার কাজিন ও ৫ বছর বযসী ভাগনি রয়েছে। এছাড়া আমার মামা মাসুদ ও মামী মেহেরুন্নেসা বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আহাদ সরকার লিখেছেন, কক্সবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রথমে তার পরিবারের ছয় সদস্যের মৃত্যুর খবর পান। পরে আরও একজনের মৃত্যুর খবর আসে।
পোস্টে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন আহাদ সরকার। একই সঙ্গে তাদের জান্নাতুল ফেরদাউস নসিবের জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, এ ধরনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শোকাহত।
উপাচার্য নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ চিহ্নিত করে দায়ীদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিহত পরিবারের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।
এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কথা বলে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নাফিজ তেহামীসহ তার পরিবারের ছয় সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।
এক শোকবার্তায় সাদিক কায়েম বলেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমরা পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত।
তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে মোট ১০ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আরও কয়েকজন। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকায় কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন